সোমবার ● ২০ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর গ্রামকে রক্ষার দাবী এলাকাবাসীর
নদীভাঙন রোধে টেকসই বাঁধ নির্মাণ করে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর গ্রামকে রক্ষার দাবী এলাকাবাসীর
আল হেলাল,সুনামগঞ্জ থেকে :
![]()
নদীভাঙনের কবলে পতিত হয়েছে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর গ্রামটি। শহরতলির কাছে প্রায় দুইশত বছরের অতিপুরনো এ গ্রামটি গত ৪০/৪৫ বছর ধরে ক্রমাগত ভাঙলেও গ্রামটি রক্ষায় নেই কোন সরকারী উদ্যোগ। অথচ গ্রামের পূর্বদিকে প্রবাহিত জেলার প্রধান সুরমা নদীর পূর্বপাড়ে রয়েছে সুনামগঞ্জ জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়। পাউবো প্রতিবছর জেলার কোননা কোন উপজেলায় নদী খনন,ফসলরক্ষা বাঁধ পিআইসি বাস্তবায়ন ও প্রতিরক্ষা দেয়াল স্থাপনের কাজ করলেও এ গ্রামটির প্রতি এখনও নজর পড়েনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের। এছাড়া গ্রামের পশ্চিম দিকে নেই কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন। সরজমিনে গেলে জগন্নাথপুর গ্রামের
হাবিজ মিয়া,জইনুর মিয়া,আমিনুল ইসলাম,সাধন বর্মন,শোভন বর্মন,সৌরভ বর্মন,গৌতম বর্মন ও রাসেল মিয়া জানান,জন্মের পর থেকেই দেখে আসছি দিনের পর দিন বছরের পর বছর আমাদের গ্রামটি কেবলই নদীভাঙনের কবলে পড়ে ঘরবাড়ী,মসজিদ ও মন্দির সবকিছু নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু আমরা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেয়ার যেন কেউ নেই। একটি স্বাধীন দেশে বসবাস করেও আমরা যেমন প্রকৃতির কাছে জিম্মি রয়েছি তেমনি রয়েছি উন্নয়ন বঞ্চিত। ঘুণাক্ষরেও সামান্য কটি ব্লক ফেলে আমাদের গ্রামটি রক্ষার প্রয়োজন মনে করেননি এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। অথচ গত ৫৪টি বছরে এলাকার মেম্বার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে উপজেলা চেয়ারম্যান,জেলা পরিষদ প্রতিনিধিবর্গ ও জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্য নির্বাচনে আমরাও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছি। আমাদেরও স্বাদ জাগে উন্নয়নের অংশীদার হওয়ার। কিন্তু আমরা গত ৫৪টি বছরে উন্নয়ন থেকে বৈষম্যের শিকারে পরিণত হয়েছি। গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের বড় ভাই মনিরুল ইসলাম মনির ও যুবদল নেতা কামরুল ইসলাম রাজু নির্বাচনী গণ সংযোগে আমাদের গ্রামে এলে আমরা তাদের কাছে দাবী জানাই যেকোন মূল্যে প্রতিরক্ষা দেয়াল স্থাপনের মাধ্যমে আমাদের গ্রামটিকে যেন ভাঙন থেকে রক্ষা করা হয়। আমরা চাই সুনামগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল যেন আমাদের গ্রামটি সুরক্ষায় ব্যবস্থা নেন।
জানা যায়,গ্রামের সর্বদক্ষিণে বকুল মিয়া,আতাউর রহমান,আশরাফ উদ্দিন,শুনুর মিয়া,শাফি মিয়া,জগন্নাথপুর জামে মসজিদ,শাহিন মিয়া,কাদির মিয়া,হযরত মিয়া,আনোয়ার হোসেন,ইসমাইল মিয়া,সিরাজ মিয়া,আব্দুল হক,তাহের মিয়া,আলতাব মিয়া,রকিব মিয়া,জামাল মিয়া,ইসমাইল মিয়া,ব্রজেন্দ্র বর্মণ,নৃপেন্দ্র বর্মণ,মতিন্দ্র বর্মণ,সুভাস বর্মণ,সবুজ বর্মন,প্রবোধ বর্মন,সুবল বর্মন, জগন্নাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,গোপাল বর্মন,দূর্গা মন্দির,আসমান আলী,আমজাদ আলী,জানু মিয়া,লোকমান মিয়া,আজিজুল মিয়া,রাম বর্মন, স্বপন বর্মন,রোপন বর্মন,রামপ্রাসাদ বর্মন ,ইন্দ্র বর্মন,রবীন্দ্র বর্মন,শৈলেন বর্মন,লীলমোহন বর্মন,সূর্যলাল বর্মন,রিপন বর্মন,রঞ্জিত বর্মন,লিটন বর্মন,দীনেশ বর্মন,জেন্টু বর্মন,সুধন বর্মন,নীতেশ বর্মন,মিহির বর্মন,বিষু বর্মন,রামকৃষ্ণ বর্মন,সুভাষ বর্মন,নিখিল বর্মন,মিন্টু বর্মন,নান্টু বর্মন,সুধাংসু বর্মন,যুজ্ঞেশ্বর বর্মন,জগন্নাথপুর শ্রীশ্রী কালিমন্দির,কামেন্দ্র বর্মন,গৌরাঙ্গ বর্মন,নিধান বর্মন,মাইন উদ্দিন মিয়া,শ্রীবাস বর্মন,রমন বর্মন,কৃপেশ বর্মন,বীরেন্দ্র বর্মন,রমন বর্মন,রবি বর্মন,সঞ্জিত বর্মন,নুরুল মিয়া,ইছাক মিয়া,গোপেশ দাস,স্বরস্বতি দাস ,করিমুন নেছা,মালেক মিয়া,ফজলুল হক,বিকাশ পাল ,কৃষ্ণমোহন পাল,সুধাংসু পাল, বাবুল পাল,সুষেন পাল,রণপাল,সঞ্জিত পাল,বিষু পাল,নবদাস,আব্দুল হাশিম,অদুদ মিয়া,মনোরঞ্জন সরকার,নুরুল মিয়া,জাকির মিয়া,সোহরাব মিয়া,হানিফ মিয়া,শুকুর আলী,জহিরুল মিয়া, মন্টু বর্মন,আক্তার মিয়া,ফজর মিয়া,আকবর মিয়া,দীপক বর্মন,গোবিন্দ বর্মন,সানন্দ বর্মন,বিনন্দ বর্মন,নৃপেন্দ্র বর্মন ,রহমান মিয়া,মংলা মিয়া,শুকুর আলী মিয়া,সোহেল মিয়া,শানুর মিয়া,কালা মিয়া,জীবন বর্মন,সুখময় বর্মন,হোছন আলী,ছাবিদুর রহমান,হাছান আলী,ইসলাম উদ্দিন,আবুল হোসেন,আক্তার হোসেন,প্রদীপ বর্মন ও মফিজ উদ্দিন প্রমুখসহ সর্বউত্তরে প্রায় দেড়শত পরিবার এই নদীভাঙনের কবলে পড়ে নি:স্ব হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বসতভিটা গড়ে ২/৩বার ভাঙনে পড়েছে। পূর্বদিকে বসতভিটে ভেঙে ক্রমাগত পশ্চিমে সরিয়ে বারংবার বসতভিটে তৈরী করতে গিয়ে অনেকের দেয়ালে পীট লাগার অমানবিক অবস্থা চলছে। প্রত্যেকের বসতভিটের পূর্বদিকে নদীর পাড়ে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা দিয়ে ঝুকি নিয়ে চলাচল করছেন গ্রামের সাধারণ নাগরিকরা। হিন্দু ও মুসলিম মিলে উভয় ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে অধিকাংশ পরিবারগুলোই হচ্ছেন সাধারণ দরিদ্র মৎস্যজীবী পরিবার। এসব পরিবারগুলোর অনেকেরই নতুন বাড়ী ভিটা নির্মাণের সামর্থ্য নেই। তারপরও প্রকৃতির সাথে নিয়মিত লড়াই করে তাদেরকে কোনরকমে বেঁচে থাকতে হয়। প্রতিবছর পাহাড়ী ঢলের ফলে বন্যার সৃষ্টি হলে প্রথমেই ভয়াবহ বন্যার পানি আঘাত হানে জগন্নাথপুর গ্রামে। ফলে শতশত পরিবার বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়। এবং অনেকেই খোলা আকাশের নিচে মানবেতর দিন কাটান বন্যা চলাকালীন সময়ে। এসব কারণে নদীপাড়ের মানুষ জরুরি ভিত্তিতে টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থার দাবী জানিয়েছেন। সুরমা ইউনিয়নের সংরক্ষিত ১.২ ও ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যা মোছাঃ তানজিনা বেগম রোখশানা বলেন,গত সরকারের শাসনামলে সাবেক সংসদ সদস্য এডভোকেট পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ ও ড.মোহাম্মদ সাদিক সাহেবের কাছে নদীভাঙনে কবলিত জগন্নাথপুর ও মইনপুর গ্রামকে নদীভাঙন থেকে রক্ষার জন্য প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করে দেয়ার জন্য আমি লিখিত আবেদন করেছিলাম। কিন্তু তারা কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি। এবার পরিষদের মাধ্যমে আমরা নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুল সাহেবের কাছে দাবী জানাই তিনি যেন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের নদীভাঙন কবলিত গ্রামগুলোকে সুরক্ষার ব্যবস্থা গ্রহন করেন।
বিষয়: #টেকসই #নদীভাঙন #নির্মাণ #বাঁধ #রোধ










নবীগঞ্জের বহরমপুরে সরকারি কোটি টাকা মূল্যের ভূমি ভূমিদস্যুদের কবলে৷ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে-ইউ,এনও
মায়ানমারে পাচারকালে সিমেন্ট বোঝাই বোটসহ ১১ জনকে আটক করেছে নৌবাহিনী
রাণীনগরে শতাধীক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
কাপনা মাদ্রাসার শিক্ষক লতিফকে জেলহাজতে প্রেরণ করেছে আদালত
চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে যৌথ অভিযানে ৩১২ কোটি টাকার অবৈধ জাল জব্দ
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জমি নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত! আহত অর্ধশতাধিক, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মেতায়েন
নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে ইয়াবাসহ প্রাইভেট কার জব্দ
সুনামগঞ্জের ডিসি ইলিয়াসের বিরুদ্ধে শিল্প-পণ্য বাণিজ্য মেলার ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা ভারতীয় পণ্যসহ পাচারকারী আটক 