শুক্রবার ● ২০ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » দেশব্যাপী সংবাদ » সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বাপপুত ও চাচা ভাতিজার পারিবারিক পিআইসি : শেষ হয়নি বাঁধের কাজ
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বাপপুত ও চাচা ভাতিজার পারিবারিক পিআইসি : শেষ হয়নি বাঁধের কাজ
আল হেলাল,সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
![]()
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বাপপুত ও চাচা ভাতিজার পারিবারিক পিআইসির মাধ্যমে দায়সারাভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ। ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি,ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে কোথায়ও কোথায়ও ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগের যেন শেষ নেই।
প্রায় ১২টি অপ্রয়োজনীয় (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) পিআইসি গঠনের মাধ্যমে সরকারের বরাদ্দ লুটতরাজ করা হয়েছে।
জানা গেছে,শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বাধিক ৬৭টি পিআইসি অনুমোদন করা হয়।
অথচ তুলনামূলকভাবে আগের বছরগুলিতে সম্পাদিত বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কার্যক্রম অনেকাংশে অক্ষত ছিল। তাছাড়া গতবছর বন্যা না হওয়ায় পূর্বের বছরের অনেক পিআইসির আওতায় নির্মিত বাঁধ বিনষ্ট হয়নি।
এবার শুধুমাত্র মাটির প্রলেপ দিয়ে আংশিক মেরামত করত: পিআইসির নামে বরাদ্দকৃত অর্থ পকেটভারী করছেন জেলা মনিটরিং কমিটির একজন সদস্য,পাউবোর কর্মকর্তা,উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী ও তাদের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
১৯ মার্চ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা যায়,উপজেলা নির্বাহী অফিসারের তথ্য বাতায়নে কেবলমাত্র দুই একটি পিআইসির তথ্য আপলোড রয়েছে।
বাকীগুলো রহস্যজনক কারণে আড়াল করে রাখা হয়েছে। এছাড়া হাওরে বাঁধের শুরুতে পিআইসি প্রকল্পের সাথে জড়িতদের নাম ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরসহ বিস্তারিত তথ্যে লেখা সাইনবোর্ড রাখার নিয়ম থাকলেও অনেক পিআইসিতে কোন সাইনবোর্ড রাখা হয়নি।
অধিকাংশ পিআইসির কাজ করা হয়েছে পিআইসির দুই পাশের মাটি কেটে। এতে করে ব্যাপকভাবে ফসলি জমি নষ্টসহ প্রতিটি বাঁধের কাজই দূর্বল হয়েছে।
এলাকাবাসী জানান,শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৫৩ নং পিআইসিতে ৪নং সদস্য জসিম উদ্দিন ও ৫নং সদস্য মোঃ শফিক মিয়া একে অপরের আপন সহোদর।
তাদের আপন ভাই মোঃ ডালিম মিয়া ৫৪ নং পিআইসির সদস্যসচিব বা সেক্রেটারী। ঐ পিআইসিতে একই পরিবারের আপন ৩ ভাইকে রেখে এটি যে একটি পারিবারিক পিআইসি তার বাস্তব প্রমাণ দেয়া হয়েছে। উক্ত পিআইসির বরাদ্দ ধরা হয়েছে সাড়ে ২২ লাখ টাকা। অথচ ঐ পিআইসির কাজে ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা।
উক্ত পিআইসির ৬নং সদস্য মোছাঃ নাছিমা বেগম পাথারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ৪,৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের সদস্যা। যিনি একাধিক পিআইসির মধ্যে রয়েছেন।
৫৫ নং পিআইসিতে ছেলে মোঃ আফজাল হোসাইন পিতা মোঃ শফিক মিয়া,সাং শ্যামনগর,ইউপি পশ্চিম বীরগাঁও,থানা শান্তিগঞ্জ সেক্রেটারী হিসেবে কাজ ভাগিয়ে নিয়েছেন। আবার ঐ ছেলে মোঃ আফজাল হোসাইনের পিতা মোঃ শফিক মিয়া ৫৪ নং পিআইসিতে ৫নং সদস্য এবং তার চাচা মোঃ ডালিম মিয়া সেক্রেটারী,আরেক চাচা জসিম উদ্দিন ৪নং সদস্য হিসেবে পারিবারিক পিআইসি ভাগিয়ে নিয়েছেন।
একইভাবে ৫৩ নং পিআইসিতে ৫৫ নং পিআইসির সভাপতি মোঃ আফজাল হোসাইন এর চাচা জসিম উদ্দিন ৪নং সদস্য ও পিতা মোঃ শফিক মিয়া ৫নং সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত রয়েছেন।
ফলে একই পরিবারের কাছে মোটা অংকের টাকা ঘুষের বিনিময়ে ৩টি পিআইসি বেআইনীভাবে প্রদান করা হয়েছে। ৫৮ নং পিআইসিতে পুত্র নাহিদ হাসান সভাপতি ও তার পিতা সাইফুর রহমান ৩নং সদস্য রয়েছেন। ৪নং সদস্য আলাউর রহমান সভাপতির চাচা। পিতাপুত্রের ও চাচা ভাতিজার ঐ পারিবারিক পিআইসিতে ২৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ৬৬ নং পিআইসিতে একই পরিবারের ৩ ভাই জড়িত রয়েছেন। এরা হচ্ছেন আব্দুল মতিন,জসিম উদ্দিন ও শফিক মিয়া।
০৬ ও ২৭ নং পিআইসিতে একই পরিবারের দুই ভাই সম্পৃক্ত রয়েছেন। ৩৩ ও ৬৩ নং দুইটি পিআইসিতে জয়কলস ইউনিয়নের আস্তমা নিবাসী ইউপি সদস্য হাবিবুর রহমান সদস্য রয়েছেন। ৫৮ ও ৬০ নং দুটি পিআইসিতে ইউপি সদস্য আব্দুল বাছির সম্পৃক্ত রয়েছেন। ২৯ ও ৬৪ নং পিআইসিতে ৪ নং ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ রুশন আলী সক্রিয়ভাবে জড়িত রয়েছেন। এর মধ্যে ১টিতে ২৯ লাখ টাকা এবং অপরটিতে ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ মঞ্জুর করা হয়েছে।
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জায়গীরদার খোকন ৬,৭,৯,১০,১৩,১৪,১৫ ও ৫৬ এই ৮টি পিআইসির সাথে বাণিজ্যে জড়িত রয়েছেন এমন অভিযোগ।
৪৩ নং পিআইসির সভাপতি মোঃ কবির হোসেন পিতা আব্দুল মালেক,সাং সাপেরকোনা,পশ্চিম বীরগাঁও,উপজেলা শান্তিগঞ্জ একাধারে ৪,৫,৬,৯,৪৩,৪৪ নং পিআইসির সাথে বাণিজ্যে জড়িত রয়েছেন।
রুবেল মিয়া পিতা এংরাজ মিয়া সাং শ্যামনগর,থানা শান্তিগঞ্জ,জেলা সুনামগঞ্জ একাধারে ৩৮ ও ৪০ নং পিআইসির সাথে বাণিজ্যে জড়িত রয়েছেন।
মোঃ চন্দন আলী পিতামৃত তারিক উল্লা,সাং দূর্গাপুর,ইউনিয়ন পশ্চিম বীরগাঁও,থানা শান্তিগঞ্জ ১১ নং পিআইসির সভাপতিসহ ১৪ নং পিআইসির সাথে বাণিজ্যে জড়িত রয়েছেন।
পাথারিয়া ইউনিয়নের একজন অতি সুবিধাভোগী ইউপি সদস্য একাধারে ২৯,৫২ ও ৬৪ এই ৩টি পিআইসির সাথে সম্পৃক্ত আছেন।
মোঃ শফিক মিয়া পিতা আব্দুল মনাফ,সাং শ্যামনগর,ইউনিয়ন পশ্চিম বীরগাঁও,থানা শান্তিগঞ্জ একাধারে ৫৩,৫৪,৫৫ ও ৬৬ নং পিআইসি বাণিজ্যের সাথে জড়িত রয়েছেন।
|
পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফুর রহমান জায়গীরদার খোকন বলেন,আমি বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনের একটি সভায় হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি আবু সঈদের বক্তব্যে পিআইসির কার্যক্রম নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উত্থাপন করলে উপস্থিত সকল লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়লে আমি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে তারা উত্তেজিত হয়ে আমাকে দোষারুপ করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মনিরুজ্জামান মোহন প্রতিটি পিআইসির সভাপতির কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা আগাম ঘুষ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় পিআইসি গঠনপূর্বক অতিরিক্ত বরাদ্দ মঞ্জুর করে প্রতিভূ লোকদের দিয়ে পিআইসি অনুমোদন করে নিয়েছেন বলেও কোন কোন ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
জানতে চাইলে এ পর্যন্ত ৪০ পারসেন্ট বিল প্রদান করা হয়েছে উল্লেখ করে শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন,সভাপতি হিসেবে শুধুমাত্র বাধ্য হয়ে পিআইসি অনুমোদন করতে হয়।
কিন্তু কোনটি অপ্রয়োজনীয় আর কোনটি প্রয়োজনীয় তা ফিল্ড ভিজিটের মাধ্যমে নির্ধারন করবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও মনিটরিং কমিটি।
এখন পর্যন্ত একজন কৃষক বা স্থানীয় সচেতন নাগরিকবৃন্দের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে টাইলা গ্রামের কৃষক সমুজ আলী জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি দায়েরকৃত অভিযোগে এসও মনিরুজ্জামান মোহনের বিরুদ্ধে পিআইসির কাছ থেকে আগাম টাকা নেয়া ও পিআইসি গঠনের সময় নয়ছয় করার অভিযোগ এনেছেন।
পিআইসির সভাপতিদের কাছ থেকে চেক প্রদান করতে গিয়ে ইউএনও ও এসওর নামে দফায় দফায় আগাম উৎকোচ গ্রহনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সৌরভ রায় পার্থ এর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত এসও মনিরুজ্জামান মোহন তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,শতভাগ কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। আমরা কোথায়ও কোন অনিয়ম করিনি। অনিয়ম হলে কেউনা কেউ অভিযোগ করত বা মামলা করতো।
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় পিআইসির কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে চ্যালেঞ্জ করেছেন হাওর বাঁচাও আন্দোলন শান্তিগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি মোঃ আবু সঈদ।
সংগঠনটির নেতাকর্মীরা ১,৩,২০,২৩,৩০,৩৯,৪৩,৪৪,৬১,৬৪,৬৫ ও ৬৬ এই ১২টি পিআইসিকে সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত পিআইসি বলে চিহ্নিত করেছেন।
তারা বলেছেন,গতবার উপজেলায় কোন বন্যা না হওয়ায় এই পিআইসিগুলোতে পূর্বে নির্মিত বাঁধ এবার সম্পূর্ণরুপে অক্ষত ছিল।
অথচ সরকারের বরাদ্দ লুটতরাজের স্বার্থে লুঠেরা সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে এবার অন্যায়ভাবে এসব অপ্রয়োজনীয় ও অক্ষত পিআইসি অনুমোদন করে পকেটভারীর মহোৎসব পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিষয়: #উপজেলা #বাপপুত #শান্তিগঞ্জ #সুনামগঞ্জ










পার্বতীপুরে দুস্থদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও শাড়ি বিতরণ
দারুল ক্বিরাত-২০২৬ নন্দিরগাঁও মানাউরা দাখিল মাদ্রাসা শাখার বিদায়ী অনুষ্ঠান সম্পন্ন
সুন্দরবনের দস্যু নানা বাহিনীর কাছে জিম্মি থাকা ৬ জেলে উদ্ধার
আল্লামা দুবাগী (রহঃ) ট্রাস্টের পক্ষ থেকে রমজানের খাদ্যপ্যাকেট বিতরণ।
চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে লঞ্চ থেকে ১০৪ যাত্রীকে উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড
রাণীনগরে প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহারের নগদ অর্থ ও শাড়ী-থ্রিপিস বিতরণ
এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার
দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ১০লক্ষাধিক টাকার অবৈধ ভারতীয় ওষুধ ও বিড়ি উদ্ধার
দৌলতপুরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী তেল নাই ॥ 