রবিবার ● ১৭ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » বিশেষ » ঢাকার আকাশে ভিন্ন এক দৃশ্য, চোখ ফেরাতে পারছেন না কেউ
ঢাকার আকাশে ভিন্ন এক দৃশ্য, চোখ ফেরাতে পারছেন না কেউ
সৈয়দ মিজান, প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, বজ্রকণ্ঠ ::
![]()
ঢাকা, মে ২০২৬: ইট-পাথরের ব্যস্ত নগরী ঢাকা। প্রতিদিনকার চেনা যানজট, কোলাহল আর নাগরিক ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎ করেই যেন থমকে দাঁড়াল রাজধানী। পথচলতি মানুষ, বহুতল ভবনের বাসিন্দা কিংবা ট্রাফিক জ্যামে আটকে থাকা যাত্রী—সবার চোখ তখন আটকে গেছে ওপরের দিকে। ঢাকার আকাশজুড়ে তখন তৈরি হয়েছে এক ভিন্নধর্মী ও মায়াবী দৃশ্য, যা থেকে কেউ সহজে চোখ ফেরাতে পারছিলেন না। মুহূর্তের মধ্যেই সেই অপরূপ দৃশ্যের ছবি ও ভিডিওতে সয়লাব হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।
নাগরিকদের এই মুগ্ধতার পেছনে লুকিয়ে আছে প্রকৃতির এক অদ্ভুত বিজ্ঞান। আবহাওয়াবিদ এবং বিজ্ঞানীদের মতে, ঢাকার আকাশে প্রায়শই যে বিরল ও চোখ জুড়ানো দৃশ্যগুলো তৈরি হয়, তার পেছনে কাজ করে সুনির্দিষ্ট কিছু বায়ুমণ্ডলীয় বিন্যাস।
মেঘ-আলোর খেলা আর প্রকৃতির ‘গড’স রেজ’
গ্রীষ্ম এবং বর্ষার এই সন্ধিক্ষণে ঢাকার আকাশে এখন মেঘের রাজকীয় আনাগোনা। কালবৈশাখীর আগের বা পরের এই সময়ে আকাশে জমা হওয়া মেঘের স্তূপ আর তার ফাঁক গলে বেরিয়ে আসা সূর্যের সোনালী রশ্মি বা ‘ক্রিপাসকুলার রেজ’ (Crepuscular Rays) এক স্বর্গীয় পরিবেশ তৈরি করে। বায়ুমণ্ডলে থাকা জলীয় বাষ্প ও ধূলিকণার ওপর সূর্যের আলোর এই বিচ্ছুরণ পুরো ঢাকাকে এক মায়াবী আলোয় রাঙিয়ে দেয়, যা সাধারণ মানুষকে কৌতূহলী ও মুগ্ধ করে তোলে।
সান হ্যালো বা সূর্যবলয়ের বিস্ময়
আকাশপ্রেমীদের জন্য অন্যতম বড় বিস্ময় হয়ে আসে ‘সান হ্যালো’ (Sun Halo) বা সূর্যবলয়। আকাশের ঠিক মধ্যিখানে সূর্যের চারপাশে যখন একটি নিখুঁত বৃত্তাকার রংধনু বা আলোর বলয় তৈরি হয়, তখন তা দেখতে সাধারণ মানুষের ভিড় জমে যায়।
বিজ্ঞানের ভাষায় এটিকে বলা হয় ‘২২ ডিগ্রি হ্যালো’। বায়ুমণ্ডলের ওপরের স্তরে (প্রায় ২০ হাজার ফুট উঁচুতে) যখন পাতলা ‘সিরাস মেঘ’ জমা হয়, তখন সেই মেঘে থাকা লক্ষ লক্ষ ষড়ভুজাকৃতির বরফ স্ফটিকের (Ice Crystals) মধ্য দিয়ে সূর্যের আলো প্রতিসরিত (Refraction) হয়ে এই চমৎকার আলোক বলয় সৃষ্টি করে। এটি কেবল একটি চাক্ষুষ সৌন্দর্যই নয়, বরং প্রকৃতির এক নিখুঁত জ্যামিতিক কারুকার্য।
বজ্রকণ্ঠ-এর বার্তা: চোখ রাখুন, তবে সচেতনভাবে
প্রকৃতির এই রূপ যেমন আমাদের যান্ত্রিক জীবনে স্বস্তি এনে দেয়, তেমনি এর সাথে জড়িয়ে থাকে কিছু জরুরি স্বাস্থ্য সতর্কতাও। আকাশে যখনই সূর্যকে কেন্দ্র করে কোনো চমৎকার বলয় বা হ্যালো তৈরি হয়, তখন সরাসরি খালি চোখে বা ক্যামেরার লেন্স দিয়ে দীর্ঘক্ষণ সূর্যের দিকে তাকানো মোটেও উচিত নয়। সূর্যের তীব্র অতিবেগুনী রশ্মি চোখের রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রকৃতির এই অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করার সময় সানগ্লাস ব্যবহার করা অথবা কোনো আড়াল থেকে এটি দেখা নিরাপদ।
নগর জীবনের ক্লান্তি ভুলে মাঝে মাঝে আকাশের দিকে তাকিয়ে এই নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপভোগ করা নিঃসন্দেহে মনের খোরাক জোগায়। ঢাকার আকাশ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—কংক্রিটের এই শহরের ওপরেও এক বিশাল, অবারিত এবং সুন্দর পৃথিবী রয়েছে, যা প্রতিনিয়ত তার রূপ বদলে আমাদের মুগ্ধ করতে প্রস্তুত।
বিষয়: #আকাশ #এক #দৃশ্য #ভিন্ন #ঢাকা










জনগণের অর্থ ও রাষ্ট্রপ্রধানদের চিকিৎসা বিতর্ক: রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের লন্ডন সফরের ভেতরের খবর
উপ্ত-সুপ্ত-গুপ্ত-লুপ্ত: রাজনৈতিক আক্রমণের ভাষা ও মনস্তত্ত্ব
দেখে কিছু বুঝি নাই, চেখে পেলাম রসের সাগর
র্যাকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ এক বছরে ব্র্যাকের সেবা পেয়েছেন ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ
কেন ২০২৬ সালের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি হচ্ছে?
অভিবাসন ও অভিবাসীদের বিষয়ে তাঁর নীতিসমূহ
বিপদসীমায় সুতাং: মাছের পেটে প্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্যে চরম ঝুঁকি
কুমিরের পিঠে চড়ে ’সাধু বাবুর’ বাংলা জয়!
লাগামহীন মূল্যস্ফীতি: বাড়ি ভাড়া নিয়ে নতুন গাইডলাইন জারি, বিপাকে ভাড়াটে ও মালিক উভয়েই 