রবিবার ● ১১ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » সুনামগঞ্জে সুমি চৌধুরী হত্যা মামলায় ফেঁসে গেলেন সাংবাদিক কুলেন্দু শেখর দাস
সুনামগঞ্জে সুমি চৌধুরী হত্যা মামলায় ফেঁসে গেলেন সাংবাদিক কুলেন্দু শেখর দাস
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
![]()
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের ষোলঘর ধোপাখালি এলাকায় গৃহবধূ সুমি দাস চৌধুরী (২১) আত্মহত্যার ঘটনাটি এখন হত্যা মামলায় পরিণত হয়েছে। পুত্রবধু হত্যা মামলায় ফেঁসে গেলেন শশুর সুনামগঞ্জ জেলা মোহনা টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি কুলেন্দু শেখর দাস, তার স্ত্রী ও পুত্রসহ একই পরিবারের ৩ জন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ধোপাখালি-নবীনগর আবাসিক এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার দিন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গৃহবধূর শ্বাশুরি ভাড়টিয়া বাসার চাদের উপর থেকে শুকানো জামা কাপড় আনতে বিল্ডিং এর ছাদে যান, সেখান থেকে রুমে এসে দেখেন পুত্রবধূ সুমি চৌধুরী তার রুমের দরজা বন্ধ করে রেখেছে, তখন শাশুড়ী সুমি দাশকে ডাকতে শুরু করেন। কোন উত্তর না পেয়ে দরজা খুলে দেখেন সিলিং ফ্যানের সাথে গলায় কাপড় লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় সুমি দাশকে? চিৎকার চেচামেচি করে শাশুরী ও পাশের ঘরের লোকজন তাৎক্ষনিক তাকে কাপড় কেটে নামিয়ে হাসপাতালে বাঁচানোর জন্য নিয়ে গেলে ডাক্তার সুমি দাসকে মৃত ঘোষনা করেন। এমনটি জানা যায় সুমি দাসের শাশুড়ী ও আশপাশের মানুষের কাছ থেকে। অন্যদিকে খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান সুমি চৌধুরীর শশুর,স্বামীসহ আত্নীয় স্বজনেরা। স্বজনদের কান্নায় ভারি হয়ে উঠে হাসপাতালের চারপাশ। কেন সবাইকে কাঁদিয়ে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন সুমি ? এটাকি গৃহবধূ সুমির অভিমান ছিল? কার সাথে অভিমান করে অনার্স পড়ুয়া গৃহবধূ আত্মহত্যার পথ বেঁছে নিলেন? নাকি অন্য কিছু? এই অন্য কিছুটাই কি? এমন প্রশ্নের জন্যই সমাজে তৈরি হয় নানান প্রতিক্রিয়া। এমন ঘটনা ঘটলে কেউবা বলেন আত্মহত্যা, আবার অনেকে বলেন হত্যা? আর এসব প্রশ্নের উত্তর খোজঁতে কাজ করে প্রশাসন। গৃহবধূ সুমির এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করেও সৃষ্টি হয়েছে ঠিক তেমনটি। শশুর বাড়ির লোকদের দাবী সুমি আত্মহত্যা করেছেন? অন্য দিকে মৃত সুমির বাড়ির স্বজনদের দাবী গৃহবধূ সুমিকে হত্যা করা হয়েছে ? সুমির এই মৃত্যু আত্মহত্যা, নাকি হত্যা? শশুর, শাশুড়ী, স্বামী মিলে কেন সুমিকে হত্যা করবেন ? সুমির এই মৃত্যু এখন মোড় নিল অন্যদিকে ? ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার আগেই প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যার ধারণাকে পাল্টে দিয়ে অপমৃত্যু মামলার পরিবর্তে সুমির স্বজনদের আহাজারীর দাবীতে ৮ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার মামলা নং-৯, তারিখ- ০৮ জানুয়ারি, ২০২৬, জি আর নং-৯। মামলার বাদী হয়েছেন নিহত সুমির মা বাবলী রানী চৌধুরী (৫০) । আসামীরা হলেন মৃত সুমি দাশের স্বামী কিশাল শেখর দাস (২৪), যাকে দেখা গেছে সুমি দাশের মৃত্যুর পর হাসপাতালে সুমি সুমি করে চিৎকার করে কাদঁতে কাঁদতে দুবার হাসপাতালে অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারাতে এবং ৭ ডিসেম্বর রাতে পুলিশের ডাকে সারা দিয়ে থানায় নিজ ইচ্ছায় ছুটে যেতে। সে যদি হত্যা করতো তাহলে পালিয়ে গেলনা কেন ? মামলায় ২নং আসামী হলেন মৃত সুমি দাশের শাশুড়ী রিপা দাস তালুকদার (৫০)। যিনি বলছেন আশপাশের লোকজনদের ডেকে এনে সুমি দাসকে বাচাঁতে চেষ্টা করেছেন এবং হাসপাতালে নিয়ে আসেন তিনি। তাই শাশুড়ি কেন তার আদরের পুত্র বধূকে হত্যা করবেন? তবে মাঝে মধ্যে কিশাল দাস এবং সুমি দাস দম্পতির মধ্যে কথা-কাটাকাটি হলে শশুর শাশুরী ছেলেকেই শাসন করতেন। যেহেতু নিজেদের কোন কন্যা নেই তাই সুমিকে তারা নিজের মেয়ে হিসেবে অনেক আদর যত্ন করতেন বলেও জানান।
মামলায় ৩নং আসামী করা হয়েছে সুমি’র শশুর কুলেন্দু শেখর দাসকে। তিনি মোহনা টিভির সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি ও শহরের সিনিয়র সাংবাদিক। সারাদিন সুনামগঞ্জ পৌরবিপনী মার্কেটে তার অফিসে নিউজ নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন ঘটনার দিন। সকালে বাসা থেকে বেড়িয়ে অফিসেই ছিলেন সারাদিন। ছেলের বউ আত্মহত্যা করেছে খবর পেয়ে বাসায় না গিয়ে সরাসরি হাসপাতালে ছুটে যান এবং সেখানে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি সহকর্মী সকল সাংবাদিকদেরসহ থানা পুলিশকে নিজে ঘটনার কথা অবগত করেন। যিনি সারাদিন বাসায় ছিলেন না তাকেও হত্যা মামলার আসামী করা হয়েছে।
অন্যদিকে মৃত সুমি দাশের ভাই মিল্টন চৌধুরীর দাবী করেন,তার বোন সুমিকে হত্যা করেছে শশুর বাড়ীর লোকেরা। তিনি বলেন ১ বছরও হয়নি সুমি এবং কিশাল একজন আরেকজনকে পছন্দ করে বিয়ে হয়েছে। বিবাহের পর প্রায় সময় সুমি’র স্বামী কিশাল শেখর সুমিকে মারধর করতো? তিনি আরও বলেন গত কয়েক মাস আগে মারধরের কারনে সুমিকে তাদের নিজ বাড়িতে নিয়ে যান এবং নবীগঞ্জ হাসপাতালে চিকিৎসা করান। গত দুই মাস আগে মিল্টন চৌধুরীর নবীগঞ্জ থানার দত্ত গ্রামের বাড়িতে সুমির শশুর,শাশুড়ী সুমিকে আনতে যান। তারা বেয়াই বেয়াইনকে রাজী করিয়ে সুমিকে আবার সুনামগঞ্জ শশুর বাড়িতে নিয়ে আসেন। মিল্টন আরও বলেন দুই মাস যেতে না যেতেই ৭ ডিসেম্বর সুমির শশুর আমাদের ফোন করে জানান,সুমি আত্মহত্যা করেছে। খবর পেয়ে আমরা সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে আমার বোন সুমি দাশের মরদেহ দেখতে পাই এবং ময়না তদন্ত শেষে ৮ ডিসেম্বর সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করাই। আমার বোন সুমি দাশের মৃতদেহ আমাদের নিজ বাড়ি নবীগঞ্জের দত্ত গ্রামে এনে সুমির চিতায় না দিয়ে তার লাশ সমাধি করা হয়। আমি আমার বোনের হত্যার বিচার চাই।
এ ব্যপারে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ রতন সেখ জানান,খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। মৃত্যুর আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। মেয়ে পক্ষের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি হত্যা মামলা রুজু হয়েছে। মৃতের স্বামী অভিযুক্ত কিশালকে আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পোস্টমের্টম রিপোর্ট আসলেই মৃত সুমি দাশের মৃত্যুর রহস্য জানা যাবে। ##
বিষয়: #কুলেন্দু #গেলেন #চৌধুরী #দাস #ফেঁসে #মামলা #শেখর #সাংবাদিক #সুনামগঞ্জ #সুমি #হত্যা




নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত: প্রধান উপদেষ্টা
মোংলায় অপহরণের শিকার এক নারী উদ্ধার, অপহরণকারী আটক
রাণীনগর- আদমদীঘি সীমান্ত রেখায় জঙ্গলের পাশে ডোবা থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার
কক্সবাজারে কোস্টগার্ডের অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ১৯ ডাকাত আটক
ছাতকে নাশকতা ও বিভিন্ন মামলায় আওয়ামী লীগের ৬ নেতা গ্রেপ্তার
টেকনাফে যৌথ অভিযানে উদ্ধার করা ১৮ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস
সুন্দরবন থেকে ৪৯০ কেজি অবৈধ কাঁকড়াসহ ৫ ব্যবসায়ী আটক
কোস্টগার্ডের অভিযানে ৪১ বোতল বিদেশি মদসহ কারবারি আটক
কক্সবাজারে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৫ মানব পাচারকারী আটক, নারী ও শিশুসহ উদ্ধার ২০
