বুধবার ● ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » সুনামগঞ্জ বঞ্চনার ক্ষোভ : “শতভাগ আসন উপহার দিয়েও শূন্য সম্মান”—মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে অন্তর্ভুক্তির আকুতি!
সুনামগঞ্জ বঞ্চনার ক্ষোভ : “শতভাগ আসন উপহার দিয়েও শূন্য সম্মান”—মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে অন্তর্ভুক্তির আকুতি!
আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক সুনামগঞ্জ ::
![]()
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভূতপূর্ব বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি—দীর্ঘ প্রায় আড়াই দশক পর আবারও রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে এসেছে। দেশজুড়ে চলছে আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও পরিবর্তনের প্রত্যাশা। কিন্তু সেই আনন্দের ভিড়ে সিলেট বিভাগে তৈরি হয়েছে প্রবল আলোড়ন, ক্ষোভ ও প্রশ্নের ঝড়। কারণ—এই নির্বাচনে দেশের সবচেয়ে বিপুল বিজয় এনে দেওয়া অঞ্চলটির প্রাপ্য মূল্যায়ন মেলেনি সদ্য ঘোষিত মন্ত্রিসভায়।
এতে সুনামগঞ্জ বঞ্চনা, মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্তির আবেদন, জনগণের ক্ষোভ, রাজনৈতিক বিশ্লেষণ, এবং কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনকে মন্ত্রী করার ন্যায় সঙ্গত দাবি—সবই শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সিলেট বিভাগের ঐতিহাসিক বিজয়—১৯টির মধ্যে ১৮টিতে বিএনপি নিবাচিত হয়েছেন। সিলেট বিভাগে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছিল, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অনন্য। ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপির প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন—এটি কেবল সফলতা নয়, বরং জনগণের অটুট বিশ্বাসের প্রতীক। নির্বাচনী বিশ্লেষকরা এই বিজয়কে ‘আঞ্চলিক পুনর্জাগরণ’ বলে অভিহিত করেছেন।
কিন্তু মন্ত্রিসভার প্রথম তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়—সিলেট বিভাগ থেকে জায়গা পেয়েছেন মাত্র দু’জন। যা জনগণের প্রত্যাশার তুলনায় নিতান্তই অপ্রতুল। এরপর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া, চায়ের দোকান, হাওরের নৌকো—সব জায়গায় একটি প্রশ্ন ঘুরে বেড়াচ্ছে—ভোটে আমরা সবচেয়ে বড় শক্তি, কিন্তু ক্ষমতায় আমরা কেন প্রায় শূন্য?”
সুনামগঞ্জ—‘শতভাগ আসন জিতেও শূন্য হাতে
ফিরছেন সুনামগঞ্জ জেলায় বিএনপি এবার পাঁচটি আসনেই বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে। হাওরবেষ্টিত এই জনপদের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবহ এলাকাটি সবসময়ই গণতান্ত্রিক শক্তির পাশে থেকেছে, থেকেছে প্রবাসী অর্থনীতির অগ্রগামী ভূমিকা। এবারের নির্বাচনে জেলার ভোটারেরা যেন উৎসব করে গণরায় দিয়েছেন বিএনপিকে।
কিন্তু মন্ত্রিসভার তালিকায় সুনামগঞ্জের নাম নেই—একজনও নয়।
এটি সুনামগঞ্জবাসীর কাছে শুধু রাজনৈতিক বঞ্চনা নয়—মানসিক আঘাতও বটে। স্থানীয় প্রবীণ রাজনীতিকদের ভাষায়—হাওরপাড়ের মানুষের ত্যাগ–প্রচেষ্টা–ভালোবাসা যদি অবমূল্যায়িত হয়, তবে তা শুধু অন্যায় নয়, রাজনৈতিক দূরদর্শিতার ঘাটতি।”
কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন—সুনামগঞ্জবাসীর প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু সুনামগঞ্জে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে যেই নামটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে, তিনি চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন। ছাতক–দোয়ারাবাজারের মানুষের কাছে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন—একজন অভিভাবক, উন্নয়নের স্থপতি এবং আস্থার প্রতীক।
কয়েক দশক ধরে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক, হাওর উন্নয়ন, সংস্কৃতি ও জনকল্যাণে নিরলস পরিশ্রম করে আসছেন। তাঁর হাত ধরে ছাতক–দোয়ারায় শতাধিক উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। তার রাজনৈতিক জীবন স্বচ্ছ, জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত।
স্থানীয় মানুষের মুখে মুখে এখন একটি কথাই—
“মিলনকে মন্ত্রী করা হলে শুধু তাঁকেই নয়—সম্মানিত হবে পুরো সুনামগঞ্জ।
অনেকেই মনে করছেন—সুনামগঞ্জের শতভাগ বিজয়কে মূল্যায়ন করতে হলে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে মিলনের নামই হওয়া উচিত প্রথম বিবেচ্য। সিলেটের ক্ষোভ—“ভোটে দরকার, ক্ষমতায় ভুলে যায়”? সিলেটে এখন যে ব্যথা চলছে তা শুধু রাজনৈতিক নয়—মানসিক অপমানের প্রতিচ্ছবি। শহর থেকে হাওর, প্রবাসীদের চায়ের টেবিল থেকে তরুণদের ফেসবুক লাইভ—সব জায়গায় একটি ট্রেন্ড শোনা যাচ্ছে—। ভোট আনতে গেলে সিলেট দরকার, মন্ত্রী বানাতে গেলে সিলেটকে অবিচার করা হয়।
আমাদের দেখা হয় শ্বশুরবাড়ির মতো—ভোটে বড় ভূমিকা, ক্ষমতায় কম গুরুত্ব। রাজনৈতিক বিষ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে অঞ্চলের কাঁধে ভর করে সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো, সেই অঞ্চলকে বঞ্চনা করা রাজনৈতিক দৃষ্টিতে আত্মঘাতী।”
প্রবাসী অর্থনীতি—যে কারণে সিলেট অবহেলার যোগ্য নয় সিলেট–সুনামগঞ্জ বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের সবচেয়ে বড় উৎস। লন্ডনসহ ইউরোপ–আমেরিকায় সিলেটিদের শক্তিশালী অবস্থান দেশের অর্থনীতিকে প্রতিদিন শক্তিশালী করছে।
প্রবাসী ব্যবসায়ী মহল বলছেন—“যে অঞ্চল দেশের অর্থনীতিতে এত অবদান রাখে, সেই অঞ্চলের সম্মান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”
জনগণের রায়ের মূল্যায়ন—ন্যায়, ভারসাম্য ও রাষ্ট্রের স্বার্থ ,গণতন্ত্রে জনগণের রায়ই সর্বোচ্চ। সিলেট–সুনামগঞ্জের ভোটাররা এই নির্বাচনে যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তা হলো—পরিবর্তন, আস্থা ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা। এখন সেই রায় সম্মান করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে—মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য নিশ্চিত করা জরুরি
সিলেট বিভাগকে গুরুত্ব দিলে জাতীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা যাবে সুনামগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব বাড়ালে জনগণের হতাশা কমবে
কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের মতো গ্রহণযোগ্য নেতাকে দায়িত্ব দিলে আস্থা বাড়বে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সুনামগঞ্জবাসীর আবেগময় মিনতি
মানুষের ভাষায়—আমরা আপনাদের শতভাগ আসন উপহার দিয়েছি, এখন শুধু চাই ন্যায্য সম্মান।
সিলেটিদের আহ্বান—“আমাদের ভোট, পরিশ্রম ও ভালোবাসাকে মূল্য দিন—অন্তত একজন যোগ্য প্রতিনিধিকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দিন।
সুনামগঞ্জবাসীর আকুতি—বিএনপির ইতিহাসে এমন বিশাল বিজয়ের পেছনে আমাদের অবদান রয়েছে। আমাদের না-জেলাকে সম্মানিত করুন।”
শেষ কথা—এখন সময় আঞ্চলিক ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার নির্বাচন শেষ। সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা প্রায় সম্পন্ন।
এখন সময়—বঞ্চনা দূর করার আঞ্চলিক ভারসাম্য নিশ্চিত করার জনগণের রায়ের যথার্থ মূল্যায়ন করার বিশ্লেষক, সাধারণ মানুষ, প্রবাসী সমাজ—সবাই একই কথা বলছেন—মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে সিলেট–সুনামগঞ্জের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো শুধু রাজনৈতিক সৌজন্য নয়—এটি জাতীয় স্বার্থ।
বিষয়: #ক্ষোভ #বঞ্চনা #সুনামগঞ্জ




মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী মর্যাদার ১০ উপদেষ্টা নিয়োগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
দৌলতপুরে তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে উজ্জ্বল হোসেন নামে এক ট্রাকচালকের গলিত মরদেহ উদ্ধার
আল্লার দর্গায় নাসির উদ্দিন বিশ্বাস বালিকা বিদ্যালয়ে বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী উৎসব
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা শুরু।
প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সেনাপ্রধানের বিদায়ী সাক্ষাৎ
তালেবানের নতুন আইনে নারীর ওপর সহিংসতার বৈধতা
জামায়াতসহ ১১ দলের বিক্ষোভ সমাবেশ আজ
