বুধবার ● ২২ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » বিশেষ » হাওরপাড়ে সুরের ডানা: (প্রস্তাবিত) বাউল সম্রাটের নামে নির্মিত হচ্ছে ‘শাহ আব্দুল করিম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’
হাওরপাড়ে সুরের ডানা: (প্রস্তাবিত) বাউল সম্রাটের নামে নির্মিত হচ্ছে ‘শাহ আব্দুল করিম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর’
“বিশেষ প্রতিবেদন | সরাসরি সুনামগঞ্জ থেকে, তারিখ: ২২ এপ্রিল, ২০২৬”
নিজস্ব প্রতিবেদক, সুনামগঞ্জ ::
![]()
সুনামগঞ্জের আকাশজুড়ে এখন শুধু মেঘের ভেলা নয়, উড়বে যান্ত্রিক পাখি। তবে সেই পাখির ডানায় থাকবে বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের একতারার সুর। কালনী নদীর তীরে, দিগন্তজোড়া হাওরের কোলে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে দেশের অন্যতম নান্দনিক স্থাপত্য— শাহ আব্দুল করিম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (SAKIA)।
সম্প্রতি উন্মোচিত হয়েছে এই বিমানবন্দরের খসড়া নকশা বা স্কেচ। যা দেখে স্থপতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ—সবাই অভিভূত। এটি কেবল একটি বিমানবন্দর নয়, বরং বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির এক জীবন্ত মিউজিয়াম হতে যাচ্ছে।
একতারার আদলে টার্মিনাল ভবন
প্রকাশিত নকশায় দেখা যায়, বিমানবন্দরের মূল টার্মিনাল ভবনটি ওপর থেকে দেখলে একটি বিশাল ‘একতারা’-র মতো দেখাবে। ছাদের নকশা করা হয়েছে কালনী নদীর ঢেউয়ের আদলে, যা আধুনিক স্থাপত্যশৈলী আর স্থানীয় ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। ভবনের কাঁচের দেয়ালে খোদাই করা হয়েছে শাহ আব্দুল করিমের বিখ্যাত গানের পঙক্তিগুলো, যা বিদেশের মাটিতে পা রাখার আগেই পর্যটকদের পরিচয় করিয়ে দেবে মাটির সুরের সাথে।
‘গ্রামের নওজোয়ান’ ও বাউল সম্রাট চত্বর
বিমানবন্দরের প্রবেশপথেই যাত্রীদের স্বাগত জানাবে ‘বাউল সম্রাট চত্বর’। সেখানে বাউল সম্রাটের একটি বিশাল ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে তিনি একতারা হাতে গান গাইছেন। পুরো চত্বরটি সাজানো হয়েছে সুনামগঞ্জের বিখ্যাত হিজল ও করচ গাছের সারি দিয়ে।
পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর ‘গ্রিন এয়ারপোর্ট’
হাওর অঞ্চলের সংবেদনশীল প্রকৃতি বিবেচনা করে এটি নির্মিত হচ্ছে সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব উপায়ে।
ফ্লোটিং রানওয়ে: বন্যাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় রানওয়েটি বিশেষভাবে উঁচু (Elevated) করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে বর্ষাকালে রানওয়ের চারপাশ পানিতে টইটম্বুর থাকলেও বিমান চলাচলে কোনো বিঘ্ন না ঘটে।
সৌরবিদ্যুৎ: বিমানবন্দরের ছাদে স্থাপিত বিশাল সোলার প্যানেল গ্রিড পুরো স্থাপনার বিদ্যুতের সিংহভাগ যোগান দেবে।
অর্থনীতি ও পর্যটনে নতুন দিগন্ত
সুনামগঞ্জের এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি চালু হলে ভারতের সেভেন সিস্টার্স খ্যাত রাজ্যগুলোর সাথে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সহজ হবে। এছাড়া টাঙ্গুয়ার হাওর দেখতে আসা বিদেশি পর্যটকরা সরাসরি ঢাকা না হয়েই সুনামগঞ্জে নামতে পারবেন। স্থানীয় মৎস্য শিল্প ও কৃষিপণ্য সরাসরি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি হবে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া: উচ্ছ্বসিত এলাকাবাসী বলছেন, “আগে আমরা গাইতাম ‘আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম’, আর এখন শাহ আব্দুল করিমের নাম ধরে আমরা বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখছি। এই বিমানবন্দর আমাদের সুনামগঞ্জকে সারা বিশ্বের কাছে নতুন করে চিনিয়ে দেবে।”
সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে জানানো হয়েছে, দ্রুতই এই প্রকল্পের চূড়ান্ত নির্মাণকাজ শুরু হবে। বাউল সম্রাটের স্মৃতিধন্য এই বিমানবন্দরটি হবে ডিজিটাল বাংলাদেশের এক নতুন সাংস্কৃতিক ল্যান্ডমার্ক।
[চিত্র: শাহ আব্দুল করিম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের খসড়া নকশা—যাতে একতারা আকৃতির টার্মিনাল এবং হাওরের নীল জলরাশির আবহ ফুটে উঠেছে।]
বজ্রকণ্ঠ ডেস্ক: সুরের টানে, উন্নয়নের পানে—শাহ আব্দুল করিম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হোক আমাদের জাতীয় গর্ব।
বিষয়: #আন্তর্জাতিক #আব্দুল #করিম #ডানা #নাম #নির্মিত #প্রস্তাবিত #বাউল #বিমানবন্দর #শাহ #সম্রাট #সুরে #হচ্ছে #হাওরপাড়










স্মার্টফোনের দুনিয়ায় বিপ্লব: আসছে অ্যাপলের প্রথম ফোল্ডেবল ‘আইফোন আল্ট্রা’
মতিয়ার চৌধুরীর “নবীগঞ্জের ইতিকথা : আঞ্চলিক ইতিহাস, স্মৃতি ও পরিচয়ের বহুমাত্রিক পাঠ”
প্রতিটি গুম-খুনের বিচার চাই: ন্যায়ের শাসন না থাকলে ‘রাষ্ট্র’ নয়, সেটা ‘মগের মুল্লুক’
শর্ষে ভাত রাঁধবেন যেভাবে
জীবনের শেষ ঠিকানা
ঢাকাসহ ৪ সিটিতে হামের টিকা দেয়া হবে আজ
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি নারী শিক্ষার্থীদের ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘উইমেন ইন স্টেম’ বৃত্তির অনন্য সুযোগ
সন্তান বাবার কাছ থেকে যে ৬টি গুণ বা বৈশিষ্ট্য পায়
নিজেকে দিয়েছি ধিক্কার: এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না 