শুক্রবার ● ১৫ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » ৩ বিলিয়ন ডলারের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ‘লাইফলাইন’ নাকি নতুন পরিবেশগত ঝুঁকি?
৩ বিলিয়ন ডলারের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ‘লাইফলাইন’ নাকি নতুন পরিবেশগত ঝুঁকি?
বজ্রকণ্ঠ এক্সক্লুসিভ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা::
![]()
দীর্ঘ কয়েক দশকের প্রতীক্ষা ও নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে অবশেষে আলোর মুখ দেখছে স্বপ্নের ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প। গতকাল বুধবার (১৩ মে, ২০২৬) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক (ECNEC) সভায় প্রায় ৩৪,৪৯৭ কোটি টাকার (৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি) এই মেগা প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
সরকার বলছে, এই ব্যারেজ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদ-নদীগুলোকে পুনর্জীবিত করবে। তবে বিশেষজ্ঞরা এর পরিবেশগত প্রভাব এবং আন্তর্জাতিক পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছেন।
প্রকল্পের খুঁটিনাটি
ব্যয় ও অর্থায়ন: প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪,৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা, যার পুরোটাই মেটানো হবে সরকারি তহবিল (GoB) থেকে।
বাস্তবায়নকাল: ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত।
অবস্থান: রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে পদ্মা নদীর ওপর ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে।
সুবিধাদি: এখানে থাকবে ৭৮টি স্লুইস গেট, ১৮টি আন্ডার-স্লুইস এবং ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র।
কেন এই ব্যারেজ?
পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানিয়েছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের ১৯টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। মূলত ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মায় যে ভয়াবহ পানি সংকট তৈরি হয়, তা মোকাবিলা করতেই এই উদ্যোগ। এর মাধ্যমে গড়াই, মধুমতী, আড়িয়াল খাঁ ও ভৈরবসহ মৃতপ্রায় নদীগুলোতে পুনরায় পানির প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।
পরিবেশগত উদ্বেগ ও প্রশ্ন
প্রকল্পটি অনুমোদনের পর থেকেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের প্রধান প্রশ্ন—মাত্র দুই মাসের মাথায় এত বড় একটি প্রকল্পের “স্বচ্ছ” পরিবেশ সমীক্ষা এবং আন্তর্জাতিক মানের ফিজিবিলিটি স্টাডি নিশ্চিত করা হয়েছে কি না।
১. পলি ব্যবস্থাপনা: বিশাল এই ব্যারেজের ফলে নদীর স্বাভাবিক পলি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নাব্য সংকট তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেক নদী বিশেষজ্ঞ।
২. ভারত ইস্যু: ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হতে যাচ্ছে। উজানে ভারতের সাথে পানি বণ্টন নিয়ে নতুন কোনো স্থায়ী সমাধানে পৌঁছানোর আগেই এত বড় বিনিয়োগ কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অর্থনীতিবিদরা।
সরকারের অবস্থান
পরিকল্পনা কমিশন এবং সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র মতে, এটি কোনো তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নয়। বিগত ছয় দশক ধরে বিভিন্ন সময় এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। বর্তমান সরকার এটিকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা দূরীকরণ এবং সুন্দরবনের বাস্তুসংস্থান রক্ষার একমাত্র কার্যকর পথ হিসেবে বিবেচনা করছে।
আগামীর চ্যালেঞ্জ
সাত বছরের এই দীর্ঘ কর্মযজ্ঞে প্রতি বছর প্রায় ৫,০০০ কোটি টাকা করে খরচ হবে। বিদেশি সহায়তা ছাড়া সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় পরীক্ষা। একইসাথে সাতটি ‘স্যাটেলাইট সিটি’ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে এই ব্যারেজকে ঘিরে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কোটি মানুষের ভাগ্য কি সত্যিই এই ব্যারেজের মাধ্যমে বদলে যাবে, নাকি এটি পরিবেশের জন্য নতুন কোনো দীর্ঘমেয়াদী সংকটের সূচনা করবে—তা সময়ই বলে দেবে।
আরও বিস্তারিত আপডেটের জন্য চোখ রাখুন বজ্রকণ্ঠ-এ।
বিষয়: #ডলার #পদ্মা #বিলিয়ন #ব্যারেজ










হবিগঞ্জ বাস সিন্ডিকেটের বিষবৃক্ষ: জাহিদুলের বিচার ও সাধারণ মালিকদের মুক্তির সংগ্রাম
দীর্ঘ ৮ বছরের তদন্ত শেষে বিচারের আওতায় ধর্মীয় নেতা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন অ্যাঞ্জেলা রেনার: ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস
সিলেটে এসএ পরিবহনে পুলিশের হানা: ৭০ বস্তা চোরাই জিরাসহ ট্রাক আটক, নেপথ্যে সাংবাদিক!
বড়লেখায় শিশুকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দোকানদার আটক
হবিগঞ্জে দুঃসাহসিক চোরচক্রের হুমকি: সিসিটিভি সিস্টেম চুরির আল্টিমেটাম, জনমনে আতঙ্ক
তিতাসে হত্যা মামলার আসামি লতিফ ভূঁইয়াকে কুপিয়ে হত্যা; বিদেশি পিস্তল উদ্ধার
স্থানীয় নির্বাচনে জয়ের পর অভিবাসী পুনর্বাসন প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা ফারাজের
টেকনাফে অস্ত্র-গুলি বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট হেলমেট জব্দ করেছে কোস্টগার্ড 