রবিবার ● ২২ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » দেশব্যাপী সংবাদ » আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে ডিসি ডেভিল ইলিয়াসের অপসারণের দাবী
আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে ডিসি ডেভিল ইলিয়াসের অপসারণের দাবী
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
![]()
টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের কৃষকদের নিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিযাস মিয়ার আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিনে মানববন্ধন করেছেন ক্ষুব্ধ কৃষক, জেলে ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (২১ মার্চ) বেলা ১১টায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওরপাড়ের লামাগাও বাজারে এ মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পবিত্র ঈদুল ফিতরের জামায়াত শেষে হাওরপারের বিভিন্ন গ্রাম থেকে শত শত কৃষক জেলে মানববন্ধনে এসে সমবেত হন।
মানববন্ধনে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দক্ষিন শ্রীপুর ইউনিয়নের গনমানুষের নেতা সাংবাদিক আইনজীবী মহসিন রেজা মানিক, টাংগুয়ার হাওর ব্যাবস্থাপনা কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি বজলুর রহমান, আবুল কালাম, কৃষক নেতা মোস্তাফিজুর রহমান খোকন, তারা মিয়া ও মার্জিল হোসেন প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,সুনামগঞ্জের ডিসি ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া একজন প্রথম শ্রেণির ডেভিল। ডেভিল মানে শয়তান। উনি শুধু তার কাজে কর্মের দ্বারাই নয় বরং বেফাস মন্তব্য করেও মাঝে মাঝে শয়তানী করেন।
তারা বলেন,টাঙ্গুয়ার হাওর শুধুমাত্র একটি জলাভূমি নয়, এটি হাজারো কৃষক-জেলের জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন। সেখানে প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর রেকর্ডীয় আবাদি জমি রয়েছে। হাওরের অভ্যন্তরে ও তীরে অবস্থিত ৮৮ গ্রামের কৃষকসমাজ বংশানুক্রমে সেখানে বোরো ফসল উৎপাদন করে আসছেন।
২০০০ সালের ২০ জানুয়ারি টাংগুয়ার হাওরকে রামসার সাইট ঘোষণার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে বোরো আবাদকে নিয়ন্ত্রণ করা শুরু হয়। হাওর রক্ষা বাধের সরকারী বরাদ্ধ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। কৃষকের চাঁদার টাকায় চলে বাঁধ নির্মানের কাজ। কিন্তু বিগত ১৫ মার্চ নজরখালী বাধ ভেঙে টাংগুয়ার হাওরে পানি প্রবেশ করতে থাকে।
ঢলের পানিতে তলিয়ে যায় কৃষকের কাচা ধান। এই বিষয়টি মিডিয়ায় প্রচার হলে ১৮ মার্চ সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসন ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া নজরখালী বাধ পরিদর্শে যান।
সেখানে এক ভিডিও লাইভে টাংগুয়ার হাওরে রামসার কনভেনশন অনুযায়ী হিউম্যান ইন্টারভেনশন নিষিদ্ধ বলে উল্লেখ করেন এবং সেখানে চাষাবাদ না করার জন্য স্থানীয় কৃষকদের প্রতি আহবান জানান।
একদিকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে ফসল হারিয়ে নিঃস্ব হাওরপাড়ের মানুষ। অন্যদিকে কৃষকদের কষ্ট ও দুর্দশাকে উপেক্ষা করে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে দেওয়া জেলা প্রশাসকের এমন বেফাস বক্তব্য হাওরবাসীর হৃদয়ে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি করে।
বক্তারা আরও বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওর আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত একটি রামসার সাইট। এই হাওরের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার পাশাপাশি এখানকার মানুষের জীবন-জীবিকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু বাস্তবতা না বুঝে দেওয়া এমন বক্তব্য হাওরপাড়ের প্রান্তিক কৃষকদের প্রতি অবহেলারই বহিঃপ্রকাশ। মানববন্ধন থেকে অংশগ্রহণকারীরা জেলা প্রশাসকের এমন বক্তব্য প্রত্যাহার এবং হাওরপাড়ের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
উল্লেখ্য ২০২৪ইং সনের ১২ সেপ্টেম্বর ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার আকোটেরচর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের নতুন সাহেবেরচর গ্রামের এম.এ মালেক মিয়ার পুত্র ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন।
আওয়ামীলীগ ও শেখ পরিবারের ঘনিষ্ট লোক হিসেবে তিনি দাপটের সাথে ইতিপূর্বে সরকারের দায়িত্বশীল দপ্তরে প্রভাবশালী পদে দায়িত্ব পালন করেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি দিরাই শাল্লা আসনের একজন জামাত প্রার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের রুমমিট হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে সুনামগঞ্জে প্রভাব বিস্তার করেন।
একদল পোষ্য সাংবাদিককে জেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের পিআইসি ও মনিটরিং কাজে সম্পৃক্ত করে ৫শত পিআইসির জায়গায় ৭ শতাধিক পিআইসি বাস্তবায়নের নামে ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করে রাষ্ট্রের টাকা লুটতরাজ,জেলা শিল্পকলা একাডেমির বিভিন্ন পদে সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকসহ সরকারী কর্মচারীদেরকে প্রশিক্ষক পদে নিয়োগদান,পোষ্য সাংবাদিকদেরকে শিল্পকলার বিভিন্ন কমিটিতে প্রাধান্য দান,বিনা টেন্ডারে পোষ্য সাংবাদিকদেরকে ধারারগাঁও ডিসি পার্ক বন্দোবস্ত প্রদান,এলারফান্ড থেকে তদবীরবাজদের নামে উপঢৌকন প্রদান,জেলা পরিষদের তহবিল লুটতরাজ,বিভিন্ন হাওরে মাটি চুরী,ইজারা প্রদত্ত জলমহালের মৎস্যসম্পদ লুটতরাজের ঘটনায় আইন প্রয়োগ করা থেকে বিরত থাকা,চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদেরকে পৃষ্ঠপোষকতা প্রদানসহ ঐ ডিসির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন অনিয়ম দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ উঠেছে।
রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে,সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে ও সুনামগঞ্জ ট্রাফিক পয়েন্টে ইতিপূর্বে তার বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সুনামগঞ্জ ২ আসনের সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরী ঐ জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মহামান্য হাইকোর্টে দুটি আদালত অবমাননাসহ উক্ত জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
সচিবালয়ের ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক অভিযোগ থাকার পরও প্রতিবারই ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে বদলী ঠেকিয়ে বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।
মানববন্ধনকারীরা দুর্নীতিবাজ ও ডেভিল আখ্যা দিয়ে অবিলম্বে ঐ ডিসিকে সুনামগঞ্জ থেকে অপসারণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিষয়: #অপসারণ #আপত্তিক #ইলিয়াস #টাংগুয়ার #ডিসি #ডেভিল #দাবী #প্রতিবাদ #বক্তব্যে #মানববন্ধন #হাওর










পূর্বআকন্দপাড়া গ্রামের সখী’র অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্হ বাড়িঘর পরিদর্শন
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে দিয়ে কাগইল করুনা কান্ত উচ্চ বিদ্যালয় এর ৯৬ এসএসসি ব্যাচের ঈদ পূর্ণমিলনী ও মিলনমেলা
ছাতকে নেতাকর্মী ও জনতার সাথে মিজান চৌধুরীর ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়
নবগঠিত উদয়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ঈদ পূণর্মিলনী সভা সম্পন্ন
স্বাধীনতাবিরোধী স্লোগান মুছে ‘বিজয় বাংলাদেশ’ কর্মসূচি
রাণীনগরে পর্যটন এলাকায় দুই মাদক সেবির কারাদন্ড
মোংলায় অস্ত্র ও গুলিসহ বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক
সিলেট মহানগর জামায়াতের ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠান
রাণীনগরে পিতা-পুত্রকে কারাদন্ড
রাণীনগরে ঈদ আনন্দের ভটভটি উল্টে কিশোর নিহত,আহত-৮ 