সোমবার ● ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » দেশব্যাপী সংবাদ » সুন্দরবনস অ্যাক্রোস বর্ডারস: সুন্দরবনের সীমান্তবর্তী মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে অনন্য আয়োজন
সুন্দরবনস অ্যাক্রোস বর্ডারস: সুন্দরবনের সীমান্তবর্তী মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নিয়ে অনন্য আয়োজন
সৈয়দ মিজান::
![]()
[ঢাকা, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬] ইউনিক ক্লাস্টার বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেলিগেশন, হেরিটেইনস ডিওএ-বুয়েট, রিভারাইন পিপল ও টিম প্ল্যাটফর্মের সহযোগিতায় ২২ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ কাউন্সিল অডিটোরিয়ামে ‘সুন্দরবনস অ্যাক্রোস বর্ডারস: দ্য স্পিরিট অব কালচারাল রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক আয়োজনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই আয়োজনে বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন কমিউনিটির মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন তুলে ধরা হয়, যেখানে দুই দেশের মধ্যেই সুন্দরবনকে এমন ইকোসিস্টেম হিসেবে দেখানো হয়, যা গড়ে উঠেছে ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও শিল্পচর্চা ও শৈল্পিক বোধের মাধ্যমে।
অনুষ্ঠানে ‘দ্য হাইভ অ্যান্ড দ্য হিম’ শীর্ষক এক প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে সুন্দরবনের প্রান্তবর্তী অঞ্চলে বসবাসকারী মৌয়াল সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক চর্চা তুলে ধরা হয়। প্রদর্শনীটি ইউনিক -এর সহায়তায় পরিচালিত বৃহত্তর প্রকল্প ‘সুন্দরবনস অ্যাক্রোস বর্ডারস: দ্য স্পিরিট অব কালচারাল রেজিলিয়েন্স’ -এর অংশ। বাংলাদেশ ও ভারত সীমান্তের উভয় পাশে সীমান্তবর্তী মানুষের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে বোঝাপড়া তৈরিতে এ প্রকল্পের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। প্রদর্শনীটি ২৩ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
প্রদর্শনীতে চার ধরনের পটচিত্র প্রদর্শিত হচ্ছে; যার মধ্যে রয়েছে: ঐতিহ্যবাদী গাজীর পট, মধু সংগ্রহের চক্রের সমসাময়িক চিত্রায়ন, বনবিবির মিথের ভার্টিকাল স্টোরিটেলিং এবং কমিউনিটির নারী ও শিশুদের অঙ্কনে স্ক্রোল। এর পাশাপাশি, বুয়েটের হেরিটেজ অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্টিগ্রেশন সেল এবং রিভারাইন পিপলের পরিচালিত স্থাপত্য ও সাংস্কৃতিক গবেষণাও প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করা হয়েছে। প্রদর্শনীর বিভিন্ন মাধ্যম জীবিকা পদ্ধতি, বসতি বিন্যাস, পরিবেশগত অভিযোজন এবং ঐতিহ্যের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরা হয়, যা এই অঞ্চলের অন্যত বিশেষত্ব। প্রদর্শনীতে দর্শনার্থীরা প্রকল্পের গবেষণা নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র উপভোগ করেন। এরপর প্রদর্শনীর কিউরেটরের পরিচালনায় ‘কিউরেটর’স ট্যুর’ অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় প্রামাণ্যচিত্রে বনবিবির পালার শিল্পীদের তুলে ধরা হয়। এ প্রামাণ্যচিত্রে অতিথিরা সাতক্ষীরার সাগরনদী নাট্যসংস্থার পরিবেশনায় ‘দুঃখের বনবাস’ নাটকের ৮০ মিনিটের মঞ্চায়ন উপভোগ করেন।
সুন্দরবনস অ্যাক্রোস বর্ডার প্রকল্পটি ইউনিক ক্লাস্টার ফান্ড ২০২৪-এর সহ-অর্থায়নে পরিচালিত উদ্যোগগুলোর একটি, যা এ অঞ্চলে টেকসই, সহযোগিতামূলক এবং সাংস্কৃতিকভাবে উল্লেখযোগ্য প্রকল্প নিয়ে কাজ করে। প্রকল্পটিতে বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অংশীদারেরা সমন্বিত গবেষণা, নথিভুক্তিকরণ ও কমিউনিটি এনগেজমেন্ট নিয়ে কাজ করেছেন।
অনুষ্ঠানে ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর স্টিফেন ফোর্বস বলেন, “সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও আস্থার সেতুবন্ধ গড়ে তোলা হয়। সাংস্কৃতিক অংশীদারত্ব কীভাবে আঞ্চলিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের কণ্ঠকে সামনে আনতে পারে—এই প্রকল্প তার বাস্তব উদাহরণ। পাশাপাশি প্রকল্পটি সুন্দরবন-এর ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ ইতিহাস, সৃজনশীলতা ও দৃঢ়তাকে তুলে ধরেছে। এসব গল্প সবার সামনে তুলে ধরতে সহায়তা করতে পারায় আমরা গর্বিত।”
ইউনিক ক্লাস্টার বাংলাদেশ-এর প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্ক ভের্নার বলেন, “বিভিন্ন কারণে এ আয়োজনটি অন্য সব আয়োজনের তুলনায় আলাদা। প্রথমবারের মতো দুটি ইউনিক ক্লাস্টার যৌথভাবে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে; প্রথমবারের মতো সুন্দরবনকে একটি পূর্ণাঙ্গ বই আকারে উপস্থাপন করা হচ্ছে; এবং প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের কমিউনিটিগুলো তাদের নিজস্ব শিল্পভাষায় বৃহত্তর নাগরিক শ্রোতাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে।”
এই প্রকল্পের আওতায় ২৪ ফেব্রুয়ারি ‘দ্য স্যালাইন কোয়েস্ট ফর হানি’ বইটির আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হবে। সুন্দরবনস অ্যাক্রোস বর্ডারস উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকাশিত এ বইয়ে সুন্দরবনের মৌয়াল ও বননির্ভর সম্প্রদায়ের জীবন ও অভিযোজনমূলক জ্ঞান নথিভুক্ত করা হয়েছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর অঞ্চলে নিমজ্জিত গবেষণার ভিত্তিতে বইটিতে নৃতাত্ত্বিক অধ্যয়ন, মাঠ জরিপ এবং গাজীর পটের ঐতিহ্যবাহী শিল্পরীতির অনুপ্রেরণায় নির্মিত ভিজ্যুয়াল বর্ণনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও, বইটিতে মাঠপর্যায়ের আলোকচিত্র ও স্থানীয় শিল্পীদের সহযোগিতায় তৈরি বিভিন্ন চিত্র যুক্ত করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও ছিল ১৫ মিনিটের একটি ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা। এ উপস্থাপনায় গবেষণা প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ তুলে ধরা হয়; যেমন: দাতিনাখালি ও মীরগাং এলাকায় নেওয়া অধিবাসীদের সাক্ষাৎকার এবং মৌয়াল ও মুন্ডা সম্প্রদায়ের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠিত ফোকাস গ্রুপ আলোচনা। এরপর লেখককে নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় প্যানেল আলোচনা, যেখানে এ উদ্যোগ নিয়ে যারা কাজ করেছেন তারা তাদের গবেষণা এবং সুন্দরবনের কমিউনিটিগুলোর পরিবেশগত ও সাংস্কৃতিক সহনশীলতা নিয়ে আলোচনা করেন।
কর্মশালা, মাঠপর্যায়ে গবেষণা, যৌথ শিল্প কর্ম এবং পরিবেশনার মাধ্যমে প্রকল্পটি সুন্দরবনের মানুষ, বিশেষ করে নারীদের জীবন ও অভিজ্ঞতাকে সবার সামনে তুলে ধরে। সাংস্কৃতিক অংশীদারিত্ব কীভাবে আঞ্চলিক সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে পারে, কমিউনিটির সহনশীলতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে এবং সুন্দরবনের প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক ইকোসিস্টেমকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারে, তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে এ আয়োজন।
বিষয়: #অনন্য #অ্যাক্রোস #আয়োজন #ঐতিহ্য #বর্ডারস #মানুষ #সংস্কৃতি #সীমান্তবর্তী #সুন্দরবন










হবিগঞ্জের মাধবপুরে স্ত্রী’র হাতে স্বামী হত্যার অভিযোগ।।
বিঞ্জ-ওয়াচিংয়ের যুগে আপনার টিভি কি চোখের জন্য নিরাপদ?
ইন্ডাস্ট্রি–একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারে কাজ করবে ইউনিমাস হোল্ডিংস ও ডিআইইউ
পথচলতি মানুষের জন্য দেশব্যাপী ইফতার সামগ্রী বিতরণ করছে বাংলালিংক
চাঁদা বন্ধের দাবীতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ
সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ
বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক জসীম উদ্দিন খন্দকার রচিত বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত
সুন্দরবন থেকে অস্ত্র-গুলিসহ করিম শরীফ বাহিনীর সহযোগী আটক
রাণীনগরে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
