সোমবার ● ৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » দেশব্যাপী সংবাদ » হাওর রক্ষাবাঁধে পাউবো ও প্রশাসনের দুর্নীতির প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুরে গণসমাবেশ
হাওর রক্ষাবাঁধে পাউবো ও প্রশাসনের দুর্নীতির প্রতিবাদে শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুরে গণসমাবেশ
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ::
![]()
হাওর রক্ষা বাঁধে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ৩ নির্বাচনী এলাকার শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় পৃথক পৃথক গণ-সমাবেশ কর্মসূচি পালন করেছে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (৬ এপ্রিল) বিকাল ৩ টায় জগন্নাথপুর বাজারে ২য় গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জগন্নাথপুর উপজেলার আহ্বায়ক রুবেল ভূইয়া’র সভাপতিত্বে ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব কাইয়ূম আহমদ।
বক্তব্য রাখেন নলুয়ার হাওরের কৃষক নুর আলম, আফজাল হোসেন, জুনেদ আহমদ ভুইয়া, আমির হোসেন, আনসার ভুইয়া, আনা মিয়া,মহিয়ার হাওরের কৃষক আখলুস মিয়া,দেলোয়ার হোসেন জগন্নাথপুর উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ আলী আকবর, উপজেলা কমিটির সদস্য শাহিনুর রহমান, জুনেদ আহমদ, ফয়সল, আশিক, শিফাত আহমদ, পাঠলী ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির চৌধুরী, সমাজকর্মী শাহাজাহান ও মুরাদ চৌধুরী প্রমূখ।
একইদিন সোমবার সকাল ১১ টায় জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাগলা বাজারে প্রথম গণ-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের শান্তিগঞ্জ উপজেলার আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইমদাদ হোসেনের সভাপতিত্বে ও জেলা সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওবায়দুল হক মিলনের সঞ্চালনায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার সদস্য সচিব আহমদ উসমান।
বক্তব্য রাখেন দেখার হাওরের কৃষক আসাব আলী, মোঃ গৌছ উদ্দিন, আসলম উদ্দিন, জয়নাল আবেদীন, আজির উদ্দিন,উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক রেদুয়ান আহমেদ, উপজেলা কমিটির সদস্য ইমরানুল হাসান, লায়েক আহমদ, জয়কলস ইউনিয়ন কমিটির আহ্বায়ক রুয়েল আহমদ, পূর্ব পাগলা ইউনিয়ন কমিটির সদস্য সচিব খসরু মিয়া, সমাজকর্মী কিবরিয়া,আজাদ আহমদ,মনসুর উদ্দিন,আজির উদ্দিন, রুহুল মিয়া ও আতিকুর রহমান রাহিম প্রমূখ।
পৃথক দুটি সমাবেশে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের জেলা কমিটির সভাপতি মো. রাজু আহমেদ, সহ সভাপতি ওবায়দুল মুন্সী।
বক্তারা বলেন, জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওর,মহিয়ার হাওর ও শান্তিগঞ্জের দেখার হাওরসহ দুই উপজেলার অন্যান্য হাওরে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতায় বহু কৃষকের ধান তলিয়ে গেছে, সাথে তাদের স্বপ্নও তলিয়ে গেছে।
তাদের ক্ষতিপূরণ নিরুপন করে ক্ষতিপূণ দিতে হবে। এই দুই উপজেলায় খাল নদী খনন দ্রুত শুরু করতে হবে। বিশেষ করে নলজুর নদী ও কালনি নদী খনন জরুরি। হাওর রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পিআইসি গঠন থেকে শুরু করে কাজের প্রাথমিক পর্যায়েই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিয়মান ছিলো। অতিরিক্ত বরাদ্দ, নিম্নমানের কাজ এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন নিয়মিতভাবে কাজ করছে।
তারা আরও জানান, বিভিন্ন পিআইসি পরিদর্শন করে অনিয়মের তথ্য ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে কিন্তু দৃশ্যমান কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে দেখিনি।
পাশাপাশি বক্তারা আরো বলেন অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মানের ফলে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলায় হাজার হাজার হেক্টর বোরো ফসলি জমি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কৃষকরা সেই ধান আর রক্ষা করতে পারবেন কিনা শঙ্কায় আছেন। এই অপরিকল্পিত বাঁধ ও অপ্রয়োজনীয় পিআইসির কারণে কৃষকদের যে ক্ষতি হয়েছে, যারা এই অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি প্রদান করতে হবে এবং সুনামগঞ্জ থেকে তাদের অপসারণ করতে হবে।
এদিকে জাতীয় দৈনিক যুগান্তরসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ উঠেছে জগন্নাথপুর উপজেলায় সর্বোচ্চ ৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৭টি পিআইসি অনুমোদনের নামে অতিরিক্ত বরাদ্দ মঞ্জুর করতে গিয়ে প্রতিটি পিআইসি হতে আগাম ঘুষ গ্রহন করা হয়েছে।
অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মোহাম্মদ আব্দুর রকিব পাঠাপারেটর আব্দুর রকিব পাঠান ও নাজির মিজানের মাধ্যমে প্রতিটি পিআইসি থেকে আগাম ঘুষ নিয়ে বাণিজ্য করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নাজির মিজানের মাধ্যমে পিআইসি বাণিজ্য করে ঘুষ গ্রহন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বরকত উল্লাহ (পরিচিতি নং ১৮২৫৪)। ।
জেলার শান্তিগঞ্জ উপজেলায় বাপপুত ও চাচা ভাতিজার পারিবারিক পিআইসির মাধ্যমে দায়সারাভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কাজ। ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি,ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে কোথায়ও কোথায়ও ‘পকেট কমিটি’ গঠনের অভিযোগের যেন শেষ নেই। প্রায় ১২টি অপ্রয়োজনীয় (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) পিআইসি গঠনের মাধ্যমে সরকারের বরাদ্দ লুটতরাজ করা হয়েছে।
জানা গেছে,শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সর্বাধিক ৬৭টি পিআইসি অনুমোদন করা হয়। অথচ তুলনামূলকভাবে আগের বছরগুলিতে সম্পাদিত বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত কার্যক্রম অনেকাংশে অক্ষত ছিল।
তাছাড়া গতবছর বন্যা না হওয়ায় পূর্বের বছরের অনেক পিআইসির আওতায় নির্মিত বাঁধ বিনষ্ট হয়নি। এবার শুধুমাত্র মাটির প্রলেপ দিয়ে আংশিক মেরামত করত: পিআইসির নামে বরাদ্দকৃত অর্থ পকেটভারী করছেন জেলা মনিটরিং কমিটির একজন সদস্য,পাউবোর কর্মকর্তা,উপজেলা প্রশাসনের কর্মচারী ও তাদের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী (এসও) মনিরুজ্জামান মোহন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর সৌরভ রায় পার্থ,প্রতিটি পিআইসির সভাপতির কাছ থেকে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আগাম ঘুষ নিয়ে অপ্রয়োজনীয় পিআইসি গঠনপূর্বক অতিরিক্ত বরাদ্দ মঞ্জুর করে প্রতিভূ লোকদের দিয়ে পিআইসি অনুমোদন করে নিয়েছেন বলেও কোন কোন ভূক্তভোগীরা জানিয়েছেন।
বিষয়: #গণসমাবেশ #জগন্নাথপুর #দুর্নীতি #পাউবো #প্রতিবাদ #প্রশাসন #রক্ষাবাঁধ #শান্তিগঞ্জ #হাওর










বগুড়া-৬ (সদর) উপ-নিবাচনে উন্নয়নের প্রতীক ধানের শীষ মার্কায় বাদশাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করুন-সাবেক এমপি লালু
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা অনুষ্ঠিত
টেকনাফে কোস্টগার্ডের অভিযানে ১৫ হাজার ইয়াবাসহ দুই মাদক পাচারকারী আটক
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ নদী ভাঙন: উজান লালপুর বাজার বিলীন।
রাণীনগরে মাদকের আসরে ভ্রাম্যমান আদালতের হানা ।। যুবকের কারদন্ড
আত্রাইয়ে ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে পুলিশ সদস্যের দুই পা- বিচ্ছিন্ন
সীতাকুণ্ডে কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে বালু উত্তোলনকালে ড্রেজারসহ আটক ৫
৪০ জন বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করতে সিআরপি ও মেটলাইফ ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান
হাওর রক্ষা বাঁধে পাউবো ও প্রশাসনের অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জ ও জামালগঞ্জে গণ-সমাবেশ 