রবিবার ● ২১ ডিসেম্বর ২০২৫
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » ছাতকে পিডিবির সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ-বাণিজ্য
ছাতকে পিডিবির সহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ-বাণিজ্য
” মিটার লক-খোলা থেকে লাইন সংস্কার—সবখানেই দালালচক্রের দৌরাত্ম্য ”
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি :
![]()
ছাতকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আজিমের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে—টাকা ছাড়া কোনো সেবাই পাচ্ছেন না বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। মিটার লক-খোলা, বকেয়া বিল আদায়, পুরনো লাইন সংস্কার, খুঁটি বদল, ট্রান্সফরমার সংযোগ—সবকিছুই চলছে নির্দিষ্ট দালালচক্রের মাধ্যমে।
কালারুকা ও জাউয়াবাজার রাউলি ফিডারের ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালনরত আব্দুল আজিম সুনামগঞ্জ সদর থেকে বদলি হয়ে ছাতকে যোগদানের পর থেকেই এই অনিয়ম আরও ভয়াবহ রূপ নেয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। পিডিবি অফিসে অবৈধ ঘুষ লেনদেন নিয়ে একাধিকবার হাতাহাতির ঘটনাও ঘটেছে।
জানা গেছে, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আজিমের নেতৃত্বে অফিসের কম্পিউটার অপারেটর আল আমিন, অবসরপ্রাপ্ত লাইনম্যান মুজিবুর রহমানসহ কয়েকজন কর্মচারী ও কিছু জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে ৫ জনের একটি শক্তিশালী দালালচক্র গড়ে তোলা হয়েছে। এই চক্রের মাধ্যমে ১২ মিটার ফুল খুঁটি ৬১টি, ৯ মিটার ফুল খুঁটি ২৫৭টি এবং ১২টি ট্রান্সফরমার সংযোগ দেখিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
ছাতক, কালারুকা, গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও, দক্ষিণ খুরমা, জাউয়াবাজার, শান্তিগঞ্জ, বিশ্বনাথ ও দোয়ারাবাজার—এই দুই উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের কয়েক হাজার গ্রাহক পুরনো বিদ্যুৎ লাইন মেরামত ও সংস্কারের নামে লাখ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী এসব কাজ বিনামূল্যে করার কথা।
অভিযোগের মাত্রা বাড়ায় গত ২০ ডিসেম্বর বিদ্যুৎ উপদেষ্টা, বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পিডিবির চেয়ারম্যান, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পিডিবির প্রকল্প চেয়ারম্যানসহ ঢাকার ও সিলেট বিভাগের ২০টি দপ্তরে দুই শতাধিক মানুষের স্বাক্ষরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগপত্রে মহরম আলী, আব্দুল করিম, আব্দুল কাদিরসহ স্থানীয় বাসিন্দারা বিস্তারিত অনিয়মের বর্ণনা দেন।
গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের সুহিতপুর এলাকার এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হলেও সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে মাত্র নামমাত্র অর্থ—বাকি টাকা প্রকৌশলীর পকেটে গেছে বলে অভিযোগ। সুরমা নদীর সেতুর পাশে মোশাহিদ আলীর ট্রান্সফরমার থেকে আল আমিনের পাজু এলটি লাইনে ৬টি খুঁটি বসাতে নেওয়া হয় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা। দৌলতপুর ট্রান্সফরমার সংযোগে নেওয়া হয় আরও ২ লাখ টাকা।
অভিযোগ রয়েছে—গ্রাহকদের কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয়। এই ভাগ-বাটোয়ারা নিয়েই একাধিকবার অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
ছাতক, দোয়ারাবাজার ও বিশ্বনাথে প্রায় ৫০ হাজার বিদ্যুৎ গ্রাহক প্রতিদিন অফিসে গিয়ে চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন। মিটার লক খুলতে হলে দফতরে ধরনা দিতে হয়, আর ইচ্ছেমতো ল্যাপটপ থেকেই সার্ভারের লক খুলে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। আরও ভয়াবহ অভিযোগ—প্রিপেইড মিটারের ২০ হাজার ৩০০ গ্রাহকের গোপন নম্বর একজন বেসরকারি লাইনম্যানের কাছে সংরক্ষিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিজের দুর্নীতি আড়াল করতে নানা কৌশলে দৌড়ঝাঁপ চালাচ্ছেন এই বিতর্কিত প্রকৌশলী। তার বিরুদ্ধে ওঠা একের পর এক অভিযোগ ইতোমধ্যে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।
এব্যাপারে সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল আজিমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন বলে ফোন কেটে দেন।
বিষয়: #কোটি #ঘুষ #ছাতক #টাকা #পিডিবি #প্রকৌশলী #বাণিজ্য #বিরুদ্ধে #সহকারী










মহম্মদপুরে প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় শিবির কর্মী আটক, এলাকায় চাঞ্চল্য
দুই বাস মালিক সমিতির দ্বন্দ্বে অচল হবিগঞ্জ-সিলেট রুট: এক সপ্তাহ ধরে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা, সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি
খালি থালা হাতে সিলেটে হাজারো হকারের সড়ক অবরোধ, যান চলাচল স্থবির
যশোর জেলা যুবলীগের সভাপতি মোস্তফা ফরিদ আহমেদ চৌধুরী গ্রেপ্তার
হবিগঞ্জ বাস সিন্ডিকেটের বিষবৃক্ষ: জাহিদুলের বিচার ও সাধারণ মালিকদের মুক্তির সংগ্রাম
দীর্ঘ ৮ বছরের তদন্ত শেষে বিচারের আওতায় ধর্মীয় নেতা: যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কর ফাঁকির অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেন অ্যাঞ্জেলা রেনার: ব্রিটিশ রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের আভাস
সিলেটে এসএ পরিবহনে পুলিশের হানা: ৭০ বস্তা চোরাই জিরাসহ ট্রাক আটক, নেপথ্যে সাংবাদিক!
বড়লেখায় শিশুকে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগে দোকানদার আটক
৩ বিলিয়ন ডলারের পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন: দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ‘লাইফলাইন’ নাকি নতুন পরিবেশগত ঝুঁকি? 