শিরোনাম:
ঢাকা, শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বজ্রকণ্ঠ "সময়ের সাহসী অনলাইন পত্রিকা", ঢাকা,নিউ ইয়র্ক,লন্ডন থেকে প্রকাশিত। লিখতে পারেন আপনিও। বজ্রকণ্ঠ:” সময়ের সাহসী অনলাইন পত্রিকা ” আপনাকে স্বাগতম। বজ্রকণ্ঠ:: জ্ঞানের ঘর:: সংবাদপত্র কে বলা হয় জ্ঞানের ঘর। প্রিয় পাঠক, আপনিও ” বজ্রকণ্ঠ ” অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। আপনার চারপাশে ঘটে যাওয়া নানা খবর, খবরের পিছনের খবর সরাসরি ” বজ্রকণ্ঠ:” সময়ের সাহসী অনলাইন পত্রিকা ” কে জানাতে ই-মেইল করুন-ই-মেইল:: [email protected] - ধন্যবাদ, সৈয়দ আখতারুজ্জামান মিজান

Bojrokontho
শনিবার ● ৭ মার্চ ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রবাসে » “বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সমগ্র জাতিকে মুক্তির মোহনায় দাঁড় করিয়েছিলো”
প্রথম পাতা » প্রবাসে » “বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সমগ্র জাতিকে মুক্তির মোহনায় দাঁড় করিয়েছিলো”
৪৬ বার পঠিত
শনিবার ● ৭ মার্চ ২০২৬
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

“বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সমগ্র জাতিকে মুক্তির মোহনায় দাঁড় করিয়েছিলো”

মোহাম্মদ মকিস মনসুর ::
মোহাম্মদ মকিস মনসুর -”বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ সমগ্র জাতিকে মুক্তির মোহনায় দাঁড় করিয়েছিলো”
“বাঙ্গালীর মুক্তির দিশারী, বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, হাজার বছরের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান,রাজনৈতিক কবি বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ. বাঙালী জাতির ইতিহাসে এক আত্মোপলব্দির অঙ্গীকারের দিন। ১৯৭১সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণের দিনটি প্রতি বছর যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশসহ বিশ্বময় পালিত হয়ে আসছে।
বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে দেখার সুযোগ আমার হয়নি। কারণ ১৯৭০ সালে আমার জন্ম। ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট যদি জাতির জনককে হত্যা করা না হতো তাহলে আমাদের মত প্রজন্মদের হয়তোবা এই বিশাল মনের মহানায়কের সান্নিধ্য পাবার সুযোগ হতো।
তবুও আমার শৈশবের লালিত স্বপ্ন কৈশোরের উচ্ছ্বাস, যৌবনের অনুভূতি, ভালোলাগা ও-ভালোবাসার প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের স্কুলজীবন থেকে বঙ্গবন্ধুর একজন আদর্শিক গর্বিত-ছাত্রলীগ কর্মী হিসাবে কাজ করার যে সুযোগ হয়েছিলো। এজন্য নিজেকে ধন্য ও সৌভাগ্যবান মনে করছি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শিক রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে প্রতিবার যখন এই ঐতিহাসিক ভাষণটি শুনি তখন তা আমাকে প্রচন্ড আবেগে আলোড়িত করে।
নিজেকে নব-চেতনায় উজ্জীবিত করে দেশের জন্য মানুষের জন্য নিষ্ঠা ও নিরলসভাবে কাজ করতে। যাহা শুধু আমাকে নয় আমাদের প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর এই ভাষণ অনুপ্রেরণা যোগাবে বলে আমি মনে প্রাণে বিশাস করি। এখানে উল্লেখ্য যে স্কুলজীবন থেকেই আমি বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণটি মুখস্থ করে ফেলেছিলাম। ক্লাস নাইনের ছাত্র হিসাবে মহান স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর এই ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে স্কুল ভিত্তিক উপস্থিত বক্তৃতায় আমি প্রথম পুরস্কারও লাভ করেছিলাম। যাহা আমার জন্য অবশ্যই আনন্দের ও গৌরবের।
১৯৭১ এর এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে (তৎকালীন রেসকোর্স ময়দান) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালী জাতির উদ্দেশ্যে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন। এই জ্বালাময়ি ভাষণ সকল বাঙালীদেরকে উদ্দীপ্ত করে এনে দেয় অসীম সাহস। রক্তে আগুন জ্বালায় মুক্তিকামী মানুষের। বাঙালী জাতিকে করেছিলো সংগ্রামী চেতনায় উজ্জীবিত। ৭ই মার্চ দিনটি বাঙালি রাজনৈতিক কবির এই শব্দযুগল ভাষণ বাঙ্গালীর অধিকার, স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতার আন্দোলনের মূলমন্ত্রে পরিণত হয়। উত্তাল একাত্তরে শেখ মুজিবের ভাষণে সেদিন পুনজাগ্রত হয়েছিলো গোটা জাতি।
সংকল্পে মুষ্টিবদ্ধ হয়েছিলো অত্যাচারী হানাদারদের বিরুদ্ধে। বঙ্গবন্ধুর দেয়া ভাষণে তিনি পূর্ব বাঙলার মানুষের ওপর যুগ যুগ ব্যাপী চলতে থাকা অত্যাচার-লাঞ্ছনা-বঞ্চনা আর উৎপীড়নের প্রতিবাদে স্বাধিকারের প্রশ্নে পাকিস্তানি শোষক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রুখে দাঁড়াবার প্রস্তুতির আহ্বান জানিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালের পর সুদীর্ঘ ২৩ বছরের শোষণের চূড়ান্ত পর্যায়ে বাঙালি জাতির জাতিসত্ত্বা, জাতীয়তাবোধ এবং জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই পরবর্তী দিক-নির্দেশনা ছিলো জাতির জনকের সেদিনের ভাষণে।
১৯৭০ এর নির্বাচনে নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন বাঙ্গালীর মুক্তির দিশারী, সংগ্রামী বাঙ্গালী জাতির স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা, হাজার বছরের সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সন্তান, যাকে বাঙ্গালী তাদের অবতার হিসেবে, মহানায়ক হিসেবে জানে জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমান। যাঁর অবিসংবাদিত নেতৃত্বে বহু রক্তাক্ত পথ পাড়ি দিয়ে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
এজন্যে পুরো জাতি ছিল অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান। সারা দেশ থেকে আগত লক্ষ লক্ষ জনতার অপেক্ষা, শেষে আসলেন মহানায়ক, বাঙ্গালীর প্রাণের নেতা। বঙ্গবন্ধু, কোন কাগজে লেখা কবিতা নয়, কারো বলে দেওয়া কোন ভাষন নয়, তাঁর হৃদয়ের গভীর অনুভুতি, দেশমাতৃকার প্রতি অসীম ভালোবাসা, বাঙ্গালীর প্রতি অসীম মমত্ত্ববোধ সবকিছু মিলিয়ে দরাজ কন্ঠে পাঠ করলেন তার অমর কাব্য এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম/এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।
জাতির জনকের সেদিনের দেওয়া ভাষণে তিনি আত্মপরিচয়, স্বাধীনতা, অধিকার এবং মুক্তি অর্জনে যুদ্ধের ডাক দিয়েছিলেন। পৃথিবীর সেরা রাজনৈতিক ভাষণের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ব্যতিক্রমী এবং অনন্য। অন্য সব সেরা ভাষণ ছিল লিখিত। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি লিখিত ছিল না। সেদিন আজ থেকে ৪৯ বছর আগে ১০ লক্ষাধিক লোকের সামনে বঙ্গবন্ধু বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে মঞ্চে আরোহণ করে ১৮ মিনিট ৪৮ সেকেন্ড এর ভাষণের শুরুতেই জনতাকে ‘আপনি’ সম্বোধনের মাধ্যমে। বলেছিলেন ‘আপনারা সবই জানেন এবং বোঝেন’। তিনি জনতাকে তার সহযাত্রী মনে করেছিলেন।
যে সহযাত্রীর সব কিছু সম্পর্কেই ওয়াকিবহাল। উভয়ের দুঃখ-বেদনা আশা-আকাঙ্ক্ষা এক। কেউ কারও চেয়ে কম জানে না বা বোঝে না। প্রকৃত নেতা কখনও তার কর্মী-সমর্থকদের ‘কম বুদ্ধিমান’ মনে করেন না। যেমন করেননি বঙ্গবন্ধু। তিনি শুধু বাস্তবতার দিকগুলো তুল ধরেছেন। সাধারণ মানুষের অনুভূতিগুলোকে নিজের অনুভূতির সঙ্গে ঝালিয়ে নিয়েছেন। একপর্যারে উপস্থিত জনতার সঙ্গে এতোটাই একাত্ম হয়ে পড়েছেন, কখন যে জনতা ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে পরিণত হয়ে গেছে তা না-বক্তা, না-শ্রোতা কেউই খেয়াল করেননি।
ভাষণের একপর্যায়ে তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইলো, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যা কিছু আছে তাই দিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে।’ এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান একটি গেরিলাযুদ্ধের দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন। ভাষণ শেষে স্বাধীনতার পক্ষে স্লোগানমুখর হয়ে উঠেছিলো ঢাকার রাস্তাগুলো।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ওই ভাষণ দিয়েছিলেন। একদিকে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, অন্যদিকে তাকে যেন বিচ্ছিন্নতাবাদী হিসেবে অভিহিত করা না হয়, সেদিকেও তার সতর্ক দৃষ্টি ছিলো। তিনি পাকিস্তান ভাঙার দায়িত্ব নেননি। তার এই কৌশলের কারণেই ইয়াহিয়া খানের নির্দেশে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী এই জনসভার ওপর হামলা করার প্রস্ততি নিলেও তা করতে পারেনি। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক গোয়েন্দা প্রতিবেদনেও শেখ মুজিবকে ‘চতুর’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদনে এক গোয়েন্দা কর্মকতা বলেন, শেখ মুজিব কৌশলে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে চলে গেল, কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারলাম না (ডয়েচে ভেলে, ৩১ অক্টোবর ২০১৭)।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একাত্তরের ৭ মার্চ সরাসরি কেন স্বাধীনতা ঘোষণা করেননি, তার ব্যাখ্যা পরবর্তীকালে তিনি নিজেই দিয়েছেন। ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টকে এনডব্লিউ টিভির দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ৭ মার্চের ঘটনা বর্ণনা করেন।
শেখ মুজিবের কাছে ফ্রস্ট জানতে চান ‘আপনার কি ইচ্ছা ছিলো যে, তখন ৭ মার্চ রেসকোর্সে আপনি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ঘোষণা দেবেন’? জবাবে শেখ মুজিব বলেন, ‘আমি জানতাম এর পরিণতি কী হবে এবং সভায় আমি ঘোষণা করি যে এবারের সংগ্রাম মুক্তির, শৃঙ্খল মোচন এবং স্বাধীনতার।’
ফ্রস্ট প্রশ্ন করেন ‘আপনি যদি বলতেন, আজ আমি স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ঘোষণা করছি, তো কী ঘটতো’? শেখ মুজিব উত্তর দেন, ‘বিশেষ করে ওই দিনটিতে আমি এটা করতে চাইনি। কেননা বিশ্বকে তাদের আমি এটা বলার সুযোগ দিতে চাইনি যে, মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন তাই আঘাত হানা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প ছিলো না। আমি চাইছিলাম তারাই আগে আঘাত হানুক এবং জনগণ তা প্রতিরোধ করার জন্য প্রস্তুত ছিল।’
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ ছিল একটি অগ্নিমশাল, যা প্রজ্জ্বলিত করেছিলো মুক্তিযুদ্ধের দাবানল, যার সামনে টিকতে পারেনি হানাদার পাকিস্তানি সেনাবাহিনী। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শুধু বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়কেই নাড়া দেয়নি, ভাষণটি সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। এ ভাষণের মধ্যে দিয়ে সমগ্র জাতিকে মুক্তির মোহনায় দাঁড় করিয়েছিলেন শেখ মুজিব। তিনি একটি ভাষণের মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সামগ্রিক দিকনির্দেশনা দিয়েছিলেন।
৭ মার্চের মঞ্চে উপস্থিত ঢাকসুর সাবেক ভিপি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এর মহানায়ক সাবেক সফল মন্ত্রী জননেতা তোফায়েল আহমেদ একটি নিবন্ধে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর চশমাটা সেদিন ডায়াসের উপর রেখে ১৮ মিনিটের যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তার পুরোটাই অলিখিত। একদিকে তিনি পাকিস্তানীদের প্রতি চার দফা শর্ত আরোপ করলেন, অন্যদিকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তুলতে বললেন। ভাতে মারার কথা বললেন, পানিতে মারার কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের আগে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গিয়েছিলাম। একজন তাঁকে বললেন, জনগণ কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা ছাড়া মানবে না। বঙ্গবন্ধু বললেন, তুমি তোমার কাজ কর। আমি তাদের নেতা, আমি তাদের পরিচালিত করবো, তারা আমাকে নয়।’
অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাঁর একটি নিবন্ধে লিখেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারার পরিচয় দিয়েছেন। রণকৌশলের দিক থেকে এই ভাষণ অসাধারণ। এই বক্তৃতা এখনো মানুষকে শিহরিত করে। এই বক্তৃতার আগে রাজনৈতিক কর্মী ও জনসাধারণ স্বাধীনতা ঘোষণার জন্য এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে যে পাকিস্তানি সেনা শাসকরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তাঁদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাবে, সে বিষয়েও তিনি অবহিত ছিলেন।
অধ্যাপক আনিসুজ্জাামান লিখেন, স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন কি-না, এমন এক প্রশ্নর জবাবে বঙ্গবন্ধু নিউজউইকের এক সাংবাদিককে বলেছিলেন ‘আমরাতো সংখ্যাগরিষ্ঠ। পশ্চিমাদের উপর নির্ভর করছে তারা বিচ্ছিন্ন হতে চায় কি-না।’
বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের শ্রেষ্ঠত্বের কথা তুলে ধরে ইতিহাসের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের পর গোটা বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের পরিবর্তে বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেকে বিভিন্ন জায়গায় পূর্ব পাকিস্তান শব্দ মুছে বাংলাদেশ লেখে।
তিনি বলেন, এ ভাষণের পর গোটা দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় চলতে থাকে। এ ভাষণ গুটি কয়েক রাজাকার ছাড়া গোটা বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলো। বিশিষ্ট কবি নির্মলেন্দু গুণ বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণকে দেখেছেন অমর কবিতা হিসেবে। আর বঙ্গবন্ধুকে অভিহিত করেছেন কবি হিসেবে। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ: রাজনৈতিক কবি বঙ্গবন্ধুর অমর কাব্য,এটা চিরন্তন সত্য।
“রবীন্দ্রনাথের মতো দৃপ্ত পায়ে হেঁটে
অতঃপর কবি এসে জনতার মঞ্চে দাঁড়ালেন৷
তখন পলকে দারুণ ঝলকে তরীতে উঠিল জল,
হৃদয়ে লাগিল দোলা, জনসমুদ্রে জাগিল জোয়ার
সকল দুয়ার খোলা৷ কে রোধে তাঁহার বজ্রকন্ঠ বাণী?
গণসূর্যের মঞ্চ কাঁপিয়ে কবি শোনালেন
তাঁর অমর-কবিতাখানি:
‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম,
এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম৷’
সেই থেকে স্বাধীনতা শব্দটি আমাদের৷”
- নির্মলেন্দু গুণ
“রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুধু বাঙালি জাতিকে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান নয়। এটি সব জাতির মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিক-নির্দেশনা।
৭৫ পরবর্তী দীর্ঘ একুশ বছর বঙ্গবন্ধুর যে ঐতিহাসিক ভাষণটি বাজানোর ওপর অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ছিল, সময়ের ব্যবধানে স্বাধীনতার ডাক সংবলিত বজ্রকঠিন বঙ্গবন্ধুর সেই ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটিকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্বজুড়ে যেসব তথ্যভিত্তিক ঐতিহ্য রয়েছে সেগুলোকে সংরক্ষণ এবং পরবর্তী প্রজন্ম যাতে তা থেকে উপকৃত হতে পারে সে লক্ষ্যেই এ তালিকা প্রণয়ন করে ইউনেস্কো।
আজ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ভাষণের স্বীকৃতি পেয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। ইউনেস্কোর স্বীকৃতির পর বঙ্গবন্ধুর ভাষণটি এখন বিশ্ব ঐতিহ্যের অমূল্য দলিল। এ ভাষণ বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশের মানুষের গৌরব-সম্মান আরেকবার আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণের বিশ্বস্বীকৃতি

২৫০০ বছরের ৪১টি ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভাষণের একটি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত।

ব্রিটিশ ইতিহাসবিদ ড. জ্যাকব এফ. ফিল্ড কর্তৃক সম্পাদিত ও ২০১৩ সালে প্রকাশিত We shall Fight on the Beaches : The Speeches that Inspired History গ্রন্থে সংকলিত আড়াই হাজার বছরের ৪১টি ইতিহাস সৃষ্টিকারী ভাষণের একটি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

ড. জ্যাকব ‘The Struggle this Time is the Struggle for Independence’ শিরোনামে ভাষণের মূল বক্তব্য ও মুক্তিযুদ্ধের কৌশলগত দিকনির্দেশনাসহ স্বাধীনতা সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর আপসহীন ভূমিকা তুলে ধরেন। (Jacob F. Field (ed.), We shall Fight on the Beaches : The Speeches that Inspire History, Michael O’Mara Books Limited, London, 2013, pp. 201-206)

উল্লেখ্য, এই গ্রন্থে খ্রিস্টপূর্বকালের দিগ্বিজয়ী সমরনায়ক আলেকজান্ডার দি গ্রেট থেকে শুরু করে আধুনিককালের বিশ্ববরেণ্য রাজনীতিক অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন, ভ্লাদিমির লেনিন, উইনস্টন চার্চিল, শার্ল দ্য গল, মাও সেতুং, হো চি মিন, সালভাদর আলেন্দে প্রমুখের কালজয়ী ভাষণের সঙ্গে বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ই মার্চের ভাষণ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।বইটির বেশিরভাগ ভাষণই ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও লিখিত।
# ১৮৬৩ সালের আব্রাহাম লিংকনের ‘গেটিসবার্গ অ্যাড্রেস’, নামে ২৭২ শব্দের দুই মিনিটের লিখিত ভাষণটি ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের সামনে দেওয়া হয়েছিল।
#১৯৬৩ সালের মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ অ্য ড্রিম’, নামের ১৬৬৬ শব্দের ১৭ মিনিটের লিখিত ভাষণটি প্রায় দুই লাখ মানুষের সামনে দেওয়া হয়েছিল।
#১৯৪০ সালের উইনস্টন চার্চিলের ‘উই শ্যাল ফাইট অন দ্য বিচেস’, নামে পরিচিত ৩৭৬৮ শব্দের ১২ মিনিটের ভাষণটি ৬০০ মানুষের সামনে দেওয়া হয়েছিল।
#১৯৪৭ সালের জওহরলাল নেহেরুর ‘অ্যা ট্রাইস্ট উইথ ডেস্টিনি’, নামে পরিচিত ৭৫৫ শব্দের পাঁচ মিনিটের ভাষণটি ৫০০ মানুষের সামনে দেওয়া হয়েছিল।
# অন্যদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ ই মার্চের ভাষণটি ছিল অলিখিত এবং কোনো ধরনের পূর্ব প্রস্তুতিবিহীন। সামনে ছিল স্বাধীনতার স্বাদ পেতে মরিয়া ১০ লাখ বাঙালি। ১০৯৫টি বজ্রকঠিন শব্দে তৈরি ১৮ মিনিটের ভাষণটি ছিল সত্যিকার অর্থেই বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ।
ভাষণটি আজও আমাদের জাতীয় জীবনের অনুপ্রেরণা। বঙ্গবন্ধু নেই, কিন্তু তার দিকনির্দেশনা আজও রয়ে গেছে। আমাদের জাতীয় জীবনের সকল ক্ষেত্রে এই ভাষণটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পথ হারানোর ক্ষণে কিংবা দেশবিরোধী শত্রুদের ষড়যন্ত্র আর আস্ফালনে দিশেহারা মুহূর্তে যেন বেজে ওঠে সেই বজ্রকণ্ঠ ‘আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারিৃ!’
পাঠকদের জন্য বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটি পুরাপুরি তুলে ধরছি…..
ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সকলে জানেন এবং বোঝেন আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের মানুষ সম্পূর্ণভাবে আমাকে ও আওয়ামী লীগকে ভোট দেন।
আমাদের ন্যাশনাল এসেমব্লি বসবে, আমরা সেখানে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো এবং এদেশের ইতিহাসকে আমরা গড়ে তুলবো। এদেশের মানুষ অর্থনীতি, রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক মুক্তি পাবেন। কিন্তু দুঃখের সঙ্গে বলছি বাংলাদেশের করুণ ইতিহাস, বাংলার মানুষের রক্তের ইতিহাস- এই রক্তের ইতিহাস মুমূর্ষু মানুষের করুণ আর্তনাদ- এদেশের করুণ ইতিহাস, এদেশের মানুষের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত করার ইতিহাস।
১৯৫২ সালে আমরা রক্ত দিয়েছি। ১৯৫৪ সালে নির্বাচনে জয়লাভ করেও আমরা গদিতে বসতে পারিনি। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খাঁ মার্শাল-ল’ জারি করে ১০ বছর আমাদের গোলাম করে রেখেছে। ১৯৬৪ সালে ৬-দফা আন্দোলনের সময় আমাদের ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ১৯৬৯ সালের আন্দোলনে আয়ুব খাঁর পতনের পরে ইয়াহিয়া এলেন।
ইয়াহিয়া খান সাহেব বললেন, দেশে শাসনতন্ত্র দেবেন- আমরা মেনে নিলাম। তারপর অনেক ইতিহাস হয়ে গেল, নির্বাচন হলো। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান সাহেবের সঙ্গে দেখা করেছি। আমি, শুধু বাংলার নয়, পাকিস্তানের মেজরিটি পার্টির নেতা হিসাবে তাকে অনুরোধ করেছিলাম ১৫ই ফেব্রুয়ারি তারিখে আমাদের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন দিতে।
তিনি আমার কথা রাখলেন না, রাখলেন ভুট্টো সাহেবের কথা। তিনি বললেন, মার্চ মাসে প্রথম সপ্তাহে সভা হবে। আমি বললাম, ঠিক আছে, আমরা এসেমব্লিতে বসবো। আমি বললাম, এমেব্লির মধ্যে আলোচনা করবো- এমনকি এও পর্যন্ত বললাম, যদি কেউ ন্যায় কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশি হলেও একজনের মতেও যদি তা ন্যায্য করা হয়, আমরা মেনে নেব।
ভুট্টো সাহেব এখানে ঢাকায় এসেছিলেন, আলোচনা করলেন। বলে গেলেন আলোচনার দরজা বন্ধ নয়, আরো আলোচনা হবে। তারপর অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে আমরা আলোচনা করলাম- আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো- সবাই আসুন বসুন। আমরা আলাপ করে শাসনতন্ত্র তৈরি করবো। তিনি বললেন, পশ্চিম পাকিস্তানের মেম্বর যদি আসে তাহলে কসাইখানা হবে এসেমব্লি।
তিনি বললেন, যে যে যাবে তাদের মেরে ফেলা দেওয়া হবে, যদি কেউ এসেমব্লিতে আসে পেশোয়ার থেকে করাচি পর্যন্ত জোর করে বন্ধ করা হবে। আমি বললাম, এসেমব্লি চলবে। আর হঠাৎ ১ তারিখ এসেমব্লি বন্ধ করে দেওয়া হলো।
ইয়াহিয়া খান প্রেসিডেন্ট হিসেবে এসেমব্লি ডেকেছিলেন। আমি বললাম, আমি যাবো। ভুট্টো বললেন, যাবেন না। ৩৫ জন সদস্য পশ্চিম পাকিস্তান থেকে এখানে এলেন। তারপর হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হলো, দোষ দেওয়া হলো বাংলার মানুষের, দোষ দেওয়া হলো আমাকে। দেশের মানুষ প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠল।
আমি বললাম, আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালন করুন। আমি বললাম, আপনারা কলকারখানা সব কিছু বন্ধ করে দিন। জনগণ সাড়া দিল। আপন ইচ্ছায় জনগণ রাস্তায় বেড়িয়ে পড়লো, সংগ্রাম চালিয়ে যাবার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলো। আমি বললাম, আমরা জামা কেনার পয়সা দিয়ে অস্ত্র পেয়েছি বহিঃশত্র“র আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষা করবার জন্য, আজ সেই অস্ত্র আমার দেশের গরীব-দুঃখী মানুষের বিরুদ্ধে- তার বুকের উপর হচ্ছে গুলি। আমরা পাকিস্তানের সংখ্যাগুরু- আমরা বাঙালীরা যখনই ক্ষমতায় যাবার চেষ্টা করেছি তখনই তারা আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে।
আমি বলেছিলাম, জেনারেল ইয়াহিয়া খান সাহেব, আপনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, দেখে যান কিভাবে আমার গরীবের উপর, আমার বাংলার মানুষের বুকের উপর গুলি করা হয়েছে। কিভাবে আমার মায়ের কোল খালি করা হয়েছে, কি করে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, আপনি আসুন, আপনি দেখুন। তিনি বললেন, আমি ১০ তারিখে রাউন্ড টেবিল কনফারেন্স ডাকবো।
আমি বলেছি কিসের এসেম্বলি বসবে, কার সঙ্গে কথা বলবো? আপনার আমার মানুষের বুকের রক্ত নিয়েছেন, তাদের সঙ্গে কথা বলবো? পাঁচ ঘণ্টার গোপন বৈঠকে সমস্ত দোষ তারা আমাদের উপর, বাংলার মানুষের উপর দিয়েছেন। দায়ী আমরা।
২৫ তারিখ এসেম্বলি ডেকেছে। রক্তের দাগ শুকায় নাই। ১০ তারিখে বলেছি, রক্তে পাড়া দিয়ে, শহীদের উপর পাড়া দিয়ে এসেম্বলি খোলা চলবে না। সামরিক আইন মার্শাল ল’ উইথড্র করতে হবে। সমস্ত সামরিক বাহিনীর লোকদের ব্যারাকের ভিতর ঢুকতে হবে। যে ভাইদের হত্যা করা হয়েছে তাদের তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধির কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখবো আমরা এসেম্বলিতে বসতে পারবো কি পারবো না। এর পূর্বে এসেম্বলিতে আমরা বসতে পারি না।
আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না। দেশের মানুষের অধিকার চাই। আমি পরিষ্কার করে বলে দিবার চাই যে, আজ থেকে এই বাংলাদেশে কোর্ট-কাচারী, আদালত-ফৌজদারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। গরীবের যাতে কষ্ট না হয়, যাতে আমার মানুষ কষ্ট না করে সেজন্য যে সমস্ত অন্যান্য জিনিসগুলি আছে সেগুলির হরতাল কাল থেকে চলবে না। রিকশা, গরুরগাড়ি, রেল চলবে- শুধু সেক্রেটারিয়েট, সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট, জর্জকোর্ট, সেমি গভর্নমেন্ট দপ্তর, ওয়াপদা কোন কিছু চলবে না। ২৮ তারিখে কর্মচারীরা গিয়ে বেতন নিয়ে আসবেন।
এরপর যদি বেতন দেওয়া না হয়, এরপর যদি ১টি গুলি চলে, এরপর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয় – তোমাদের কাছে অনুরোধ রইল, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্র“র মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু- আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তোমরা বন্ধ করে দেবে। আমরা ভাতে মারবো, আমরা পানিতে মারবে। সৈন্যরা, তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে থাকো, তোমাদের কেউ কিছু বলবে না। কিন্তু আর তোমরা গুলি করবার চেষ্টা করো না। সাত কোটি মানুষকে দাবায়ে রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারবা না।
আর যে সমস্ত লোক শহীদ হয়েছে, আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমরা আওয়ামী লীগের থেকে যদ্দুর পারি সাহায্য করতে চেষ্টা করবো। যারা পারেন আওয়ামী লীগ অফিসে সামান্য টাকা-পয়সা পৌঁছে দেবেন। আর ৭ দিন হরতালে শ্রমিক ভাইয়েরা যোগদান করেছে, প্রত্যেক শিল্পের মালিক তাদের বেতন পৌঁছে দেবেন। সরকারি কর্মচারীদের বলি, আমি যা বলি তা মানতে হবে। যে পর্যন্ত আমার এই দেশের মুক্তি না হচ্ছে, ততদিন ওয়াপদা ট্যাক্স বন্ধ করে দেওয়া হলো- কেউ দেবে না।
শুনুন, মনে রাখুন, শত্র“ পিছনে ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্মকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান যারা আছে আমাদের ভাই, বাঙালী, অ-বাঙালী তাদের রক্ষা করার দায়িত্ব আমাদের উপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়। মনে রাখবেন, কর্মচারীরা, রেডিও যদি আমাদের কথা না শোনে তাহলে কোন বাঙালী রেডিও স্টেশনে যাবে না। যদি টেলিভিশন আমাদের নিউজ না দেয়, তাহলে টেলিভিশনে যাবেন না।
২ ঘণ্টা ব্যাংক খোলা থাকবে, যাতে মানুষ তাদের মাইনে পত্র নিতে পারে। পূর্ব বাংলা থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে এক পয়সাও চালান হতে পারবে না। টেলিফোন, টেলিগ্রাফ আমাদের এই পূর্ব বাংলায় চলবে এবং বাংলাদেশের নিউজ বাইরে পাঠানো চলবে।
এই দেশের মানুষকে খতম করার চেষ্টা চলছে- বাঙালীরা বুঝেসুঝে কাজ করবেন। প্রত্যেক গ্রামে, প্রত্যেক মহল্লায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সংগ্রাম প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলুন। এবং আমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকুন। রক্ত যখন দিয়েছি আরো রক্ত দেবো। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয় বাংলা।
আজকের এই দিনে সেই বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করছি যার চিন্তায় চেতনায় বাঙ্গালী জাতির সম্পৃক্তি ও অক্ষয় ভালোবাসা মিশ্রিত বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আজকের এই বাংলা ও বাঙ্গালী। যার জন্য জাতি পেয়েছে লাল বৃত্ত সবুজ পতাকা।

৭ইমার্চের ভাষণ যুগে-যুগে বাঙালিদের বিশ্বের বুকে আত্মমর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে চলতে এবং মা-মাতৃভভূমির তরে লড়াই-সংগ্রামে অনুপ্রেরণা যোগাবে।৭ মার্চের ভাষণ আমাদের ‘স্বাধীনতা’ শব্দের মালিকানা দেয়। শিক্ষা দেয় ‘মুক্তি’ লাভের জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার। দীক্ষা দেয় মাথা নত না করার, অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়েও দেশমাতৃকার প্রশ্নে আপোষ না করার, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার। একারণেই প্রতিটি প্রজন্ম তাদের প্রতিটি ন্যায্য দাবী আদায়ে কথা বলে ৭ মার্চের ভাষায়, স্লোগান দেয় ৭ মার্চের শক্তিতে।
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান এর ঐতিহাসিক এই ভাষন সমগ্র জাতিকে অনুপ্রাণিত করে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের প্রেরণা যুগিয়ে ছিল।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ শুধু একটি রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল না, এটি ছিল একটি জাতির মুক্তির ডাক, এই ভাষণটি দেশের মানুষের মধ্যে ইস্পাতসম ঐক্য এবং সংগ্রামের শক্তি তৈরি করেছিলো।
১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ, ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে দাঁড়িয়ে বজ্রকণ্ঠে একটি মহাকাব্য রচনা করেছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
সেই ইউনেস্কো স্বীকৃত বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ আজও বাঙালির প্রেরণা, চেতনা অবিনশ্বর এবং সাহসের জায়গা।এই ভাষণের তাৎপর্য বহন করে সকল বাধা-বিপত্তি ডিঙিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে।
৭১ এর সকল শহীদানদের, ও নির্যাতিত মা -বোনদের আত্মত্যাগকে শ্রদ্ধা জানাই। বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই বাঙালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে।দোয়া করি মহান আল্লাহ্ যেনো উনাকে জান্নাতবাসী করেন. আমিন.জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু। আমাদের প্রাণের বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।।

মোহাম্মদ মকিস মনসুর, লেখক ও সাংবাদিক



বিষয়: #  #  #  #



প্রবাসে থেকে আরও

মৌলভী বাজার এসোসিয়েশনের ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত মুসলমানের ৫টি স্তম্ভ হচ্ছে ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ্ব,যাকাত মৌলভী বাজার এসোসিয়েশনের ইফতার পার্টি অনুষ্ঠিত মুসলমানের ৫টি স্তম্ভ হচ্ছে ঈমান, নামাজ, রোজা, হজ্ব,যাকাত
গ্রেটার চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন ইউকে’র উদ্যো‌গে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত গ্রেটার চট্টগ্রাম এসোসিয়েশন ইউকে’র উদ্যো‌গে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত
বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের ইফতার মাহফিল। বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের ইফতার মাহফিল।
ব্রঙ্কসে মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট সোসাইটির ইফতার মাহফিল। ব্রঙ্কসে মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট সোসাইটির ইফতার মাহফিল।
“মাল্টিফেইথ ইফতার-পার্টি সফলভাবে সম্পন্ন” “মাল্টিফেইথ ইফতার-পার্টি সফলভাবে সম্পন্ন”
নির্বাচন পরবর্তি বাংলাদেশের সাথে ভারত সহ প্রতিবেশীদের সম্পর্ক নিয়ে লিংক ইন্ডিয়ার সেমিনার নির্বাচন পরবর্তি বাংলাদেশের সাথে ভারত সহ প্রতিবেশীদের সম্পর্ক নিয়ে লিংক ইন্ডিয়ার সেমিনার
বৃটেনের কার্ডিফের ইন্টারন্যাশনাল ম্যাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্টে  আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত বৃটেনের কার্ডিফের ইন্টারন্যাশনাল ম্যাদার ল্যাংগুয়েজ মনুমেন্টে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত
ব্রঙ্কসে ফেঞ্চুগঞ্জ অর্গানাইজেশনের ইফতার মাহফিল। ব্রঙ্কসে ফেঞ্চুগঞ্জ অর্গানাইজেশনের ইফতার মাহফিল।
সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন, ইতালী শাখা’র উদ্যোগে মা‌হে রমজানে দরিদ্রদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন, ইতালী শাখা’র উদ্যোগে মা‌হে রমজানে দরিদ্রদের খাদ্য সামগ্রী বিতরণ

আর্কাইভ

--- --- --- সিলেট শহরের সকল হবিগঞ্জী --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- --- ---

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মহান ভাষণ -বজ্রকণ্ঠ
নারায়ণগঞ্জে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, আহত ৩
যুক্তরাষ্ট্র ‘সবকিছুই ট্র্যাক করছে’ : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী
ইসরাইলে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল ইরান
সিলেটে ছিনতাইর ঘটনা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নির্দেশ দিয়েছেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য, সরকারের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর।
ইমেইল পরিবর্তনের গুরুতর নোটিশ
ছাতকে ১২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার, আটক ৩
আত্রাইয়ে স্ত্রী-সন্তানকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা
কক্সবাজারের শাহপুরীতে ৩০ হাজার ইয়াবা জব্দ করেছে কোস্টগার্ড
বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং বোট জাল ও মাছসহ ৩৭ জেলে আটক
সিলেটের জকিগঞ্জে রাস্তার ইট লুটের ঘটনায় যুব জামায়াত নেতা মাহফুজুল ইসলাম চৌধুরী আটক
ছাতকে সিআর ওয়ারেন্টসহ ৩ আসামি গ্রেপ্তার
সুনামগঞ্জের তাজপুরে পূর্ব শত্রুতার জেরে খড়ের ঘরে আগুন
গণঅভ্যুত্থানের পর নেপালে সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলছে
আজ বায়ুদূষিত শহরের তালিকার শীর্ষে ঢাকা
বিশেষ ফ্লাইটে ফিরেছেন দুবাইয়ে আটকে পড়া ১৮৯ বাংলাদেশি
সুনামগঞ্জ–৫ এলাকাকে সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত করতে চান-কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন এমপি
কোস্টগার্ডের পৃথক দুটি অভিযানে সাড়ে ৭ কোটি টাকার ইয়াবা জব্দ
মোংলায় সমুদ্রগামী জেলেদের নিরাপত্তা সরঞ্জাম দিলো উন্নয়ন সংস্থা উত্তরণ
দৌলতপুরে বদ্যৈুতকি র্শট-র্সাকটিে কৃষকরে বসতবাড়ি পুড়ে ছাই