বৃহস্পতিবার ● ২১ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » বিশেষ » সিলেটের ফুটপাত সংকটের স্থায়ী সমাধানে লন্ডনের আদলে ‘স্ট্রিট মার্কেট’ মডেলের প্রস্তাব সৈয়দ মিজানের!
সিলেটের ফুটপাত সংকটের স্থায়ী সমাধানে লন্ডনের আদলে ‘স্ট্রিট মার্কেট’ মডেলের প্রস্তাব সৈয়দ মিজানের!
লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর এবং ‘ইকোনমিক রিজেনারেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম’ কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মিজান-এর এই দূরদর্শী প্রস্তাবনাটিকে ভিত্তি করে দৈনিক ‘বজ্রকণ্ঠ’-এর জন্য একটি বিস্তারিত ও আকর্ষণীয় সংবাদ প্রতিবেদন :-
বিশেষ প্রতিবেদক, সিলেট:
![]()
সিলেট নগরীর দীর্ঘদিনের অন্যতম প্রধান সমস্যা—ফুটপাত দখল এবং হকার উচ্ছেদের চলমান ‘চোর-পুলিশ’ খেলার স্থায়ী অবসান ঘটাতে এক যুগান্তকারী প্রস্তাবনা দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর এবং ‘ইকোনমিক রিজেনারেশন অ্যান্ড ট্যুরিজম’ (অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও পর্যটন) কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মিজান।
লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ও সুশৃঙ্খল ‘স্ট্রিট মার্কেট’ (সড়ক বাজার) ব্যবস্থার আদলে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) এলাকায় একটি স্থায়ী, আইনি এবং রাজস্ব-উৎপাদনকারী ফ্রেমওয়ার্ক বাস্তবায়নের লিখিত প্রস্তাব করেছেন তিনি।
সৈয়দ মিজান তাঁর প্রস্তাবনায় উল্লেখ করেন, “বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নগরী লন্ডনেও হাজার হাজার হকার বা স্ট্রিট ট্রেডার রয়েছেন। কিন্তু সেখানে ফুটপাত অবরুদ্ধ হয় না, যানজট হয় না। কারণ, পুরো প্রক্রিয়াটি একটি কঠোর আইনি ও ডিজিটাল কাঠামোর মাধ্যমে পরিচালনা করে স্থানীয় কাউন্সিল। সিলেট নগরীতেও যদি ‘লন্ডন লোকাল অথরিটি অ্যাক্ট’-এর সফল উপাদানগুলো স্থানীয় প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কাজে লাগানো যায়, তবে হকার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।”
দৈনিক বজ্রকণ্ঠের পাঠকদের জন্য সৈয়দ মিজানের প্রস্তাবিত ‘স্ট্রিট মার্কেট ও ট্রেডার রেগুলেশন ফ্রেমওয়ার্ক’-এর বিস্তারিত বিবরণ নিচে তুলে ধরা হলো:
১. ডিজিটাল লাইসেন্সিং ও ‘স্ট্রিট ট্রেডার’ আইডি কার্ড
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, সিসিক এলাকায় ব্যবসা করতে ইচ্ছুক প্রতিটি হকারকে বাধ্যতামূলকভাবে ‘স্ট্রিট ট্রেডার লাইসেন্স’-এর জন্য আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং একটি সহজ ই-টিন (e-TIN) থাকতে হবে, যা তাদের দেশের মূল অর্থনৈতিক ও কর কাঠামোর সাথে যুক্ত করবে। লাইসেন্সপ্রাপ্তদের বায়োমেট্রিক সুবিধা সম্বলিত ‘স্মার্ট আইডি কার্ড’ দেওয়া হবে, যা ব্যবসা চলাকালীন সময়ে দৃশ্যমানভাবে পরিধান করতে হবে। অনিবন্ধিত যেকোনো ব্যবসা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হবে।
২. নির্দিষ্ট ‘পিচ’ বা স্টল নম্বরকরণ
লন্ডনের আদলে সিলেটের প্রধান সড়কগুলোর চওড়া ফুটপাত বা কম ব্যস্ত সাইড-রোডগুলোকে জরিপ করে নির্দিষ্ট মাপে ছোট ছোট ‘পিচ’ বা স্টল বর্ডার এঁকে চিহ্নিত করা হবে। প্রতিটি স্টলের একটি সুনির্দিষ্ট নম্বর থাকবে। স্টলের সামনে সিসিক নির্ধারিত বোর্ডে স্টল নম্বর, মালিকের নাম এবং পণ্যের ধরণ লেখা থাকবে।
৩. সিন্ডিকেট নির্মূলে ‘মালিকানা হস্তান্তর অযোগ্য’ নীতি
হকারদের পেছনে থাকা প্রভাবশালী চক্র বা সিন্ডিকেট ভাঙতে সৈয়দ মিজান একটি কঠোর নীতি প্রস্তাব করেছেন। বরাদ্দ পাওয়া স্টল বা পিচ কোনোভাবেই অন্য কারও কাছে বিক্রি, ভাড়া বা সাব-লেট দেওয়া যাবে না। মূল লাইসেন্সধারী ব্যক্তি নিজে উপস্থিত থেকে ব্যবসা না করলে তাৎক্ষণিকভাবে লাইসেন্স ও স্টল বরাদ্দ বাতিল করা হবে।
৪. মাসিক পৌর ভাড়া ও কর আদায় (রাজস্ব বৃদ্ধি)
এই মডেলের মাধ্যমে সিসিকের রাজস্ব আয় বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। বাণিজ্যিক গুরুত্ব অনুযায়ী (যেমন: জিন্দাবাজার বা বন্দরবাজারের জন্য প্রিমিয়াম রেট) প্রতিটি স্টল থেকে সিসিক প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে ডিজিটাল মাধ্যমে (বিকাশ/নগদ/ব্যাংক) ভাড়া আদায় করবে। এই ভাড়ার একটি অংশ ব্যয় হবে প্রতিদিনের বাজার শেষে সিসিক কর্তৃক ওই এলাকা নিখুঁতভাবে পরিষ্কার করা এবং রাতে ব্যবসার জন্য পরিবেশবান্ধব আলোর ব্যবস্থা করার পেছনে।
৫. ‘মার্কেট ইন্সপেক্টর’ নিয়োগ ও কঠোর তদারকি
প্রস্তাবনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো একটি ডেডিকেটেড মনিটরিং টিম গঠন। সিসিকের অধীনে বিশেষায়িত ‘মার্কেট ইন্সপেক্টর’ (Market Inspectors) নিয়োগ দেওয়া হবে। এই ইন্সপেক্টররা প্রতিদিন নির্ধারিত জোনে টহল দেবেন এবং নিশ্চিত করবেন:
হকাররা তাদের জন্য নির্ধারিত হলুদ বা সাদা লাইনের (Boundary) বাইরে রাস্তা দখল করছে কি না।
সবার কাছে বৈধ আইডি কার্ড আছে কি না।
ব্যবসার জন্য নির্ধারিত সময়সীমা (টাইম স্লট) মেনে চলা হচ্ছে কি না।
আইন অমান্যকারীদের তাৎক্ষণিক জরিমানা এবং মালামাল বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা থাকবে এই টিমের। প্রয়োজনে তারা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (SMP) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সহায়তা নেবেন।
তিন ধাপে বাস্তবায়নের রোডম্যাপ
সৈয়দ মিজান তাঁর প্রস্তাবনাটি হুট করে চাপিয়ে না দিয়ে ৩টি ধাপে বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথম দুই মাসে হকারদের বায়োমেট্রিক শুমারি ও স্থান ম্যাপিং; পরবর্তী তিন মাসে জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজারের কিছু অংশে পাইলট প্রজেক্ট বা পরীক্ষামূলক চালু; এবং সর্বশেষ ধাপে আম্বরখানা, চৌহাট্টা, তালতলাসহ পুরো সিসিক এলাকায় এর পূর্ণাঙ্গ বিস্তার।
একটি স্থায়ী ও মানবিক সমাধান
সৈয়দ মিজান বলেন, “বারবার উচ্ছেদ কোনো সমাধান নয়। হকারদেরও রুটি-রুজির অধিকার আছে, আবার নাগরিকদেরও ফুটপাতে নিরাপদে হাঁটার অধিকার আছে। আমার এই প্রস্তাবনা বাস্তবায়ন হলে একদিকে যেমন ফুটপাত পুরোপুরি পথচারীদের নিয়ন্ত্রণে আসবে, অন্যদিকে সিসিকের বিপুল রাজস্ব আয় হবে। সবচেয়ে বড় কথা, হকাররা পুলিশি হয়রানি ও স্থানীয় চাঁদাবাজদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে বৈধভাবে, মাথা উঁচু করে ব্যবসা করার সামাজিক স্বীকৃতি পাবে।”
সিলেটের সুশীল সমাজ এবং সাধারণ নগরবাসী লন্ডনের ইকোনমিক রিজেনারেশন ও ট্যুরিজম খাতের এই বিশেষজ্ঞের প্রস্তাবনাকে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত বলে আখ্যা দিয়েছেন। এখন সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ এই আন্তর্জাতিক মডেলটি গ্রহণ করে সিলেটকে একটি আদর্শ ও সুশৃঙ্খল নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে কতটুকু উদ্যোগী হয়, সেটাই দেখার বিষয়।
বিষয়: #ফুটপাত #সংকট #সমাধান #স্থায়ী #সিলেট










ঢাকার আকাশে ভিন্ন এক দৃশ্য, চোখ ফেরাতে পারছেন না কেউ
জনগণের অর্থ ও রাষ্ট্রপ্রধানদের চিকিৎসা বিতর্ক: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের লন্ডন সফরের ভেতরের খবর
উপ্ত-সুপ্ত-গুপ্ত-লুপ্ত: রাজনৈতিক আক্রমণের ভাষা ও মনস্তত্ত্ব
দেখে কিছু বুঝি নাই, চেখে পেলাম রসের সাগর
র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এক বছরে ব্র্যাকের সেবা পেয়েছেন ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ
কেন ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি হচ্ছে?
অভিবাসন ও অভিবাসীদের বিষয়ে তাঁর নীতিসমূহ
বিপদসীমায় সুতাং: মাছের পেটে প্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্যে চরম ঝুঁকি
কুমিরের পিঠে চড়ে ’সাধু বাবুর’ বাংলা জয়! 