রবিবার ● ১৭ মে ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » দুই বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে অচল হবিগঞ্জ-সিলেট রুট: এক সপ্তাহ ধরে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা, সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি
দুই বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে অচল হবিগঞ্জ-সিলেট রুট: এক সপ্তাহ ধরে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা, সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, বজ্রকণ্ঠ
![]()
হবিগঞ্জ/মৌলভীবাজার: হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজার জেলা বাস মালিক সমিতির মধ্যকার দীর্ঘদিনের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিরোধ ও পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থানের কারণে এক সপ্তাহ ধরে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে পরিবহন খাতে। মৌলভীবাজারের ওপর দিয়ে হবিগঞ্জ-সিলেট বিরতিহীন বাস চলাচলে বাধা এবং গাড়ি আটকে রাখার প্রতিবাদে গত ১২ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছে হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপ। এর ফলে হবিগঞ্জের সঙ্গে সিলেটসহ সারা দেশের বাস যোগাযোগ কার্যত বন্ধ রয়েছে।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা এই দ্বন্দ্বে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিশেষ করে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাওয়ার পথে গুরুতর অসুস্থ রোগী, জরুরি পেশাগত ও ব্যবসায়িক কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। বিকল্প হিসেবে সিএনজি ও অটোরিকশায় ভেঙে ভেঙে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করায় যাত্রীদের যেমন কয়েক গুণ অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে দীর্ঘ সময়। উদ্ভূত এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের আশু ও সরাসরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণ।
বিরোধের নেপথ্যে কী?
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটটি মৌলভীবাজার জেলার ভৌগোলিক সীমানার ওপর দিয়ে গেছে। গত দুই বছর ধরেই এ পথে হবিগঞ্জের বাস চলাচল নিয়ে দুই জেলার মালিক সমিতির মধ্যে বিরোধ চলছে, যা সম্প্রতি তীব্র আকার ধারণ করে। মৌলভীবাজার বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রব মিয়ার অভিযোগ, হবিগঞ্জের বেশির ভাগ বাসের বৈধ কাগজপত্র ও রুট পারমিট নেই। তাই ফিটনেসবিহীন এসব গাড়ি তারা তাদের জেলার ওপর দিয়ে চলতে দেবেন না।
অন্যদিকে, হবিগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সদস্য সচিব সোহেল চৌধুরীর দাবি, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে ও সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গত কয়েক দিনে তাদের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০টি বিরতিহীন বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা হয়েছে এবং প্রায় ২০০ শ্রমিককে অনিরাপদ অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। হবিগঞ্জের বাসের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
মহাসড়ক অবরোধ ও প্রশাসনের তৎপরতা:
বিরোধের জেরে গত ১৬ মে (শনিবার) দুপুরে শায়েস্তাগঞ্জ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করেন হবিগঞ্জের বাস মালিক ও শ্রমিকরা। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলে দূরপাল্লার যাত্রীরা বড় ধরনের ভোগান্তিতে পড়েন। পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাসে দুই ঘণ্টা পর সাময়িকভাবে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ জানান, জনদুর্ভোগ লাঘবে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে দুই জেলার বাস মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিদের নিয়ে চলমান সংকট নিরসনের চেষ্টা চলছে।
যাত্রীদের আকুতি ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ:
এদিকে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ দিন দিন বাড়ছে। বাস টার্মিনালে আটকে পড়া একাধিক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “দুই সমিতির স্বার্থের দ্বন্দ্বে সাধারণ মানুষকে কেন জিম্মি করা হবে? রোগী নিয়ে সিলেট যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা সরকারের কাছে অবিলম্বে এই জিম্মিদশা থেকে মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।” প্রশাসন যেন অনতিবিলম্বে কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নিয়ে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক করে, এটাই এখন ভুক্তভোগী সাধারণ জনগণের একমাত্র দাবি।
বিষয়: #দুই #বাস #মালিক #সমিতি










মহম্মদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় শিবির কর্মী আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য
খালি থালা হাতে সিলেটে হাজারো হকারের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল স্থবির
যশোর জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী গ্রেপ্তার
হবিগঞ্জ বাস সিন্ডিকেটের বিষবৃক্ষ: জাহিদুলের বিচার ও সাধারণ মালিকদের মুক্তির সংগ্রাম
দীর্ঘ ৮ বছরের তদন্ত শেষে বিচারের আওতায় ধর্মীয় নেতা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন অ্যাঞ্জেলা রেনার: ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস
সিলেটে এসএ পরিবহনে পুলিশের হানা: ৭০ বস্তা চোরাই জিরাসহ ট্রাক আটক, নেপথ্যে সাংবাদিক!
বড়লেখায় শিশুকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দোকানদার আটক
৩ বিলিয়ন ডলারের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ‘লাইফলাইন’ নাকি নতুন পরিবেশগত ঝুঁকি? 