শনিবার ● ২১ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » দেশব্যাপী সংবাদ » সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পিআইসি সিন্ডিকেটে পরিবর্তন : হাত বদল হলেও বন্ধ হয়নি ঘুষের লেনদেন
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে পিআইসি সিন্ডিকেটে পরিবর্তন : হাত বদল হলেও বন্ধ হয়নি ঘুষের লেনদেন
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
![]()
ব্যক্তি ও হাত বদল হলেও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় হাওড়ের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং সংস্কার সংক্রান্তে পিআইসি বাণিজ্য বন্ধ হয়নি।
অভিযোগ উঠেছে সর্বোচ্চ ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৭টি পিআইসি অনুমোদনের নামে অতিরিক্ত বরাদ্দ মঞ্জুর করতে গিয়ে প্রতিটি পিআইসি হতে আগাম ঘুষ গ্রহন করা হয়েছে।
অভিযোগের দায় থেকে আত্মরক্ষার লক্ষ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের নাজির এর কাছ থেকে ফাইলপত্র রাখা হয়েছে একই অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ আব্দুর রকিব পাঠানের হাতে।
জানা যায়, গত ৮ মার্চ দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার প্রিন্ট ও অনলাইন ভার্সনে “বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে ইউএনও সিন্ডিকেট,জগন্নাথপুরে হাওড়ের ফসল রক্ষায় বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ ৩৭টি প্রকল্পে অনিয়ম” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এতে উল্লেখ করা হয়,মোট ৩৭টি প্রকল্পের মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ নিয়ে ইউএনও ও তার কার্যালয়ের নাজিরের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। খোদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী শেখ ফরিদ শনিবার (৭ মার্চ) সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, ‘নিয়মানুযায়ী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধ নির্মাণ ও সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন কাবিটা কমিটির সদস্য সচিব। দাপ্তরিক সব কাজ এ পদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার করার কথা থাকলেও জগন্নাথপুর উপজেলায় এর ব্যত্যয় ঘটেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরকত উল্লাহ তিনি নিজে একাই সবকিছু করছেন। এমনকি পিআইসির চেকবই, চেক বিলি রেজিস্ট্রার ও কনডিনেন্সি ফাইল আমার কাছ থেকে নিয়ে ইউএনওর নাজির মিজানের কাছে রাখা হয়।
আমাকে কোণঠাসা করে আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন ইউএনও ও তার কার্যালয়ের লোকজন।’ অভিযোগ রয়েছে ১৫ নম্বর প্রকল্প থেকে ইউএনওর কথা বলে নাজির মিজান ৭০ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে প্রকল্প কমিটি অনুমোদন ও অতিরিক্ত টাকা বরাদ্দ দেন।
এ প্রকল্পে ২৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া এ প্রকল্পে পরপর দুটি বিল থেকে আরও আট হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। গণমাধ্যমের কাছে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মিন্টু মিয়া ও সদস্য সচিব হেলাল মিয়ার ঘুষ দেওয়ার ঘটনা স্বীকারের রেকর্ড রয়েছে।
তারা দুজন বলেন, প্রকল্প নিতে ৭০ হাজার টাকা ঘুষ লেনদেনের সময় ইউএনও কার্যালয়ের নাজির মিজানের সঙ্গে দুই কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। দুটি বিল নিতে আরও আট হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছেন বলেও তারা জানান।
গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ১ নম্বর পিআইসি নিয়ে। এ প্রকল্পে প্রথমে আলা মিয়াকে সভাপতি করা হয়। পরে এক লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে তাকে চাপ সৃষ্টি করে অব্যাহতি দিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ও সিদ্দিকুর রহমান নামে কমিটি দেওয়া হয়।
সিদ্দিকুর রহমান তিনটি প্রকল্প কমিটিতে সদস্য হিসাবে দায়িত্বে আছেন। তিনটি প্রকল্পে এক ব্যক্তি থাকা রহস্যজনক বলে মনে করছেন কৃষকরা। প্রকল্পগুলো হচ্ছে-১, ৩০ ও ৩১ নম্বর প্রকল্প। ৮ ও ১৪ নম্বর প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন লিলু মিয়া মেম্বার।
কাগজপত্রে এ দুই প্রকল্পে অন্যজন থাকলেও মাঠ পর্যায়ে তিনি রয়েছেন। জনশ্রæতি রয়েছে তাকে দুটি পিআইসি দিতে ছিলাউরা-হলদিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল ভূমিকা রাখেন।
পিআইসি কমিটি গঠন ও আর্থিক লেনদেনে ইউএনও কার্যালয়ের লোকজনের পাশাপাশি ওই ইউপি চেয়ারম্যানের নাম এসেছে। ওই চেয়ারম্যানের ইউএনওর সঙ্গে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।
চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি শহিদুল ইসলাম বকুল ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ নিয়ে ১২ নম্বর প্রকল্প কমিটি গঠন করেছেন। এমনকি তার ছেলে জুনায়েদ ইসলাম ৩নং প্রকল্পের সদস্য সচিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ওই প্রকল্পে ২৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এছাড়া ১১নং প্রকল্প কমিটি গঠনে তিনি ভূমিকা রাখেন। এ প্রকল্পের মাটির কাজ শনিবার পর্যন্ত শেষ হয়নি। ৮ ও ১৪নং প্রকল্প কমিটি গঠনে তিনি মধ্যস্থতা করেন। এ দুটি প্রকল্পে লিলু মিয়া মেম্বার দায়িত্ব পালন করলেও কাগজপত্রে রয়েছেন অন্যরা।
অভিযোগ আছে ৩৭টি প্রকল্পের মধ্যে অধিকাংশ প্রকল্প থেকে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। এতে ইউএনও কার্যালয়ের কর্মচারীদের পাশাপাশি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলামের নাম রয়েছে।
চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বকুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,” আমি কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনে জড়িত নই। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’ ইউএনও কার্যালয়ের নাজির মিজানুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কোনো ধরনের অনিয়মে জড়িত নই। কারও কাছ থেকে টাকা নেইনি।’
অপরদিকে ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও বরকত উল্লাহ বলেন, ‘এসও তার সাচিবিক সব কাজ করছেন।
পিআইসি গঠন,কারিগরি কাজ মনিটরিং,বিলের এমবি ও চেক এসও উপস্থাপন করলে আমি শুধু সভাপতি হিসাবে প্রতিস্বাক্ষর করছি। মিজানের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়টি জানা নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
প্রাপ্ত খবরে আরো জানা যায়,পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে ইউএনও,জেলা প্রশাসক ড.মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়ার মাধ্যমে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে দিয়ে এসও শেখ ফরিদকে শোকজ করান। তৎপ্রেক্ষিতে কথিত শোকজের কঠিন জবাব দেন এসও।
গত ১৬ মার্চ প্রদত্ত জবাবে তিনি উল্লেখ করেন,জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় কর্তৃক আর্থিক সুবিধা গ্রহনসহ অনৈতিক কার্যক্রম সংগঠিত হচ্ছে উল্লেখ করে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়।
উক্ত সংবাদগুলো প্রকাশের জন্য আমি কোন গণমাধ্যমকর্মীকে বাধ্য বা প্ররোচিত করিনি। এ থেকে সুস্পষ্ঠভাবে প্রমাণিত হয় প্রকাশিত সংবাদ প্রকাশের জের ধরে এসও শেখ ফরিদ এর কাছ থেকে পিআইসির বিল সংক্রান্ত ফাইলপত্র কেড়ে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরকত উল্লাহ শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করছেন।
অভিযোগ সম্পর্কে নাজিরের দায়িত্বে থাকা মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন,এসওর কাছ থেকে ফাইলপত্র আনার ক্ষমতা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইন ও নীতিবিধানই দিয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসারের পক্ষে পিআইসির সভাপতি বা চেকহোল্ডারদের কাছ থেকে দফায় দফায় ঘুষ গ্রহনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করলেও আকারে প্রকারে ইঙ্গিতে বলেন,আমরা নিরীহ সাধারণ কর্মচারী।
কর্তা যেভাবে কাজ করতে বলেন আমরা সেভাবেই কাজ করি। এখানে আমাদের ইচ্ছা অনিচ্ছার কোন মানে নেই। উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) শেখ ফরিদ বলেন,এ পর্যন্ত সকল পিআইসির কার্যক্রম ৯০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে।
পিআইসিদেরকে বিল দেয়া হয়েছে ৪২ পার্সেন্ট। এখন পর্যন্ত তার হাতে পিআইসির বিল সংক্রান্ত ফাইলপত্র ইউএনওর পক্ষ থেকে তাকে সমজিয়ে দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও মোঃ বরকত উল্লাহ (পরিচিতি নং ১৮২৫৪) বলেন,৪/৫টি ব্যতিরেকে অধিকাংশ পিআইসির কার্যক্রম আমি পরিদর্শন করেছি। পরিদর্শণকালে কোথায়ও কোন অনিয়ম পাননি তিনি। এমনকি কোন অপ্রয়োজনীয় পিআইসিও তার চোখে ধরা পড়েনি।
গণশুনানী শেষে তিনি এসওকে নিয়ে পিআইসি নির্বাচিত করেছেন বলেও জানান এবং কাজের ব্যাপারে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে বর্তমানে পিআইসির বিল সংক্রান্ত ফাইলপত্র সংরক্ষণ করছেন একই অফিসের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ আব্দুর রকিব পাঠান। ঈদুল ফিতরের আগে পিআইসির সভাপতিদের হাতে পরবর্তী বিলের চেক প্রদানের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি কত পার্সেন্ট হারে ঘুষ গ্রহন করেন সেদিকে দৃষ্টি এখন সকলের।
বিষয়: #জগন্নাথপুর #পরিবর্তন #পিআইসি #সিন্ডিকেট #সুনামগঞ্জ










নবগঠিত উদয়ন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে ঈদ পূণর্মিলনী সভা সম্পন্ন
স্বাধীনতাবিরোধী স্লোগান মুছে ‘বিজয় বাংলাদেশ’ কর্মসূচি
রাণীনগরে পর্যটন এলাকায় দুই মাদক সেবির কারাদন্ড
মোংলায় অস্ত্র ও গুলিসহ বনদস্যু ছোট সুমন বাহিনীর সদস্য আটক
সিলেট মহানগর জামায়াতের ঈদ পূনর্মিলনী অনুষ্ঠান
রাণীনগরে পিতা-পুত্রকে কারাদন্ড
রাণীনগরে ঈদ আনন্দের ভটভটি উল্টে কিশোর নিহত,আহত-৮
ভোলার লালমোহনে মুনশী আব্দুর রহমান মিয়া মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠিত ।।
আপত্তিকর বক্তব্যের প্রতিবাদে ডিসি ডেভিল ইলিয়াসের অপসারণের দাবী
সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান নিয়ে নতুনধারার ঈদ মেহমান 