বুধবার ● ২০ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » পদ্মা ব্যারেজ হলে ফারাক্কা নিয়ে বাংলাদেশের বার্গেনিং পয়েন্ট শেষ হয়ে যাবে
পদ্মা ব্যারেজ হলে ফারাক্কা নিয়ে বাংলাদেশের বার্গেনিং পয়েন্ট শেষ হয়ে যাবে
বজ্রকণ্ঠ::
![]()
উজানের দেশ ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনায় প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের মেগা প্রকল্প অনুমোদন করেছে সরকার। তবে নদী ও ভূ-রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ব্যারেজ নির্মাণের ফলে আন্তর্জাতিক নদী পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নৈতিক অবস্থান ও দরকষাকষির মূল জায়গাটি (বার্গেনিং পয়েন্ট) দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, পদ্মা ব্যারেজ নির্মিত হলে ভারত আন্তর্জাতিক ফোরামে যুক্তি দেখানোর সুযোগ পাবে যে—বাংলাদেশ তার নিজের পানি নিজেই সংরক্ষণ করছে, ফলে ফারাক্কা থেকে বাড়তি পানি দেওয়ার আর প্রয়োজন নেই। এতে করে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে চলে আসা ফারাক্কা বাঁধের নেতিবাচক প্রভাব ও পানির ন্যায্য হিস্যা নিয়ে কথা বলার সুযোগ বাংলাদেশ চিরতরে হারাতে পারে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান উদ্যোগ
১৯৭৫ সালের ১৬ মে ভারত মুর্শিদাবাদের ফারাক্কায় পরীক্ষামূলকভাবে বাঁধ চালুর পর বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল মরুকরণের দিকে ধাবিত হয়। এর প্রতিবাদে ১৯৭৬ সালের ১৬ মে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর নেতৃত্বে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই ঐতিহাসিক ঘটনার অর্ধশতাব্দী পর, পদ্মানির্ভর অঞ্চলের পরিবেশ ও নদী ব্যবস্থা পুনরুজ্জীবিত করতে রাজবাড়ী জেলার পাংশায় ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘পদ্মা ব্যারেজ’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। ২০৩৩ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে নির্ধারিত এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য বর্ষাকালের উদ্বৃত্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে গড়াই, মধুমতী, হিসনা-মাথাভাঙ্গা, বড়াল ও ইছামতী নদীর প্রবাহ সচল রাখা।
পরিবেশ ও ভূ-রাজনীতির অদেখা ভবিষ্যৎ
নদী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, নদীকে তার নিজস্ব গতিতে প্রবাহিত হতে দেওয়াটাই প্রকৃতির নিয়ম। কৃত্রিম ব্যারেজ দিয়ে নদীতে দীর্ঘস্থায়ী পানি রিজার্ভেশন বা সংরক্ষণ করা প্রযুক্তিগতভাবে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে।
”নদী বহমান থাকে। বাঁধের কাছাকাছি নির্দিষ্ট কিছু অংশ বাদে পুরো নদীতে বর্ষার পানি শুষ্ক মৌসুমের জন্য ধরে রাখা সম্ভব নয়। প্রকৌশলীদের একাংশ যেভাবে পানির রিজার্ভারের কথা বলছেন, তা করতে গেলে ওপরের দিকে অসংখ্য ছোট-বড় বাঁধ দিতে হবে—যা পরিবেশ ও প্রকৃতির জন্য নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।”
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ-ভারত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হতে যাচ্ছে। নতুন চুক্তি নিয়ে যখন দুই দেশের মধ্যে দৃশ্যমান আলোচনার প্রয়োজন, ঠিক সেই মুহূর্তে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের নীতিকে প্রকারান্তরে বৈধতা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের আহ্বান
উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা দূর করা, কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উন্নয়ন এবং ১৯টি জেলাকে মরুকরণ থেকে বাঁচাতে পদ্মা ব্যারেজের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও আন্তর্জাতিক নদীর ক্ষেত্রে দেশের অধিকার সবার আগে নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, কোনো আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ফারাক্কা চুক্তির নবায়ন, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক নদী কনভেনশন অনুসমর্থন এবং ভাটির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অববাহিকাভিত্তিক পানির ন্যায্য অধিকার আদায়ে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করাই হবে প্রকৃত ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান।
বিষয়: #পদ্মা #ফারাক্কা #ব্যারেজ #হলে










সিলেটে আ.লীগ নেতার দখলে সওজের জায়গা: সংবাদ না করতে ঘুষের প্রস্তাব
হবিগঞ্জে ২৪ ঘণ্টায় ৬০ মিমি বৃষ্টি: ফুঁসে উঠছে খোয়াই নদী, বন্যার শঙ্কা
বগুড়ার শাজাহানপুরে অসহায় প্রতিবন্ধী সাহেরা কে হুইল চেয়ার প্রদান করলেন সাবেকএমপি লালু
গাবতলীতে বিজয়ীদের মাঝে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক বিতরণ করলেন সাবেক এমপি লালু
বানিয়াচংয়ের কালাইনজুড়া ইউনিয়নের উন্নয়ন ও জনসেবার মান বাড়াতে গণমত আহ্বান
ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপতথ্য (Misinformation), ভুয়া খবর (Fake News) এবং কুৎসা রটনাকারীদের বিরুদ্ধে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এবং স্থানীয়ভাবে বেশ কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সুন্দরবন থেকে অস্ত্র ও গুলিসহ দুই দস্যু আটক, ৪ জেলে উদ্ধার
মায়ানমারে পাচারকালে ২৪০০ বস্তা সিমেন্টসহ ৩৩ পাচারকারী আটক
দৌলতপুর সিমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী(বিএসএফ)’র কাছ থেকে বাংলাদেশি নাগরিককে ফিরিয়ে এনেছে বর্ডার গার্ড 