রবিবার ● ১৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রথম পাতা » দেশব্যাপী সংবাদ » ছাতকে ৯৫ পিস ইয়াবাসহ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
ছাতকে ৯৫ পিস ইয়াবাসহ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার
“আইনের ফাঁক গলে বাঁচতে পারেননি—সাড়াশব্দহীন অভিযানে ধরাশায়ী ‘মাদক সম্রাট’ সাবাজ আলী”
ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি ::
![]()
সুনামগঞ্জের ছাতকে আবারও প্রমাণ হলো—রাজনৈতিক পরিচয় মাদকের ঢাল হতে পারে না। ৯৫ পিস ইয়াবাসহ ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাবাজ আলী (৫৪) শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন।
গত শনিবার গভীর রাতে উপজেলার আলোচিত গোবিন্দগঞ্জ লালপুল এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এক বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করে পুলিশ।
গত রোববার দুপুরে আদালতে তোলা হলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গ্রেপ্তারকৃত সাবাজ আলী একসময় ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান গয়াছ আহমদের ‘ঘনিষ্ঠ সহযোগী’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের কাছে তিনি অধিক পরিচিত “মাদক ব্যবসার গডফাদার” হিসেবে। শিবনগর গ্রামের মৃত সমুজ আলীর এই ছেলে বছরের পর বছর ধরে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় শক্তিশালী একটি ইয়াবা চক্র নিয়ন্ত্রণ করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে—রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে তিনি তৈরি করেছিলেন এক অদৃশ্য ত্রাসের বলয়। ছোট-বড় ব্যবসায়ী, পথচারী, এমনকি স্কুল–কলেজ পড়ুয়া তরুণদেরও মাদক জালে টেনে নেওয়া ছিল তার দলের ‘নিয়মিত কাজ’।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে লালপুল এলাকার মুখে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন সাবাজ আলী। আগে থেকেই তার গতিবিধি নজরে রাখছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সুযোগ বুঝে ওসি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম অভিযান চালায়। এ সময় তার কাছ থেকে ৯৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলেই তাকে আটক করা হয় এবং পরে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
এব্যাপারে থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন…
“সাবাজ আলীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ২০১৮ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১) সারণি ১০(ক) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান—“আটকের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ছাতকে মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার হবে। কেউ ছাড় পাবে না—যে পরিচয়েরই হোক না কেন।”
স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে এই গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে। অনেকে বলেছেন, বহুদিন ধরেই সাবাজ আলী ও তার সহযোগীচক্রের দাপটে এলাকা অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছিল। প্রশাসনের এই পদক্ষেপে সাময়িক হলেও মাদকচক্রের দৌরাত্ম্য কমবে বলে তাদের আশা।
মাদকের বিষবাষ্পে নষ্ট হচ্ছে পুরো এক প্রজন্ম—এ অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের যে দৃঢ়তা প্রয়োজন, সাবাজ আলী গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে তার বাস্তব রূপ দেখল ছাতকবাসী। এখন প্রশ্ন—তার পেছনে থাকা শক্তিশালী সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যরা কি আইনের আওতায় আসবে? না কি আবারও অন্ধকারে মিলিয়ে যাবে মাদকচক্রের ছায়া?
ছাতকবাসী চায় একটি মাদকমুক্ত এলাকা—এবার দায়িত্ব পুলিশের, সেই প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার।
বিষয়: #ছাতকে ৯৫ পিস ইয়াবাসহ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার










হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে জমি নিয়ে সংঘর্ষে কলেজ ছাত্র নিহত! আহত অর্ধশতাধিক, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মেতায়েন
কৃষি ও সামাজিক কার্যক্রমে ব্র্যাকের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৩ কোটি টাকার বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা কৃষিখাতে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্সের বরাদ্দ ৩২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা
নৌবাহিনীর অভিযানে টেকনাফে ইয়াবাসহ প্রাইভেট কার জব্দ
মৌলভীবাজার ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শুভ উদ্বোধন
সুনামগঞ্জের ডিসি ইলিয়াসের বিরুদ্ধে শিল্প-পণ্য বাণিজ্য মেলার ৬৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
নারায়ণগঞ্জে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আসা ভারতীয় পণ্যসহ পাচারকারী আটক
মৌলভীবাজার ইনসানিয়া স্পেশালাইজড হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শুভ উদ্বোধন
জয়পুরহাটে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ: জমি বিরোধ ও চাঁদাবাজির জেরে অপপ্রচারের অভিযোগ
ঢাকায় চিকিৎসাধিন শ্রমিক নেতা ফখরুল ইসলাম খানের শয্যাপাশে সিলেট জামায়াত নেতৃবৃন্দ 