মঙ্গলবার ● ৬ জানুয়ারী ২০২৬
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ পড়তে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুবকের বিরুদ্ধে মাইকিং সর্বত্র সমালোচনা ঝড়।।
মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ পড়তে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুবকের বিরুদ্ধে মাইকিং সর্বত্র সমালোচনা ঝড়।।
আকিকুর রহমান রুমন:-
![]()
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলা সদরের আজিজুর রহমান নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে প্রকাশ্যে হাটবাজারে মাইকিংয়ের মাধ্যমে প্রচারণা ও বিচারের আল্টিমেটাম দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
৬জানুয়ারি (মঙ্গলবার)বেলা আনুমানিক আড়াইটার দিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরের ৪নং দক্ষিণ-পশ্চিম ইউনিয়নের যাত্রাপাশা মহল্লার আজিজুর রহমান নামের ওই যুবকের বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হয়।
মাইকিংয়ের মাধ্যমে জানানো হয়,আগামী ৯ জানুয়ারি(শক্রুবার) যাত্রাপাশা মোকাম হাটি মসজিদে তার বিরুদ্ধে‘বিচার’ অনুষ্ঠিত হবে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়।
বেলা ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বানিয়াচং উপজেলা সদরে অবস্থিত স্হানীয় বড়বাজার শহীদ মিনার এলাকায় প্রকাশ্যে এই মাইকিং প্রচারণার বিষয়টি নজরে আসে বাজারের ব্যবসায়ী ও আগত হাজারো ক্রেতা সহ এই প্রতিবেদকের।
এমনকি বানিয়াচং উপজেলায় এই ধরনের ঘটনার প্রচার প্রচারনা জীবনের প্রথমবারের মতো দেখছেন বলে জানিয়েছেন অনেক স্থানীয় বাসিন্দা।
ফলে বাজারসহ আশপাশের এলাকায় বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অভিযুক্ত ব্যক্তি আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে কী অভিযোগে এই ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে প্রচারণাকারী মো. মুনাফ মিয়ার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান,আপাতত এ বিষয়ে অপরাধ সম্পর্কে কিছু বলা সম্ভব নয়।
কারণ তিনি বলেন আগামী,“৯ জানুয়ারি বিচারের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এবং ওই দিন বিচারক উপস্থিত সবাইকে তার অপরাধের বিষয়টি জানাবেন।
কী অপরাধের কারণে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিলো তার বিরুদ্ধে।
তাকে এভাবেই প্রচারণা করতে বলা হয়েছে।
যার কারণে তিনি এভাবেই প্রচারনা করছেন।
এছাড়াও তিনি বলেন এই বিষয়ে সংবাদ করতে চাইলে,বিচারের দিন উপস্থিত থাকার জন্য এই প্রতিবেদককে আমন্ত্রণ ও করেন।
এমন প্রচারনার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
স্হানীয় বড়বাজারের সুনামধন্য ব্যবসা প্রতিষ্টান রান্নাঘর রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার স্বপন মিয়া নামের এক ব্যবসায়ী বলেন,“সে যত বড় অপরাধই করুক না কেন তার বিচার করবে দেশের আইন অনুযায়ী আদালত।
কারণ কেউই আমরা আইনের ঊর্ধ্বে নই।
এভাবে প্রকাশ্যে মাইকিং করে একজনের অপরাধের জন্য অভিযুক্ত ব্যক্তি সহ তার পরিবার তথা আত্মীয় স্বজনদেরকে অপমানীত করা হচ্ছে বলেও মত প্রকাশ করেন তিনি।
এমন ঘটনা মানবাধিকার লঙ্ঘন ও আইনবিরোধী কাজ বলে মনে করেন বলেও উল্লেখ করেন স্বপন মিয়া।
যেকোনো অপরাধের জন্য প্রকৃত অপরাধীর দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে বিচার হউক এমনটাই তিনি চান দেশের একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে।
এদিকে এমন ঘটনার জন্য স্থানীয় এক মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা সাব্বির আহমেদ এর সাথে যোগাযোগ করে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি জানান,
ইসলামে কোনো মুসলমানকে প্রকাশ্যে মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ আদায়ে নিষেধ করার কোন বিধান নেই।
এমনকি কোরআন হাদিসের মধ্যেও এমন কিছু উল্লেখ নেই।
তিনি এমন ঘটনা শুনে দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে তার মন্তব্য করেন।
এই বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাফিজুল ইসলাম ও অ্যাডভোকেট কুতুব উদ্দিন জুয়েল এর সাথে যোগাযোগ করে জানতে চাইলে, উনাদের উভয়ের কাছ থেকে ঐ এমন প্রকাশ্যে মাইকিংয়ের বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করে বলেন,
যেকোনো অপরাধের জন্য এমন করে প্রকাশ্যে কাউকে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া ও বিচারের আল্টিমেটাম দেওয়া স্পষ্ট ভাবে মানবাধিকার লঙ্ঘন।
কোনো ব্যক্তি যদি রাষ্ট্র বা সমাজবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকে,তবে তার বিচার দেশের প্রচলিত আইনের মাধ্যমে এবং আদালতেই হতে হবে।
এছাড়াও তারা আরও বলেন,“আমরা কেউই কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে নই।
যার কারণে যেকোনো ব্যক্তির অপরাধের বিচার করবেন আদালত।
কোন ব্যক্তি কিংবা কোন গোষ্ঠী এই ধরনের বিচার কাজ করার ক্ষমতা প্রদান করা হয় নাই আইনগত ভাবে।
এমন বিচার কাজ করা তাদের নয়।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইনসম্মত নয় বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এডভোকেট তারেক রহমান শাওন এর সাথে যোগাযোগ করে তার মতামত জানতে চাইলে তিনি জানান,
ব্যাক্তিগত কোন বিরোধ বা রাগের কারণে কাউকে কোন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান(মসজিদে) নামাজ পড়তে নিষেধ করা সংবিধান বিরোধী কাজ৷
সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এটাকে মানুষের মৌলিক অধিকার লংঘন হিসেবে বিবেচনা করা হয় বলে ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও তিনি বলেন বাংলাদেশ সংবিধান অনুচ্ছেদে ৪১ধর্মীয় স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে৷ সংবিধানের ৪১(১) বলা হয়েছে প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার রয়েছে(ক)যে কোনো ধর্ম পালন, অনুশীলন ও প্রচার করার,এবং
(খ)নিজ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা করার।
“ধর্ম পালন ও অনুশীলন”-এর মধ্যে নামাজ আদায় সরাসরি অন্তর্ভুক্ত বলে তিনি বলেন।
অপরদিকে এই ঘটনাটি নিয়ে বর্তমানে হাটবাজারে চায়ের দোকানসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
এ ব্যাপারে বানিয়াচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা বেগম সাথীর সাথে যোগাযোগ করতে তার সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
পরে সরকারি হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে এই বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে,এই রিপোর্ট লেখাকালীন সময় রাত সাড়ে ৭টার দিকেও কোন সাড়া না পাওয়ায় তাঁহার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বিষয়: #মসজিদে প্রবেশ ও নামাজ পড়তে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে যুবকের বিরুদ




নারায়ণগঞ্জে শুল্ক ফাঁকি আসা ভারতীয় শাড়িসহ এক পাচারকারী আটক
রাঙ্গুনিয়ায় নিখোঁজের একদিন পর কিশোরের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার
নবীগঞ্জে অবৈধ এলপিজি গ্যাস মজুদ করার দ্বায়ে দুই ব্যবসায়ীকে ৪০হাজার টাকা জরিমানা
হবিগঞ্জ কারাগারে হত্যা মামলার আসামীর মৃত্যু।।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৭ মাসে যানবাহন দুর্ঘটনায় ঝরল ১৩ হাজার ৪০৯ প্রাণ
বাংলাদেশকে ২.৫৭ বিলিয়ন ডলার অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি এডিবির
রিমান্ড বাতিল করে সুরভীকে জামিন দিলো আদালত
পতনের দ্বারপ্রান্তে কিউবা : ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে উঠিয়ে নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারের উদ্বেগ
