শিরোনাম:
ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ১৩ মাঘ ১৪৩২
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বজ্রকণ্ঠ "সময়ের সাহসী অনলাইন পত্রিকা", ঢাকা,নিউ ইয়র্ক,লন্ডন থেকে প্রকাশিত। লিখতে পারেন আপনিও। বজ্রকণ্ঠ:” সময়ের সাহসী অনলাইন পত্রিকা ” আপনাকে স্বাগতম। বজ্রকণ্ঠ:: জ্ঞানের ঘর:: সংবাদপত্র কে বলা হয় জ্ঞানের ঘর। প্রিয় পাঠক, আপনিও ” বজ্রকণ্ঠ ” অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ” বজ্রকণ্ঠ:” সময়ের সাহসী অনলাইন পত্রিকা ” কে জানাতে ই-মেইল করুন-ই-মেইল:: [email protected] - ধন্যবাদ, সৈয়দ আখতারুজ্জামান মিজান

Bojrokontho
সোমবার ● ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » বিশেষ » শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি
প্রথম পাতা » বিশেষ » শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি
৩৩ বার পঠিত
সোমবার ● ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি

ড. মাহরুফ চৌধুরী ::

শিক্ষকতা: নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতি
শিক্ষা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনে একজন শিক্ষকের ন্যূনতম তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হয়। প্রথমটি হলো শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা (সেইফ গার্ডিং), দ্বিতীয়টি হলো শিক্ষার্থীর মানসিক ও সামাজিক কল্যাণে সজাগ ও সহানুভূতিশীল থেকে তাকে সাহায্য করা (পাস্টোরাল কেয়ার), এবং তৃতীয়টি হলো শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত চাহিদা ও সম্ভাবনার প্রতি সংবেদনশীল থেকে শেখার প্রক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা (টিচিং)। এই দায়িত্বগুলো কোনো যান্ত্রিক বা প্রাতিষ্ঠানিক নিয়মতালিকার অংশ নয়; বরং তারা একটি অন্তর্গত নৈতিক বন্ধনে আবদ্ধ, যার প্রথম দু’টির অনুপস্থিতি শেষেরটির কার্যকারিতা ও বৈধতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। এই তিনটি দায়িত্ব একত্রে সামগ্রিক শিক্ষাদান প্রক্রিয়ার ভিত্তি স্থাপন করে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা কেবল শারীরিক সুরক্ষায় সীমাবদ্ধ নয়, এটি তার মানসিক নিরাপত্তা, পরিচয়ের স্বীকৃতি ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানকেও নিশ্চিত করাকে বোঝায়। যেখানেই এই নিরাপত্তা ব্যাহত হয়, সেখানেই শেখার পরিবেশে বিষ ছড়িয়ে পড়ে। আবার শিক্ষার্থীর সামাজিক-আবেগিক কল্যাণের প্রতি শিক্ষক যদি নিস্পৃহ থাকেন, কিংবা তাঁর মধ্যে সহানুভূতির অভাব দেখা দেয়, তবে শিক্ষাদান নিছক তথ্য পরিবেশনের একপেশে প্রয়াসে পরিণত হয়, যার মধ্যে জীবন গঠনের আকাঙ্ক্ষা ও অনুপ্রেরণা অনুপস্থিত থাকে।
প্রখ্যাত ব্রাজিলিয়ান শিক্ষাবিদ পাওলো ফ্রেইরে তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ‘নিপীড়িতের শিক্ষা’ (প্যাডাগোজি অব দ্য অপ্রেসড)-এ বলেছিলেন, ‘পরিচয়ের অনুভূতি ছাড়া, মুক্তির জন্য প্রকৃত সংগ্রাম হতে পারে না’। একজন শিক্ষকের যদি শিক্ষার্থীর অস্তিত্ব, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা না থাকে, তবে তাঁর শিক্ষা চর্চা শুধুই প্রভুত্বমূলক হয়ে ওঠে, মুক্তি বা স্বাধীনতার নয়। এই প্রেক্ষাপটে বলা যায়, শিক্ষকের নৈতিক অবস্থান তাঁর মানবিক প্রতিশ্রুতি দ্বারা নির্ধারিত হয়। তিনি কেবল পাঠদান করেন না, বরং একেকজন শিক্ষার্থীর জীবনে নীরব অভিভাবকের মতো উপস্থিত থাকেন, বিশেষ করে একজন আশ্রয়দাতা, পথপ্রদর্শক ও সহযাত্রী হিসেবে। তাই, শিক্ষকতার এই তিনটি মৌলিক দায়িত্বের যে কোনো একটি অবহেলার অর্থ শিক্ষক হিসেবে শুধু পেশাগত ব্যর্থতা নয়, বরং নৈতিক বৈকল্যও বটে। যেখানে নৈতিক দায়বদ্ধতা অনুপস্থিত, সেখানে শিক্ষা নয়, বরং ক্ষমতার অনুশীলনই মুখ্য হয়ে ওঠে। শিক্ষকতার প্রকৃত মূল্যবোধ তাই নির্ধারিত হয় এই প্রশ্নে যে, আমি আমার ছাত্রের নিরাপত্তা, কল্যাণ ও উন্নয়নের জন্য কতটা দায় অনুভব করি?
শিক্ষকের দায়িত্ব কখনোই কেবল শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং তা শ্রেণিকক্ষের চার দেয়ালের বাইরে বিস্তৃত এক মানবিক জগতেও তাঁর দায়িত্বের পরিধি প্রসারিত হয়। পাঠদান শিক্ষকতার একটি মৌলিক উপাদান হলেও, তা কেবল বাহ্যিক কাঠামোর দৃশ্যমান কর্মকান্ড। অন্তরের পরিসরে, একজন শিক্ষক হয়ে ওঠেন এক ‘নিরাপদ মানুষ’ ও ‘আশ্রয়স্থল’ যার উপস্থিতিতে একজন শিক্ষার্থী নিজের অস্তিত্ব, কৌতূহল, ভুল এবং স্বপ্ন নিয়ে নির্ভয়ে আশ্রয় নিতে পারে। এই বিশ্বাস ও নির্ভরতার জগতেই গড়ে ওঠে এক সুস্থ শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক, যার ভিত্তি শুধুই একতরফা জ্ঞানের স্থানান্তর নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান, সহানুভূতি ও মানবিক সংযোগ। যখন শিক্ষার্থী তার শিক্ষকের মধ্যে কেবল একজন ‘জ্ঞানদাতা’ নয়, বরং একজন শ্রোতা, একজন সহানুভূতিশীল অভিভাবক, এবং একজন আত্মার দার্শনিক বন্ধুকে আবিষ্কার করে, তখন তার মধ্যে শেখার ইচ্ছা প্রকৃত অর্থেই জাগ্রত হয়। আত্মবিশ্বাসের যে আলো তার মধ্যে তখন উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, তা শুধু পরীক্ষার ফলাফলে নয়, বরং তার আত্মপরিচয়, মূল্যবোধ ও সামাজিক বোধে প্রতিফলিত হয়। সে ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে ধ্যানে, জ্ঞানে ও মননে এমন এক নাগরিক হিসেবে, যে শুধু নিজের জন্যই নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণের দিকেও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
এই প্রসঙ্গে আলবার্ট আইনস্টাইনের অভিমত বিশেষভাবে স্মরণীয়। তাঁর মতে, সৃজনশীল প্রকাশ এবং জ্ঞানের মধ্যে আনন্দ জাগ্রত করা শিক্ষকের সর্বোচ্চ শিল্প। একজন প্রকৃত শিক্ষক সেই শিল্পী, যিনি কেবল শিক্ষার্থীর মস্তিষ্ক নয়, তার হৃদয় ও কল্পনাশক্তিকেও জাগিয়ে তোলেন। সেই জাগরণেই জন্ম নেয় মুক্ত চিন্তা, ন্যায়বোধ এবং বিবেকের সক্রিয়তা যা একটি সমাজের সজাগ, দায়িত্বশীল ও প্রগতিশীল নাগরিক তৈরির পূর্বশর্ত। শিক্ষকের এই ভূমিকাকে কেউ কেউ ‘অদৃশ্য কারিগর’-এর সঙ্গে তুলনা করেছেন। কারণ তিনি যে বীজ বপন করেন, তাৎক্ষণিকভাবে তার ফল দৃশ্যমান না হলেও, ভবিষ্যতের একটি ন্যায্য ও মানবিক সমাজ নির্মাণে তার প্রভাব অপরিসীম। এই অদৃশ্য শ্রমের ফলাফল পেতে হয়তো সময় নেয়, কিন্তু একজন শিক্ষার্থীর জীবন যখন আলোর দিকে এগিয়ে যায়, তখন তার প্রতিটি পদক্ষেপেই থাকে তার শিক্ষকের অদৃশ্য ছায়া।
তবে এই মূল্যবান কথাগুলো এখন আর কেবল পাঠ্যসূচির অন্তর্গত নীতিনির্দেশ বা শিক্ষকতা সংক্রান্ত তাত্ত্বিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখার সময় নয়। এগুলো অনুসরণ করে কর্মকান্ড পরিচালনা করা আজ এক কঠোর বাস্তবতা, সময়ের জোরালো দাবি। কারণ আজ যখন আমরা দেখি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যা একসময় শিক্ষার্থীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল, তা নানা কারণে নিরাপত্তাহীনতার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। যখন কিছু কিছু ঘটনায় শিক্ষকদের নীরবতা, নির্লিপ্ততা বা ক্ষেত্রবিশেষে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা প্রশ্নের মুখে পড়ছে, তখন কেবল কণ্ঠে শিক্ষার মূল্যবোধ জপে যাওয়ায় আর কোনো মুক্তি নেই। প্রয়োজন নতুন করে দায়বদ্ধতার পুনর্মূল্যায়ন, নৈতিক অবস্থানের সাহসী পুনর্নির্মাণ। আজকের দিনে, যখন শিক্ষার্থীরা শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়, যখন প্রতিষ্ঠানগুলো অভ্যন্তরীণ ন্যায্যতা ও মানবিক আচরণের জায়গায় কখনও ক্ষমতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়, তখন একজন শিক্ষক হিসেবে চোখ বুজে থাকা মানে শুধু দায়িত্ব এড়ানো নয় বরং তা মানবিক মূল্যবোধের সাথে বিশ্বাসঘাতকতার নামান্তর। নীতিগতভাবে নিরপেক্ষ থাকা এই পরিস্থিতিতে আসলে এক ধরনের সক্রিয় নীরবতা, যা অন্যায়ের পক্ষে পক্ষপাত তৈরি করে।
ঐতিহাসিকভাবে দেখা যায়, সমাজের যেকোনো সংকটকালে শিক্ষকগণ ছিলেন মূল্যবোধের ধারক ও বাহক। প্রাচীন গ্রীসে সক্রেটিস যেমন তরুণদের যুক্তি ও নৈতিক প্রশ্নবোধে জাগ্রত করে আত্মিক মুক্তির পথ তৈরি করেছিলেন, তেমনি ভারতীয় উপমহাদেশে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিক্ষাদর্শনেও মানবিকতা ছিল শিক্ষা প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দু। তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি একথাই শিক্ষা দেয় যে, একজন শিক্ষক কেবল শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করেই দায়িত্ব শেষ করেন না, তিনি সমাজের বিবেক হিসেবে কাজ করেন। আজকের সময়ে এই ভূমিকার পুনরুজ্জীবন একান্ত প্রয়োজন। এখন শিক্ষকতা মানেই শুধু পেশাগত দক্ষতা নয়, বরং সামাজিক ও নৈতিক নেতৃত্বের দাবিও বহন করা। কারণ শিক্ষকদের অবস্থান একটি সমাজে কেবল বিদ্যাদানের নয়, বরং ন্যায়-অন্যায়, মানবিকতা- পাশবিকতার পার্থক্য শেখানোর অনন্য সুযোগও। এই মুহূর্তে সেই ভূমিকার সাহসী পুনর্নির্মাণ, নতুনভাবে আত্মস্থ করা এবং যথাযোগ্য অনুশীলন একান্ত জরুরি। তা না হলে শিক্ষকতা তার নৈতিক জ্যোতি হারিয়ে ফেলবে, যা একটি জাতির জন্য গভীর অন্ধকার ডেকে আনবে।
আপনি যদি শিক্ষক হন, কিংবা নিজেকে শিক্ষক ভাবেন, তাহলে নিজেকে জিজ্ঞেস করুন: আপনি কি সত্যিই আপনার পেশাগত জীবনে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক ও অতীতের ঘটনাগুলোর দিকে চোখ ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখার চেষ্টা করেছেন? ভেবেছেন কি, যে সকল ঘটনাপরম্পরায় শিক্ষার্থীরা আহত, অবমানিত বা নিপীড়নের শিকার হয়েছে, সেই ঘটনাগুলোর নেপথ্যে আপনি কোথায় ছিলেন? আপনি কি একজন প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন, না নিছক একজন দূরদর্শী পর্যবেক্ষক, যিনি নিরাপদ দূরত্বে দাঁড়িয়ে কেবল মাথা নেড়ে ঘটনাপ্রবাহের সাক্ষী হয়ে থেকেছেন? আপনি কি তাদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিল, নাকি নিজের অবস্থান ‘নিরপেক্ষতা’ বলে আড়াল করে নিয়েছিলেন সুবিধাজনক এক নির্লিপ্ততার মধ্যে? যদি এমন কোনো মুহূর্তে আপনি এমন এক জায়গায় ছিলেন, যেখানে অন্যায়ের ছায়া দীর্ঘ হয়েছিল, যেখানে কণ্ঠরোধের আতঙ্ক ভর করেছিল, অথচ আপনি চুপ থেকেছেন তাহলে আপনাকে শিক্ষক হিসেবে বিবেচনা করার আগে, নিজের বিবেকের দরজায় কড়া নাড়তে হবে। কারণ শিক্ষকতা শুধু পাঠ্যবই পড়ানো নয়, এটি একটি নৈতিক অবস্থান, এক ধরনের মূল্যবোধ-ভিত্তিক নাগরিক দায়িত্ব।
এই প্রসঙ্গে মার্কিন লেখক জেমস বোল্ডউইনের কথা স্মরণ করা যেতে পারে। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যা কিছুর মুখোমুখি হই তার সবকিছুই পরিবর্তন করা যায় না; কিন্তু যতক্ষণ না আমরা কোনকিছু মোকাবেলা করি, ততক্ষণ কিছুই পরিবর্তন করা যায় না’। শিক্ষক হলেন তাঁর শিক্ষার্থীদের কাছে জীবন্ত উদাহরণ ও প্রেরণার উৎস। সবকিছু হয়তো একা একজন শিক্ষক বদলে দিতে পারবেন না, কিন্তু অন্যায়ের মুখোমুখি না হয়ে, তাকে উপেক্ষা করে, শিক্ষা কখনোই মুক্তির দিশা দেখাতে পারে না। তখন শিক্ষা হয়ে পড়ে প্রথার চর্চা, আর শিক্ষক হয়ে ওঠেন কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী মুখপাত্র যার মধ্যে মানবিকতা, প্রতিবাদ কিংবা নৈতিক অবস্থান বলে কিছুই থাকে না। তাই শিক্ষক হিসেবে আমাদের আত্মপরিচয়ের পরীক্ষা হয় সংকটের সময়েই। যে শিক্ষক অন্যায়ের মুখোমুখি দাঁড়াতে পারেন না, শিক্ষার্থীর যন্ত্রণার ভাষা শুনতে পারেন না, অথবা প্রতিষ্ঠানিক স্বার্থরক্ষার মোড়কে মৌনতার আশ্রয় নেন, তিনি শিক্ষা নামক পবিত্র দায়িত্বের বিপরীতে আত্মসমর্পণ করেন ক্ষমতার কাছে কিংবা নিজের স্বার্থে কাছে। ফলে তাঁকে নিজের পরিচয়, নিজের ভূমিকা ও নিজের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন করতেই হবে। নইলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে জেগে ওঠা ‘শিক্ষার উপর বিশ্বাস’ নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।
একজন শিক্ষক কেবল তথ্যের বাহক নন; তিনি হলেন বিবেকের দীপশিখা। সেই আলো নিভে গেলে সমাজ অন্ধকারে ডুবে যায় আর সেই দায় কার, তা নির্ধারণের জন্য খুব বেশি দূরে তাকাতে হয় না। তাকাতে হয় কেবল আয়নায়। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষকতা নিছক একটি পেশা নয়; এটি একটি আদর্শিক অবস্থান, এক গভীর মানবিক অঙ্গীকার। এটি এমন কোনো পেশাগত পথ নয়, যেখানে কেবল নির্দিষ্ট সময়ের বিনিময়ে নির্দিষ্ট কাজ সম্পন্ন করে দায়িত্ব শেষ হয়। বরং এটি এমন এক অভিযাত্রা, যেখানে একজন মানুষ আরেকজন মানুষের মনের দরজায় কড়া নাড়ে, তাকে জাগিয়ে তোলে, এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ নির্মাণের বীজ বপন করে। শিক্ষকতা মানে শুধু পাঠ্যবই পড়ানো নয়; এর অর্থ জীবন সম্পর্কে পড়ানো তথা আত্মমর্যাদা, সংবেদনশীলতা ও বিবেকের পাঠ শেখানো। এখানে প্রতিটি পাঠের অন্তরালে থাকে মানবিকতা, প্রতিটি উত্তরের অন্তর্নিহিত থাকে প্রশ্ন করার সাহস, আর প্রতিটি সংলাপের মধ্যে লুকিয়ে থাকে ভবিষ্যতের ন্যায়পরায়ণ নাগরিক গড়ার প্রেরণা। যে শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীদের কেবল পরীক্ষায় পাস করাতে চান, তিনি শিক্ষকতার বাইরের খোলসটাকে ছুঁয়ে যান মাত্র। কিন্তু যিনি তাঁদের মনে প্রশ্ন জাগাতে চান, তাঁদের হৃদয়ে প্রতিবাদের আগুন জ্বালাতে চান, তাঁদের আত্মায় মানবিকতার বীজ রোপণ করতে চান তিনিই তো প্রকৃত শিক্ষক।
শিক্ষকতার এই পেশাগত শিক্ষাদর্শনের রূপকাররা ইতিহাসে অগণিত। সুভাষ মুখোপাধ্যায় তাঁর কবিতায় বলেছিলেন, ‘শিক্ষা মানে শুধু পরীক্ষা নয়, শিক্ষা মানে যুদ্ধ’। এ যুদ্ধ অজ্ঞতার বিরুদ্ধে, নিপীড়নের বিরুদ্ধে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে। একজন শিক্ষক তাঁর শ্রেণিকক্ষকে একটি মুক্ত আলোচনার মঞ্চে পরিণত করেন, যেখানে ছাত্র শুধু শুনতে, বলতে, পড়তে ও লিখতে শিখে না, সাথে সাথে ভাবতে শেখে; শুধু বোঝে না, প্রশ্ন তোলে; শুধু অনুসরণ করে না, নিজ উদ্যোগে পথ খুঁজে নেয়। এইভাবে শিক্ষকতা হয়ে ওঠে এক মহৎ প্রতিশ্রুতি যা শুধু বিদ্যাদানের নয়, বরং ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে দাঁড়াবার প্রতিশ্রুতি। একজন শিক্ষক তাঁর নিজের অস্তিত্ব দিয়ে শিক্ষার্থীদের শেখান কিভাবে সবলের বিপরীতে দুর্বলের পক্ষে দাঁড়াতে হয়, কিভাবে নিজের কণ্ঠকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সজীব রাখতে হয়, কিভাবে নিপীড়নের মুখেও মানবিক অটলতা ধরে রাখতে হয়। এই প্রতিশ্রুতি ব্যক্তিগত ঝুঁকির মধ্যেও আদর্শকে অগ্রাধিকার দিতে শেখায়; এটিই শিক্ষকতার মর্মবস্তু। বর্তমান সময়ের অস্থির, বৈষম্যপূর্ণ সমাজে, যেখানে তথ্যের আধিক্য আছে কিন্তু নীতির সংকট প্রকট, সেখানে একজন শিক্ষক তাঁর বিবেক, সাহস ও সহানুভূতির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে শুধু পথ দেখান না, শিক্ষার্থীদের জন্য তিনি হয়ে ওঠেন আলো বহনকারী, নীরব বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী।
একজন প্রকৃত শিক্ষক তাঁর উপস্থিতিকে শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল পাঠদানের মাধ্যম নয়, বরং একটি আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে তোলেন। এই আশ্রয় নিছক শ্রেণিকক্ষের চার দেওয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি এক ধরনের মানসিক, মানবিক ও নৈতিক নিরাপত্তাবোধ, যা শিক্ষার্থীর আত্মবিশ্বাস, আত্মমর্যাদা এবং স্বপ্নের ভিত্তি নির্মাণ করে। শিক্ষার্থীরা যখন তাঁর চোখের দিকে তাকায়, তখন তারা খুঁজে পায় এক ধরণের নিশ্চিন্ত ভরসা; তাঁর কণ্ঠে শুনতে পায় ন্যায়বোধের এক স্থির, অবিচল উচ্চারণ; আর তাঁর অবস্থানে তারা দেখতে পায় এক দৃঢ় নৈতিক অবস্থান, যা কোনো চাপে, কোনো সুবিধার মোহে বিচলিত হয় না। এই বিশ্বাস, এই নির্ভরতা একদিনে জন্মায় না, এবং পাঠদানের নিপুণতা দিয়ে একে অর্জনও করা যায় না। এর জন্য প্রয়োজন হয় হৃদয়ের প্রশস্ততা, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী তার পরিচয়, প্রেক্ষাপট, দুর্বলতা ও সম্ভাবনা নিয়ে সমান মর্যাদায় স্থান পায়। প্রয়োজন হয় নৈতিক বোধের দৃঢ়তা, যা শিক্ষককে ন্যায়ের পক্ষে অবিচল রাখে, এমনকি যখন তা অসুবিধাজনক বা জনপ্রিয় নয়। এবং সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় মানবিক সহানুভূতির গভীর চর্চা যার মাধ্যমে একজন শিক্ষক তাঁর শিক্ষার্থীর অদৃশ্য যন্ত্রণা, নিঃশব্দ সংকট এবং নিগূঢ় আকাঙ্ক্ষাকে অনুভব করতে পারেন।
এই প্রসঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার কথাটি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেছেন. ‘শিক্ষা হল সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র যা ব্যবহার করে তুমি পৃথিবী পরিবর্তন করতে পারো’। কিন্তু এই ‘অস্ত্র’ যদি একজন শিক্ষকের হাতেই থাকে, তবে তাঁর হৃদয় না থাকলে, তাঁর নৈতিকতা না থাকলে, তা আর পরিবর্তনের অস্ত্র নয় বরং তা হয়ে ওঠে নিছক তথ্য সঞ্চালনের যন্ত্র। একজন প্রকৃত শিক্ষক তাই জ্ঞানের বাহক নন শুধু, তিনি হয়ে ওঠেন করুণা, ন্যায় ও স্বপ্নের ধারক। শিক্ষার্থীরা শিক্ষককে যখন কেবল পাঠদাতা হিসেবে নয়, বরং এক মানবিক সত্তা হিসেবে দেখতে শেখে যিনি তাঁদের পাশে দাঁড়ান, তাঁদের মতামতকে মূল্য দেন, এবং তাঁদের সত্যিকার সম্ভাবনার খোঁজ করেন, তখনই গড়ে ওঠে শিক্ষা নামক সম্পর্কের গভীরতম বন্ধন। এই সম্পর্কের বুননেই জন্ম নেয় ভবিষ্যতের দায়িত্বশীল, নৈতিক ও মননশীল নাগরিক। প্রকৃতপক্ষে একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মিত হয় তার শিক্ষকদের হাত ধরে। সে কারণেই বলা হয়ে থাকে, ‘শিক্ষকেরাই জাতির কারিগর’। তারা কেবল ছাত্র নয়, গড়ে তোলেন ভবিষ্যতের নাগরিক, চিন্তক, নেতা, শিল্পী, নীতিনির্ধারক ও সমাজ-পরিবর্তক। তাই একজন শিক্ষক যখন সত্যিকার অর্থে দায়িত্বশীল হন, তখন তাঁর কর্মক্ষেত্র কেবল শ্রেণিকক্ষে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তাঁর স্নেহ, ন্যায়বোধ এবং নৈতিক অবস্থান দিয়েই তিনি সমাজের ভিত গড়ে তোলেন। একটি শিক্ষার্থী যদি তাঁর শিক্ষকের মধ্যে সাহস দেখে সত্যের পক্ষে দাঁড়াবার, অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খোলার, ন্যায় ও মানবিকতার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার সাহস তাহলে সেই শিক্ষার্থীও সাহসী হয়ে ওঠে। সাহস তখন সংক্রামিত হয়; শিক্ষা হয়ে ওঠে প্রতিবাদের, প্রতিবিম্বনের এবং প্রয়োজনে ক্ষমতাবানের বিপরীতে দাঁড়ানোর ভাষা।
শিক্ষক যদি ভালোবাসা দেন, যেটা নির্বাচনহীন, নিঃস্বার্থ ও আত্মিক ভালোবাসা, তাহলে শিক্ষার্থীর মধ্যে গড়ে ওঠে এক প্রকার বিশ্বাস, যা তাকে মানুষ হতে শেখায়। সেই ভালোবাসা থেকে জন্ম নেয় সহানুভূতি, ভ্রাতৃত্ব, পরোপকার এবং দায়িত্ববোধ। যেমন রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন, ‘শিক্ষা সেই, যা মানুষকে শুধু তথ্য দেয় না, মানুষ করে’। এই ‘মানুষ করে তোলা’র পেছনে সবচেয়ে বড় হাত একজন শিক্ষকেরই যিনি নিজে মানুষ হয়ে ওঠেন, এবং তাঁর ছাত্রদের মানুষ করে তোলেন। আর যখন একজন শিক্ষক ন্যায়বোধ শেখান তা শুধু কথায় নয়, তাঁর নিজের অবস্থানে, ব্যবহারে এবং নীরব প্রতিরোধে। তখন শিক্ষার্থীরা অনুধাবন করে সমাজ কেবল নিয়ম বা আইন দিয়ে চলে না; এর প্রাণশক্তি আসে ন্যায়, বিবেক ও সহানুভূতির মতো নৈতিক গুণাবলি থেকে। তখন শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে শুধু পেশাজীবী নয়, ন্যায়নিষ্ঠ নাগরিক হয়ে ওঠে যারা নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে বৃহত্তর কল্যাণের কথা ভাবে।
পারস্যের দার্শনিক সুফি কবি ও গণিতজ্ঞ রুমি এক জায়গায় লিখেছিলেন, ‘তুমি কি এখনও জানো না? তোমার আলোই পৃথিবীকে আলোকিত করে’। এই আলো, এই অন্তর্জাগতিক দীপ্তিই একজন শিক্ষক থেকে শিক্ষার্থীর হৃদয়ে প্রবাহিত হয়। আর সেখান থেকেই আলোকিত হয় একটি সমাজ, একদিন আলোকিত হয় একটি জাতি। এই কারণেই শিক্ষকতা কোনো চাকরি নয়, এটি একটি দায়িত্ব, একটি ত্যাগ, একটি নৈতিক অভিযাত্রা। সেই অভিযাত্রায় একজন শিক্ষক যখন তাঁর পথটিকে সত্য, সাহস ও ভালোবাসার আলোয় আলোকিত করেন, তখন তাঁর ছাত্রেরা শুধু পাস করে না, উত্তীর্ণ হয় মানুষ হয়ে ওঠার পরীক্ষায়। এই সময় যখন সমাজ নানা প্রতিকূলতা, বিভ্রান্তি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পথ খুঁজছে, যখন মূল্যবোধের সংকট, বিভাজনের রাজনীতি ও নিঃসংগত অন্যায় ঘনীভূত হয়ে উঠছে ঠিক তখনই একজন শিক্ষকের ভূমিকা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কারণ এই অস্থির সময়ে শিক্ষকই হতে পারেন স্থিরতার প্রতীক, নৈতিক পথপ্রদর্শক এবং মানবিক সংলাপের সূচনাকারী।
বর্তমান সময় আমাদের শিক্ষকতাকে কেবল পেশাগত দক্ষতা দিয়ে বিচার করতে দিচ্ছে না। এখন প্রয়োজন প্রতিটি শিক্ষকের নিজের ভূমিকা নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করা। তাঁর অবস্থান, নীরবতা, কিংবা অবস্থানহীনতাকে নৈতিক আত্মসমালোচনার চোখে নতুন করে দেখা। আত্মসমালোচনা ও আত্মপর্যালোচনার এই দায় এড়ানোর সুযোগ নেই, কারণ শিক্ষার্থীরা আর শুধু পাঠ শিখতে চায় না। তারা শিক্ষককে দেখে, বুঝতে চায় তাঁর অবস্থান, অনুধাবন করতে চায় তিনি সত্যের পক্ষে আছেন কিনা। শিক্ষকতার মূল হৃদয়ে রয়েছে এক ধরণের নৈতিক সাহস যা প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের চাপকে অগ্রাহ্য করে, সামাজিক প্রতিকূলতার সামনে দাঁড়ায়, এবং প্রতিটি অসহায় শিক্ষার্থীর কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠে। এই সাহসই শিক্ষককে শিক্ষক করে তোলে, নাহলে তিনি হয়ে ওঠেন কেবল একজন পাঠদাতা, যিনি পঠিত পাঠদানের বাইরে শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ হয়ে ওঠতে পারেন না।
এই প্রসঙ্গে স্মরণ করা যায় ভারতীয় শিক্ষাবিদ জে. কৃষ্ণমূর্তির একটি গভীর উপলব্ধির কথা। তাঁর মতে, ‘প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব বন্ধ হয়ে গেলেই প্রকৃত শিক্ষা লাভ হয়’। যেখানে প্রতিযোগিতা থেমে যায়, সেখানে শুরু হয় প্রকৃত শিক্ষা। এই শিক্ষা শুরু হয় তখনই, যখন একজন শিক্ষক নিজেকেই প্রশ্ন করতে শেখেন, নিজেকে বিবেকের মুখোমুখি দাঁড়ান: আমি যা বলছি, তা কি আমি নিজেই পালন করছি? আমি কি শিক্ষার্থীদের সামনে এমন এক মানবিক প্রতিমূর্তি তুলে ধরছি যা তারা অনুসরণ করতে পারবে? শিক্ষকতা তাই শুধুই শেখানো নয়, এটি প্রতিনিয়ত এই প্রশ্নগুলোর সম্মুখীন হওয়া যে, আপনি কি সত্যিই শিক্ষকের মতো আচরণ করছেন? আপনি কি কেবল একজন প্রতিষ্ঠান-নির্ভর পেশাজীবী, নাকি একজন আদর্শ-বাহক মানুষ? আপনি কি নীরব দর্শক, নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে অতন্ত্রপ্রহরী ও অটল কণ্ঠস্বর? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজা কষ্টদায়ক হতে পারে, কিন্তু এগুলোর মুখোমুখি হওয়া ছাড়া শিক্ষকতা পূর্ণতা পায় না। বরং এখান থেকেই শিক্ষকতার পুনর্জাগরণ শুরু হয় যেখানে সাহস, সহানুভূতি এবং ন্যায়বোধ মিলিয়ে গড়ে ওঠে এমন এক ভূমিকা, যা বদলে দিতে পারে শুধু শ্রেণিকক্ষ নয়, পুরো সমাজকেও।
শিক্ষকতা কখনোই কেবল পেশাগত দায়িত্ব পালনের আরামদায়ক ছায়াতলে আশ্রয় নেওয়া নয়; এটি একটি সচেতন নৈতিক অবস্থান, একটি জীবন্ত মানবিক প্রতিশ্রুতি, যা প্রতিনিয়ত আত্মসমালোচনার আয়নায় নিজেকে যাচাই করে। শিক্ষক কেবল সেই মানুষটি নন, যিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠ দেন; তিনি সেই মানুষ, যাঁর উপস্থিতি একজন শিক্ষার্থীর জীবনবোধ, ন্যায়ের অনুভব এবং মানবিক আত্মসচেতনতার ভিত গড়ে তোলে। আজকের বাস্তবতায়, যখন সমাজ জর্জরিত বৈষম্য, সহিংসতা ও মানবিক বিচ্যুতিতে, তখন একজন শিক্ষকই পারেন সেই আলোকবর্তিকা হয়ে উঠতে, যিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পেশার জন্য নয়, জীবনের জন্য প্রস্তুত করেন। সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো, সাহসের সঙ্গে প্রতিবাদ জানানো, এবং নিপীড়িতের পাশে থাকা র মত এই প্রতিটি মানবিক গুণ একজন শিক্ষকের নিকট শুধু বিকল্প নয়, বরং অনিবার্য। কারণ শিক্ষকতা মানেই ভবিষ্যৎ গড়ার শপথ এবং সেই ভবিষ্যৎ শুধু সনদের সংখ্যা বা পাসের হার দিয়ে নয়, পরিমাপ হয় বিবেকবান, ন্যায়পরায়ণ এবং মানবিক নাগরিক তৈরির ক্ষমতা দিয়ে। তাই বর্তমান সময়ের একজন শিক্ষককে নতুন করে ভাবতে হবে নিজেকে নিয়ে; নিজের নীরবতা, নিজের অবস্থান এবং নিজের সাহসিকতা নিয়ে। কারণ একমাত্র তিনিই পারেন সেই অদৃশ্য কারিগরের ভূমিকায় উত্তীর্ণ হয়ে সমাজের ভিত্তি নতুন করে নির্মাণ করতে। তাই শিক্ষক হিসেবে আপনার কাছে প্রশ্ন রইলো, আপনি কি সত্যিই শিক্ষক হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত করছেন? যদি না করে থাকেন, আপনি কি এখন নিজেকে তৈরি করতে ইচ্ছুক? তাহলে আজই আপনার নৈতিক অবস্থান ও মানবিক প্রতিশ্রুতির অঙ্গীকার বাস্তবায়নে যাত্রা শুরু করুন।

* লিখেছেন: ড. মাহরুফ চৌধুরী, ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য।



বিষয়: #  #  #  #  #


বিশেষ এর আরও খবর

রাষ্ট্র কতটা নিষ্ঠুর হলে এমন অন্যায় সম্ভব হয়? রাষ্ট্র কতটা নিষ্ঠুর হলে এমন অন্যায় সম্ভব হয়?
শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব এডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল এর ৭৪ তম জন্মদিন শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব এডভোকেট মনসুর উদ্দিন আহমেদ ইকবাল এর ৭৪ তম জন্মদিন
ব্যর্থতা ঢাকতেই ‘হ্যাঁ’ ভোটে জিততে মরিয়া বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থতা ঢাকতেই ‘হ্যাঁ’ ভোটে জিততে মরিয়া বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ডের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালার আয়োজন করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল কালচারাল প্রোটেকশন ফান্ডের দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালার আয়োজন করছে ব্রিটিশ কাউন্সিল
শরীফ ওসমান হাদী: নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা শরীফ ওসমান হাদী: নৈতিক সাহস ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা
আয়োজিত হলো নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে সংলাপ আয়োজিত হলো নারী নেতৃত্ব ও ক্ষমতায়ন বিষয়ে সংলাপ
সহজ এবং খুব সহজ উপায়ে আয় করার কিছু টিপস এখানে দেওয়া হল…. সহজ এবং খুব সহজ উপায়ে আয় করার কিছু টিপস এখানে দেওয়া হল….
নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই নির্বাচনী ইস্তেহারে শিক্ষার সুস্পষ্ট রূপরেখা চাই
বৈ ছা আ - বানিয়াচং থানার এস আই সন্তোষের হ’ত্যা’কারী বৈ ছা আ - বানিয়াচং থানার এস আই সন্তোষের হ’ত্যা’কারী

আর্কাইভ

--- --- --- --- সিলেট শহরের সকল হবিগঞ্জী --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- ---
এলাকার আইন শৃংখলা হুমকির মুখে
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সেনাবাহিনীর রাতভর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার।। চেয়ারম্যান’র পুত্র সহ আটক ৩ জন।।
ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চাই
ভূমি অপরাধ আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন : সুনামগঞ্জে আবাদি জমির টপসয়েল লুটের মহোৎসব
রাণীনগরে রক্তদহ বিলের পাখি পল্লীতে নজরদারির জন্য ক্যামেরা স্থাপন
অপারেশন ডেভিল হান্টে ভোলায় কোস্টগার্ড ও পুলিশের অভিযানে আটক ১
আজ নির্বাচনী প্রচারনায় ইসলামী ফ্রন্টের মহাচিব অধক্ষ্য স.উ.ম.আব্দুস সামাদ হবিগঞ্জে আসছেন
দেশ ও গণতন্ত্রের উন্নয়নে ধানের শীষের বিকল্প নেই-রেজাউল ইসলাম
ভোট সুষ্ঠু হলে জামায়াত ক্ষমতায় আসতে পারবে না
হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে সেনাবাহিনীর অভিযানে অস্ত্র গুলাবারুদ সহ যুবক আটক।।